• ঢাকা রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
logo

সোশ্যাল মিডিয়ায় যুগলের ‘সুখি ছবি’, যা বলছে ‘পরকীয়া’ আইন

এনামুল হক এনা

  ১৯ মে ২০২৪, ২৩:৩৭
এনামুল হক এনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই যুগল পিকচার অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর নানা রঙের নানা ঢঙের ছবি আপলোড করে থাকে। এর মাধ্যমে তারা মূলত বোঝাতে চায় যে, ‘দেখো, আমরা কতটা হ্যাপি। কতটা আনন্দের লাইফ লিড করতেছি।’ তারা কি আসলেই সুখি? আনন্দে আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে যেতে হবে ‘গবেষণায়’।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা স্বামী-স্ত্রীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে জানান দিচ্ছে যে তারা খুব সুখে আছে। খুব শান্তিতে আছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা সুখে কিংবা শান্তিতে নেই। তারা মূলত নিজেদের ভেতরে বহন করা চাপা কষ্ট লুকাতে এসব করছে মাত্র। তাদের উদ্দেশ্য মানুষকে ‘দেখানো’ এই দেখো আমরা ‘হ্যাপি’।

বাস্তবতা হচ্ছে, যারা প্রকৃত সুখি পরিবার, যারা আসলেই সংসার জীবনে শান্তিতে আছে তারা কখনোই স্বামী-স্ত্রীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে জানান দেয় না। তাদের স্বামী কিংবা বউদের সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘যুগল’ ছবি পোস্টাইয়া প্রমাণ দিতে হয় না, ‘এই যে আপনারা সবাই দ্যাখেন, আমরা কত্ত সুখি! আমরা কত্ত আনন্দে আছি।’

আমুদে-আহ্লাদি সব পোচ দিয়ে ‘যুগল’ ছবি তুলে তা ইচ্ছেমতো এডিট করে ফেসবুকে পোস্টানোর সময় দেওয়া হয় বাহারি ক্যাপশনও। তাতে থাকে, জীবন তুমি, মরণ তুমি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেন তোমারই থাকি। কেউ কেউ লিখে- বেঁচে আছি যতদিন তুমি আছো ততদিন। যুগলরা ‘হাত’ ধরে ছবি তুলে ক্যাপশনে বলে, ‘এই হাত ছাড়ব না কভু’।

এখন প্রশ্ন হলো। এত এত ভালোবাসা। অনলাইনে আনন্দ-সুখ-শান্তি জানান দেয়ার পরেও কিভাবে দেশে মহামারি আকার ধারণ করলো পরকীয়া? প্রায় প্রতিদিন খবরের শিরোনাম হয় ‘পরকীয়া’ প্রেম। কোথায় ছড়ায়নি এই ভাইরাস। শহর থেকে গ্রামে- সর্বত্র এর সংক্রমণ। চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আজ পরকীয়ায় লিপ্ত। এই অবৈধ প্রেম রুখবে কে?

কথা প্রসঙ্গে চলে এলো আমার পরিচিত এক সুখি কাপলের কথা। নাম প্রকাশ না করেই বলছি। তারা ফেসবুকে খুব সুখি জানান দিতো। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তারা সুখি জীবনের ব্যাপক প্রচারণা চালাতেন। কিন্তু বউ ও জামাই দুজনই খুব অশান্তিতে ছিলো। ঝগড়া ছিলো তাদের নিয়মিত ঘটনা। তবে ফেসবুকে তারা বেজায় ‘সুখি কাপল’! এমন উদাহরণ কম নয়।

এবার আসি পরকীয়া নিয়ে দেশের আইন কী বলে। মূলত দেশের প্রচলিত আইনে ‘পরকীয়া’ সম্পর্কে জাড়ানোকে ব্যভিচার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী স্ত্রীর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার রয়েছে। তবে একইভাবে স্বামী যদি পরকীয়ায় জড়ায় তখন তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ নেই।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় স্ত্রী পরকীয়া করলে আইনগত প্রতিকার রয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের স্ত্রী’ অথবা ‘যাকে সে অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে’ বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া এরূপ যৌন সঙ্গম করে, যা নারী ধর্ষণের শামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের জন্য দোষী হবে।

এমন অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এক্ষেত্রে দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে স্ত্রী দণ্ডিত হবে না। অর্থাৎ স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে যার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছে, সেই ব্যক্তির এমন কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

তবে স্ত্রী যার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকলেও স্বামী পরকীয়ায় জড়ালে তার বিরুদ্ধে বা সে যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে নেই। পরকীয়ার ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকারে এই বৈষম্য নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ‘রিট’ বিচারাধীন আছে।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী, ঢাকা ল’ কলেজ।

মন্তব্য করুন

daraz
  • অন্যান্য এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এ এক অন্য পরীমণি
নতুন লুকে উত্তাপ ছড়ালেন রুনা খান
১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে যা বললেন শ্রীলেখা
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টান্টবাজি করে পপুলার হলে গজব নাজিল হয়