Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯

যেসব আমল করলে হজে না যেয়েও হজের সমান সাওয়াব পাওয়া যাবে

ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র কাবা শরিফ দেখতে কার না মনে চায়! হজ-উমরাহ্ করতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু হজে যেতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তা আমাদের সবার কাছে নেই।

যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা হজ-উমরাহ্ করার তাওফিক দান করেছেন, তাদের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। অনেকগুলো আমল আছে যা খুব সহজ। গুরুত্ব সহকারে তা আদায় করলে আমরা হজে না যেয়েও হজ-উমরাহ্ করার সাওয়াব পাব। আজকে আপনাদের এমন কিছু আমল সম্পর্কে জানাব।

১.

ফজরের নামাজের পর সূযোর্দয় পর্যন্ত মসজিদে বসে জিকির করতে থাকা, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়া। আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নজিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

مَنْ صَلّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجّةٍ وَعُمْرَةٍ.

যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামায আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করল, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ ও উমরাহর সওয়াব নিয়ে ফিরল।

মুজামে কাবির, তবারানি, হাদিস ৭৭৪১

২.

ফরজ নামাযের জন্য মসজিদের উদ্দেশে বের হওয়া। আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لَا يَنْصِبُهُ إِلَّا إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ.

যে ব্যক্তি ওজু করে ফরজ নামাযের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে বের হয় সে হজ আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু পূর্বাহ্নের নামাজ (চাশতের নামায) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে মসজিদে যায়, সে ওমরা আদায়কারীর মতো সওয়াব লাভ করে।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩০৪

৩.

দ্বীন শেখা বা শেখানোর লক্ষ্যে মসজিদে গমন করা। আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, নবি কারিম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُرِيدُ إِلَّا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يعلمهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامّا حجّتُهُ

যে ব্যক্তি মসজিদে গেল কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে।

মুজামে কাবির, তবারানী, হাদীস ৭৪৭৩

৪.

তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে পিতা-মাতার খেদমত করা। আনাস (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে বলল, আমার জিহাদ করতে খুব আগ্রহ, কিন্তু সামর্থ্য নেই। নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মা-বাবা দুজনের কেউ জীবিত আছেন কি? বলল, আমার মা জীবিত আছেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন

فَأَبْلِ اللهَ فِي بِرِّهَا، فَإنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَأَنْتَ حَاجّ وَمُعْتَمِرٌ وَمُجَاهِدٌ، إِذَا رَضِيَتْ عَنْكَ أُمُّكَ، فَاتّقِ اللهَ وَبِرّهَا

তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন কর। এটা যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, উমরাহ ও জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো।

মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস ২৭৬০; মুজামে আওসাত, তবরানি, হাদিস ২৯১৫

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উপরোক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: ইমাম ও খতিব আল মদিনা জামে মসজিদ, খোলামোড়া, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS