• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস, নাকি আত্মত্যাগ?

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:৩৭
আমরা যে সময়ের সাথে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মিলিয়ে ফেলি, সেসময় রোমে ভ্যালেন্টাইন বেশ জনপ্রিয় একটি নাম ছিল। আর এই সেইন্টকে নিয়ে এমন প্রায় ৫০টি ভিন্ন ভিন্ন গল্প রয়েছে। তবে বিশ্ব বিখ্যাত পত্রিকা ফোর্বসের মতে, এদের মধ্যে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে সবচাইতে পুরনো যে দুটো গল্প রয়েছে, পঞ্চম শতকে যার লেখা শুরু করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেক বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

whirpool
এই দুটি গল্পেই এমন এক ভ্যালেন্টাইনের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে তিনি জেলে বন্দী অবস্থায় শিশুর অসুখ সারিয়েছিলেন, যার ফলে ঘরে ঘরে ধর্মীয় নানা বাণী প্রচার করার সুযোগ পান তিনি। আর এই কাজগুলোর ফলাফল হিসেবে একই বছরে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। এই গল্পগুলো যে প্রশ্নটি সবার মনে জাগায় সেটি হলো, এই গল্প কি একজন সেইন্টের?

একই মানুষের গল্পই কি দুজন খানিকটা ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছিলেন সেই সময়ে? আদৌ কি এই গল্পের কোনো সত্যতা আছে? ভালোবাসা নিয়ে যাদের অনেক বেশি মিষ্টি একটা প্রেমের গল্প মাথায় ঘোরে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে নিয়ে, তাদের জন্য ব্যাপারটি হতাশাজনক। কারণ, এই গল্পের কোথাও প্রেম নেই। এখানে আছে শহিদ হওয়ার গল্প। ভালোবাসার কোনো ছোঁয়া যদি থেকেও থাকে, তাহলে সেটি দেশের জন্য ভালোবাসা।

মধ্যযুগ ও রেনেসাঁকালীন সময়ের সাহিত্য নিয়ে কাজ করা হেনরি কেলি বলেন, এই দুটো গল্পই পৌরাণিক এবং এই গল্পের সাথে প্রেমের যোগাযোগটাও আরও বেশি পৌরাণিক।

ভালোবাসা দিবসের সাথে লুপারক্যালিয়ার সম্পর্ক কী?

সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসের পেছনে খ্রিস্টানধর্মের একটা বেশ বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রাচীন ছুটির দিন লুপারক্যালিয়াকে বদলানোর জন্য এই নতুন দিবস প্রচলন করে তারা। এমনটাই মনে করা হয়। এর আগে লুপারক্যালিয়া উদযাপন করা হতো ১৫ই ফেব্রুয়ারি।

লুপারক্যালিয়াতে নারীরা নিজেদের নাম মাটির দলায় লিখে একটি পাত্রে রাখতেন। সেখান থেকে পুরুষদের যার ভাগ্যে যে দলা উঠতো, সেই নারীর সাথেই তার সম্পর্ক স্থাপিত হতো। তবে আরও অনেক কিছুর মতো লুপারক্যালিয়ার সাথে ভালোবাসা দিবসের সম্পর্ককে খন্ডন করে দেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভালোবাসা দিবস ও লুপারক্যালিয়ার মধ্যে একমাত্র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কিছু উদযাপন। একই রকমের এই উদযাপনগুলো বাদে এই দুটো রোমান উৎসবের আরো কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।

প্রাচীন লেখক প্লুটার্কের কথানুসারে, অনেক নারীই ভাবতেন যে, এই উদযাপন সন্তান জন্মদান ও অন্যান্য কাজে সাহায্য করে। তবে এই ছোটখাট যে সম্পর্কই ভ্যালেন্টাইন আর লুপারক্যালিয়ার থাকুক না কেন, এদের মধ্যে খুব বড় কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না। মানুষ এ নিয়ে অনেক গল্প বলে থাকলেও ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়েছে এমন লিখিত প্রমাণ প্রথম পাওয়া যায় চসারের লেখনীতেই।

চসারের লেখনীতে ভালোবাসা

তো, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চসার কীভাবে আমরা ভালোবাসা দিবস এখন যেভাবে পালন করি সেটাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন? ১৩৭০ কিংবা ১৩৮০’র দিকে এই কবি পার্লামেন্ট অব ফাউলস (Parliament of Fowls) নামে একটি কবিতা লেখেন। সেখানে তিনি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে কথাটির উল্লেখ করেন। ইউরোপে ঠিক এই নির্দিষ্ট সময়ে অনেক রোমান্টিক ধারণা প্রকাশিত হয়। সাধারণত, সেসময় চসার ও অন্যান্য কবি নাইট ও ধনাঢ্য পরিবারের নারীদের মধ্যকার ভালোবাসার বর্ণনা করতেন, যাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেতো না। বেদনাদায়ক ভালোবাসার পরিণতি নিয়েই রচিত হতো লেখাগুলো। তবে চতুর্দশ শতকের দিকে চসারের কবিতা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভালোবাসা দিবস নিয়ে লিখতে শুরু করেন সবাই। আর সেখানেই একটা সময় যুক্ত হতে থাকেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন।

ভালোবাসা দিবস পালনের ব্যাপারটি তখন চসার ভেবে থাকলেও, অনেকের মতে, ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার কারণে ভালোবাসা দিবস হিসেবে তখন ভাবা হয়েছিল ৩রা মে দিনটিকে। তবে সেসময় অন্যান্য স্থানে ১৪ তারিখকে আরও বেশি পরিচিত করে তোলে সবাই ভালোবাসার দিন হিসেবে। আর যা-ই হোক, ঠান্ডার মধ্যে খানিকটা ভালোবাসার উষ্ণতা পাওয়ার ইচ্ছা তো সবারই হতে পারে, তাই না?

এই তো ভালোবাসার ইতিহাস! এর কোনটা সত্যি, কোনটা নয়, সেটার সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিজেকেই। মানুষকে ভালোবাসতে কোনো দিন তারিখের দরকার পড়ে না। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসুন প্রিয় মানুষকে। সেটাই সবচাইতে প্রয়োজন।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়