logo
  • ঢাকা রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬

রোজার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৮ মে ২০১৯, ১৭:০২
ফাইল ছবি
প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকিম (মুসাফির নয়), সুস্থদেহি হতে হবে। রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।

পাঠকদের জন্য রোজার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণনা করা হলো-

  • রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছাকৃত এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৯৯-২০০)
     
  • দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি তা থুথুর সাথে ভেতরে চলে যায়, আর রক্তের পরিমাণ থুথুর সমান বা বেশি হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া ৪/৪৩৪)
     
  • হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)  ও ইকরিমা (রহ.) বলেন, (পেটে বা মস্তিস্কে) কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।  (বুখারী শরীফ ১/২৬০)
     
  • ছোলা-দানার চেয়েও কম দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাবার খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে মাকরুহ হবে। হ্যাঁ মুখ থেকে বের করে তা খেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/২০৩)
     
  • দাঁতের ফাঁকে থেকে যাওয়া (একটি ছোলা পরিমাণ বা তার অধিক) খাবার মুখ থেকে বের না করে খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ১/২০২)
     
  • রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, মাজন বা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজা মাকরুহ। রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কোনো ব্যক্তি যদি হাঁপানি অথবা অ্যাজমার কারণে ইনহেলার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তাহলে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। তবে ওই রোজা পরে কাজা করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৩৯৫)
     
  • রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি করার সময় যদি পানি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (দুররে মুখতার : ১/১৫০)
     
  • কোনো কারণে রোজা ভেঙে গেলেও দিনের বেলায় পানাহার করা যাবে না। সারা দিন রোজাদারের মতো থাকা ওয়াজিব। (হিদায়া : ১/১৮৫)
     
  • কানে তেল বা ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। তবে গোসল করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯৬)
     
  • পায়খানার রাস্তায় ডুশ ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)
     
  • ভুলক্রমে পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। (বুখারি : ১৯৩৩)
     
  • রোজা অবস্থায় চোখে সুরমা বা শরীরে তেল, আতর ইত্যাদি ব্যবহার সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি যদি সুরমা ব্যবহারের পর থুথু কিংবা শ্লেষ্মায় রং পরিলক্ষিত হয়, তবু রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফাতহুল কাদির : ৪/৩২৭)
এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়