• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬

ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ের দাবিতে মানববন্ধন করায় ১৪ শিক্ষার্থীকে নোটিশ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০১ জুন ২০১৯, ১৭:৩৮ | আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ১৮:১৬
ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করায় ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই নোটিশ দেয় প্রশাসন। এতে ওই মানববন্ধনের ঘটনাকে 'সরকার ও প্রশাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড' বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কৃষকের সন্তান বলে জানা গেছে।  

whirpool
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ১৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দিগন্ত লস্কর (৩য় বর্ষ), শেখ মেহেদী হাসান (৩য় বর্ষ), নিউটন মজুমদার (স্নাতকোত্তর), ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ (৩য় বর্ষ), সিকদার মাহবুব (৩য় বর্ষ), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মোঃ নাজমুল হুদা (৩য় বর্ষ), রথীন্দ্রনাথ বাপ্পি (৩য় বর্ষ), মোঃ শিবলী সাদিক (৩য় বর্ষ), মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪র্থ বর্ষ), লোকপ্রশাসন বিভাগের মোঃ মিথুন হোসাইন (৩য় বর্ষ), সৌরভ সমাদ্দার (২য় বর্ষ), পরিসংখ্যান বিভাগের রিসালাত আহমেদ অর্ণব (২য় বর্ষ), আইন বিভাগের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি (৩য় বর্ষ), ইংরেজি বিভাগের বুলবুল আহমেদকে (স্নাতকোত্তর) এ নোটিশ প্রদান করা হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা এবং অত্যুৎসাহী হয়ে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন করার আগেই আপনাদের আন্দোলন করার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ। এ ঘটনায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তা জানানোর জন্য নোটিশে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে গত ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কৃষকের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে শুধু ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি করা হয়। এখানে কোনো সরকার বিরোধী বক্তব্যের প্রশ্নই আসে না।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, মানববন্ধনের ১৫ দিন পর গত ৩০ মে সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার দাবি করে ১৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। তিনি বলেন, আমার বাবা কৃষক। ধানের টাকা দিয়েই সংসার চলে। সন্তান হিসেবে ধানের ন্যায্য মূল্য চাওয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমার বাবার ধান ফলানোও এক ধরনের অপরাধ।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী আন্দোলন করায় তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য চাওয়া কোন বিবেচনায় সরকার বিরোধী-এমনটা জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে চাইলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। মানববন্ধনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় সরকার চালায়। অথচ সরকারের টাকায় পড়ে কেউ সরকার বিরোধী আন্দোলন করবে, উস্কানিমূলক বক্তব্য দেবে এটি আমরা প্রত্যাশা করি না। এ কারণেই ১৪ জনকে শোকজ করা হয়েছে। আমারা চাই এখানে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পড়াশোনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে।

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়