DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

রোজার শিক্ষা

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ১৭ জুন ২০১৭, ১২:১৮ | আপডেট : ১৭ জুন ২০১৭, ১২:২৫
ইসলাম মানব জাতির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রদত্ত চিরন্তন, শাশ্বত কল্যাণময় পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইসলামের প্রধান পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে  রোজা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইসলামের পরিভাষায়  রোজার অর্থ সুবেহ্ ছাদেকের (আলো ফুটে ওঠবার) সময় থেকে রোজার নিয়ত করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব রকমের খাবার ও স্ত্রীর সঙ্গে কমনা বাসনা থেকে বিরত থাকাই রোজা।

রোজার তিনটি তাৎপর্য :

১. তাকওয়া বা খোদাভীতি ২. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও পবিত্রতা  ৩. আল্লাহ তায়ালার শোকর ও কৃতজ্ঞতা আদায়।

নবী রাসূলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন হযরত মোহাম্মদ (স.) এবং নারীকূলের শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ফাতেহাতুজ জহুরা (আ.)। আর যুবকদের শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ইমাম হাছান ও হোসাইন (আ.)।  সপ্তাহের শ্রেষ্ঠদিন হচ্ছে ইয়াওমূল জুম্য়া, আসমানি কিতাব সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে  আল্ কোরআন, আর গোটা বছরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হচ্ছে রমজানুল মোবারক।

রোজার দ্বারা আমরা কী শিখতে পারি? রোজা আমাদের কী দেয়? রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কাছে কী চান এসব বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলাদা আলোচনার মাধ্যমে রোজা সম্পর্কে আমরা সুষ্পষ্ট ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবো।

রমজানের শিক্ষা:

১. ইচ্ছার দৃঢ়তা :  একজন মানুষের যখন খাদ্যের কোন অভাব থাকে না এবং পেটে ক্ষুধা আছে যখন খুশি সে পানাহার করতে পারেন, এই ধরণের সুবিধা ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সে ইচ্ছাকে নিজেই নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এ ছাড়া যৌবনকালে যৌণ বাসনা ও কামনা প্রবল থাকে এবং বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী একই গৃহে অবস্থান করে এবং যেকোন মুহুর্তে ইচ্ছা করলেই যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে, এমতাবস্থায় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই থেকে নিজকে সংযত রাখেন।

২. তাকওয়া বা খোদাভীতি :  রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে যেকয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে তাকওয়া একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।

৩. সংযম : মানুষের মধ্যে যেরূপ ফেরেস্তারগুণ থাকে তেমনি পাশবিক শক্তিও থাকে।  এই শক্তি অহরহ থাকলে স্বেচ্ছাচারিতার পথে পরিচালিত করে। এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মানব সমাজে কোন্দল ও অনাচারের সৃষ্টি হয়। যার পরিণতি হচ্ছে অশান্তি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের স্বীয় প্রবৃত্তিকে সংযমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। রোজা মানুষকে এই সংযম শিক্ষাই দেয়।

৪. অন্তঃকরণকে ধৈর্য্য অবলম্বনের শিক্ষা দেয়: প্রকৃতিগতভাবে মানুষের অন্তর বা চিন্তা থাকে চঞ্চল। সেসব সময় কোন জিনিস পাবার জন্য অস্থির থাকে, যদি কোন বস্তু তার আওতার মধ্যে থাকে তা পাওয়ার জন্য অন্তর সব সময় ব্যকুল থাকে। রোজার মাধ্যমে যারা ধৈর্য্য ধারণ করবে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন-  অনেক লোভের মুখে ধৈর্য্য ধারণকারীদের জন্য রহমত ও দয়া বর্ষণ হয়।

রাসুল (স:) বলেছেন- রোজা সবরের অর্ধেক এবং (সবর ধৈর্য্য) ইমানের

অর্ধেক”। রমযান ধৈর্য্য অবলম্বনের মাস এবং ধৈর্য্যধারণ হচ্ছে বেহেস্ত।

৫. গরিব-দুঃখী, নিঃস্ব, ক্ষুদার্থ ও রোগাক্রান্ত মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুভব করতে বোঝায়।

 ৬. সাম্যের শিক্ষা: পবিত্র রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে মুসলিম সমাজ যে সাম্যের শিক্ষা পায় এবং সময়বর্তিতার শিক্ষা পায়।  বিশ্বের অন্য কোন জাতির মধ্যে এই ধরণের শিক্ষার কোন দ্বিতীয় নজির নাই।

রোজা দোযখ থেকে বাঁচার উপায়, রোজা বেহেস্ত লাভের সুযোগ করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে আমাদের ইহ্কল ও পরকালের মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করুক-আমীন।

এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়