• ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

তালাত মাহমুদের ‘যুদ্ধ দিনের ধনু ও অন্যান্য গল্প’

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৩
এক হাতে আনন্দ আরেক হাতে বেদনা নিয়ে যাযাবর সময় হেঁটে যায়। আমরা সময়ের সন্তান চেয়ে চেয়ে দেখি, এই সময়ের বেদনাটি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের মতো অনন্য ঘটনা নিয়ে গল্প উপন্যাসের সংখ্যা অতি নগন্য। স্বাধীনতার পর এতগুলো বছর পেরিয়ে গেল অথচ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অমর আখ্যানটি লেখা হলো না আজও। হায় বেদনা!

whirpool
আবার একইসঙ্গে সময়ের সন্তান আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি, এই সময়ের আনন্দটি হচ্ছে, সংখ্যায় স্বল্প হলেও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখছেন তরুণ লেখকরা। সম্ভাবনাময় লেখক তালাত মাহমুদ তাঁদের একজন। তার লেখার প্রিয় প্রেক্ষাপট ‘মুক্তিযুদ্ধ’। 

তিনি নিরন্তর লিখে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। একজন বেদনাহত মুক্তিযোদ্ধা ধনু মিয়ার মর্মস্পর্শী গল্প উঠে আসে তার কলমে। তিনি যখন লেখেন, ‘বজরা নৌকায় কে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আয়, ধনু আয়। মায়ের গলার আওয়াজ? আধখোলা মশারির বাইরে বাম হাতটা বেরিয়ে আছে। কখন যে প্রাণ আয়ুটা চলে গেছে...’ তখন বেদনায় আর্ত হয়ে ওঠে পাঠকের চোখ। আহা জীবন!

তালাত মাহমুদের কলমে আছে এক মায়াবি জাদু। সে জাদুর স্পর্শে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে পাঠক। গল্প শেষ না করে উঠতে পারে না। এবং গল্পপাঠ শেষে পাঠকের হৃদয়ে এক ধরনের হাহাকার জন্মে—এমনও হয় মানুষের জীবন! এমনও হয়!

এমন সব জীবনই তালাত মাহমুদ তুলে আনেন তার গল্পে। তিনি জীবনকে দেখেন এক ভিন্ন দৃষ্টি দিয়ে। যে জীবন দোয়েলের নয়, ফড়িংয়ের নয় সেই জীবনই তিনি তুলে আনেন বইয়ের পৃষ্ঠায়,  অসীম কুশলতায়। তার দখলে রয়েছে সহজ-সরল অনবদ্য এক মায়াবী গদ্য। 

তিনি যখন গ্রামীণ পটভূমিতে গল্প লেখেন তখন আঞ্চলিক সংলাপগুলো ফুঁটে ওঠে আপন ঐশ্বর্য নিয়ে। এবং অতিঅবশ্যই তালাত মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য হয়ে টিকে থাকবে—তা হলফ করেই বলা যায়। একইসঙ্গে এই আশাবাদও জারি রাখা যায় যা হয় তো তালাত মাহমুদের হাত ধরেই একদিন রচিত হবে মুক্তিযুদ্ধের অমর আখ্যানটি।

গল্পগ্রন্থটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়, বর্ণ প্রকাশের ২৫৬ নং স্টলে। তালাত মাহমুদের গল্পে ভূবনে পাঠককে আমন্ত্রণ।

ওয়াই

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়