logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পুরোনো জায়গা থেকে নতুন গন্তব্যে হেঁটে গেল আস্ত পাঁচতলা ভবন (ভিডিও)

চীনের সাংহাইয়ের হুয়াংপু জেলার বাসিন্দারা এ মাসের শুরুর দিকে বাকি আর দশদিনের মতোই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একটি দৃশ্য দেখে তাদের হোঁচট খেতে হয়। ৫ তলার আস্ত একটি ভবনও হেঁটে চলছে ! 

হ্যাঁ। ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর ! ৮৫ বছরের পুরোনো একটি প্রাইমারি স্কুলকে আস্ত তুলে নতুন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

মাটির নিচ থেকে স্থাপনা তুলে আনা বিষয়ক প্রকল্পের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ল্যান উজি জানান, ভবনটি সরাতে প্রথমে শ্রমিকদের এটির চারপাশে অনেকখানি জায়গা খনন করতে হয়। এরপর মাটির নিচ থেকে তুলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঁচতলা ভবনের নিচে ২০০ টি ভারবাহী ভ্রাম্যমাণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এই ভ্রাম্যমাণ যন্ত্রগুলো রোবটিক পায়ের মতো কাজ করে। এইসব পা দুইভাগে বিভক্ত। একটি ভবনটিকে তুলে আনতে এবং অন্যগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ যন্ত্রের সঙ্গে স্থাপন করা হয় সেন্সর। 

ল্যান উজি জানান, ব্যাপারটি এমন যে ভবনটি একটি ক্রাচে ভর করে দাঁড়িয়েছে এবং হেঁটে চলছে। ১৮ দিনের প্রচেষ্টায় ভবনটি তুলে রোবটিক চাকার সাহায্যে ২০৩ ফুট দূরত্বের নতুন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাংহাই প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনটি এখন থেকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক একাডেমি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।  

হুয়াংপু জেলা প্রশাসন জানায়, সাংহাইয়ের লাগেনা প্রাইমারি স্কুলটি ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি সাংহাই মিউনিসিপ্যাল বোর্ড প্রতিষ্ঠা করে। আর এই স্কুলটি সরানো হয় সেখানে নতুন একটি বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করার জন্য। যেটির কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে। 

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের ওয়াকিং মেশিনের মাধ্যমে ভবন স্থানন্তরের ঘটনা সাংহাইতে প্রথম। 

গেলো কয়েক দশকে দেখা গেছে, চীনের দ্রুত আধূনিকায়ন আকাশচূম্বী সব ভবন গড়ে তুলেছে। তবে ধ্বংস করতে হয়েছে ঐতিহাসিক অনেক স্থাপনা। তবে একই সঙ্গে ঐতিহ্য ক্ষয়ে যাওয়ায় শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগও দেখা গেছে। কিছু কিছু প্রদেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতেও দেখা গেছে। তারা বলছে, আধূনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরোনো ভবন ধ্বংস না করে সরিয়ে ফেলাটাই সবচেয়ে উত্তম। 

আরও পড়ুন: 
৪৫ বছর ধরে সাইকেল মিস্ত্রির কাজ করেন নাজমা বেগম
১ হাজার ছক্কা পূরণের দিনে ১ রানের আক্ষেপ গেইলের
পরিত্যক্ত বাথরুমের পাশে পাওয়া গেলো নবজাতককে

চীনের সমাজতান্ত্রিক নেতা মাও সেতুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। তবে মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর আশির-এর দশকে ঐতিহাসিক মূল্যমান রক্ষায় 'হেরিটেজ প্রিজারভেন্স ল' পাস হয়। তারপরও নগরায়নের প্রভাব পড়ে দেশটির ঐতিহ্যগত স্থাপনার ওপর। স্থানীয় প্রশাসন রাজস্ব আয়ের জন্য ডেভেলপার সংস্থাগুলোর কাছে ভূমি বিক্রি করে, সংস্থাগুলো ঐতিহাসিক মূল্যমান সংরক্ষণের চেয়ে ব্যবসায়িক লাভকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। 

২০০০ সালে নানজিং এবং বেইজিং অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করার কারণে সমালোচনা আসে দেশের ভেতর থেকেই । এরপর সেখানে ঐহিত্য সংরক্ষণে নতুন নতুন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। 

সাংহাইতে স্কুল স্থানান্তর প্রকল্পের পরিচালক ল্যান উজি বলেন, স্থানান্তরই মূল সমাধান নয়। তবে সেটি ধ্বংস করার চেয়ে অবশ্যই উত্তম। তবে এ কাজে নিয়োজিত ডেভলপার ও কোম্পানিগুলোকে সঠিক নিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। 

এমএস/এম  

RTVPLUS