logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বিলুপ্তির পথে মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো

muktagasa,
মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি
জানতে চাই সোনার বাংলার রূপের সৌন্দর্য। জ্ঞানের পাতায় যুক্তির মালা যখন বায়না ধরে তখন ইতিহাস জানার ইচ্ছেগুলো মৌ মাঝির মতো ঘুরপাক করে। ইতিহাস আসলে ঘোলাটে একটি বিষয়, আমরা যারা ইতিহাসের পাতার বর্তমানে অবস্থান করি তারা শত বছরের পুরনো ইতিহাস সম্পর্কে প্রায়ই ঘোলা জলে যেন ডুব সাঁতার কাটি।

ইতিহাস আসলে এক পরনির্ভরশীল তথ্য নথিপত্রের ওপর বিশ্বাস করতে হয়। আস্থা রাখতে হয়। তথ্য যদি কোনো মিথ্যাকে সুন্দর করে সত্য বলে উপস্থাপন করে তখন কিছুই করার নেই। তবে জমিদার বাড়িগুলো যে ইতিহাসের সাক্ষী তা কিন্তু মেনে নিতেই হবে।

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের সূতিকাগার বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনা হচ্ছে আটআনি জমিদার বাড়ি। ময়মনসিংহ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থান ওই বাড়িটির। 

জমিদার আচার্য চৌধুরীর বংশ মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেন। এমনকি প্রকৃতির নীরবতার মাঝে এখানেই বসতি স্থাপন করেন তারা। আচার্য চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন নবাবের খুবই আস্থাভাজন। নবাবের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১১৩২ সালে তিনি সেই সময়ের আলাপসিং পরগণার বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বর্তমানে মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল তৎকালীন আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত।

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নানা কারণে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ৪ ছেলে বগুড়া থেকে আলাপসিং-এ এসে বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর এই ৪ ছেলে হচ্ছে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম। বসতি স্থাপনের আগে তারা এ পরগণার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ফিরে দেখেন এবং বর্তমান মুক্তাগাছা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মনস্থির করেন। সে সময়ে আলাপসিং পরগণায় খুব একটা জনবসতি ছিল না। চারদিকে ছিল অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্যের ৪ ছেলে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন।

শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্য চৌধুরী ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তাগাছায় জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৫০-৬০ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তাগাছার আটআনি অঞ্চলের এই জমিদার বাড়িটি গড়ে তোলা হয়। অর্থাৎ এটি প্রায় ২৮১ বছরের পুরনো। জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে আছে নাটমন্দির, দুর্গামন্দির, রাজ রাজেশ্বরী মন্দির, তোষাখানা, লোহার নির্মিত দ্বিতল হাওয়াখানাসহ বেশ কয়েকটি ভবন। নাটমন্দিরের পশ্চিমাংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চায়নের জন্য এক সময় ঘূর্ণায়মান মঞ্চ ছিল। এই অঞ্চলের দ্বিতীয় ঘূর্ণায়মান মঞ্চ ভাবা হতো সেটিকে। অন্যটি কলকাতায় অবস্থিত।

মুক্তাগাছার জমিদারির মোট ১৬টি অংশ ১৬ জন জমিদার শাসন করতেন। জমিদার বাড়ির প্রবেশ মুখে রয়েছে বিশাল আকার সিংহ দরজা এবং সেখানে রয়েছে বাড়িটির বর্ণনার বিবরণ। প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপনাশৈলীর অনন্য নিদর্শন। যা এখন সবই বিলুপ্তির পথে।

ভাবনায় যে নদীর জলরাশির নাচনতাল ছিল তা জমিদার বাড়ির প্রতিটি স্থানে বুঝা যায়। সৃজনশীলতার রঙগুলো বাড়ির প্রতিটি দেওয়ালে দৃশ্যমান। গানে সুরে পাখির ডানার শক্তির গল্পগুলো এখনো প্রচলিত, তবে জমিদার বাড়ির কর্তা ছিলেন সৌখিন এবং ক্ষমতার দম্ভ তা দৃশ্যমান চিত্রগুলো দেখলে বুঝা যায়।আটআনি জমিদার বাড়ি যদি যেতে চান তাহলে যেভাবে যাবেন,

ঢাকা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে অনেক গাড়িই ময়মনসিংহে যাতায়াত করে। ১৫০ থেকে ২২০ টাকায় যাওয়া যাবে ময়মনসিংহ শহরে। সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সেখান থেকে মুক্তাগাছা যাওয়া যাবে সিএনজি করে। ভাড়া জন প্রতি ৩০ বা ৪০ টাকা করে এবং সময় লাগবে ৩০ মিনিট।

জিএম/ এমকে

RTVPLUS