logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ভোজনরসিকদের পছন্দের ফাহা’স কিচেন

উদ্যোক্তা, ফাহা হোসাইন, রেস্টুরেন্ট, ‘ফাহা’স কিচেন’
‘ফাহা’স কিচেনের ভেতরের চিত্র।

উদ্যোক্তা ফাহা হোসাইনের রেস্টুরেন্ট ফাহাস কিচেন। চট্টগ্রামের একটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট এটি। একই সঙ্গে ভোজনরসিক মানুষদেরও পছন্দের একটি জায়গা। অনন্য স্বাদ ও খাবারের বৈচিত্র্যের কারণে বিখ্যাত এই রেস্টুরেন্ট। তবে এই কিচেনের আজকের সফলতার পেছনে আছে অনেক গল্প। 

এক সময় একটি ফেসবুক পেজ খুলে তাতে নিজের রান্নার ছবিগুলো দিয়ে পোস্ট করতেন ফাহা হোসাইন। পকেটের টাকায় ক্যামেরা কিনে ফুড ফটোগ্রাফির নানা খুঁটিনাটিতে দিন কাটছিল ফাহার। পড়াশুনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে হলেও ক্রিয়েটিভ কিছু করার পোকা মাথায় সেই ছোটবেলা থেকেই ছিল। ফুড ফটোগ্রাফি করতে করতে এক সময় চিন্তা আসে রেস্টুরেন্ট করার। দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর স্বাদ মানুষের মাঝ পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেন তিনি। 

এ বিষয়ে ফাহা হোসাইন বলেন, শুরুটা আমি এবং আমার স্বামী দেলোয়ার হোসাইনের হাত ধরে। অনেক চড়াই উৎরাইয়ের পর আজকের এই অবস্থান। এর পেছনে ছুটতে গিয়ে শিখেছি নানান দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো কিভাবে অন্য দেশের খাবারকে প্রভাবিত করে। এই কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দেশে থাই খাবারের জনপ্রিয়তা এবং তার সাথে ভারতীয় বিরিয়ানির নান্দনিকতা, আমাদের দেশের খাবারগুলো কেমন যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে এসবের ভীড়ে, মনে হলো বাঙালি খাবার দিয়েই কাজগুলো শুরু করা যাক, যেই বলা সেই কাজ।

রেস্টুরেন্টের প্ল্যানিং চলাকালেই সাফার মনে অদক্ষ মেয়েদের নিয়ে কাজ করার প্রবল ইচ্ছে কাজ করছিল। তাই বিশেষ করে যারা পড়াশোনায় আছে বা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় এমন মেয়েদের নিয়েই এর যাত্রা শুরু। এখন প্রতিষ্ঠানে কলেজ পড়ুয়া ৫ জন মেয়ে শেফ আছে যারা সবাই পড়াশুনায় যেমন ভালো তেমনি কাজেও।

ফাহাস কিচেনের বিশেষত্বগুলো পুরো শহরে নজর কেড়েছে ইতোমধ্যেই। প্রথমত পরিবেশন। এদের পরিবেশনের ধরন অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি আলাদা। এদের প্রাইওরিটি লিস্টে আছে মোমো। বাংলাদেশে ফাহাস কিচেনই প্রথমবারের মতো ৪১ রকমের মোমো বিক্রি করছে একই ছাদের নিচে। এই মোমোগুলো পরিবেশন করা হয় অথেনটিক থাই উপায়ে বাঁশের স্টিমারে। এগুলো থাইল্যান্ড থেকে আনাতে সময় লেগেছে ৪ মাস, এর বাইরে কফি এবং অন্যান্য খাবার পরিবেশনের জন্য নানা জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে পাত্রগুলো। এছাড়াও দেশি খাবার পরিবেশনের জন্য দেশের আনাচ-কানাচে থেকে বাঁশ, বেতের ঝুড়ি সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের গ্রাহকদের মধ্যে বিদেশির সংখ্যাই বেশি। বাণিজ্যিক এলাকার রেস্টুরেন্ট হওয়াতে শ্রীলংকান, মালয়েশিয়ান এবং ভারতীয়রাই প্রতিদিনকার গ্রাহক। মোমো ছাড়াও ভিন্নধর্মী সব বিরিয়ানি, পাস্তা, স্পেগেটি এবং ৫০টির ও বেশি ড্রিংকস নিয়ে এদের মেনু সাজানো, যার প্রতিটি রেসিপি তাদের নিজস্ব। খাবারের দাম নিয়েও গ্রাহকরা সন্তুষ্ট।

ফাহা হোসাইন বলেন, আমাদের প্রাপ্তিগুলো গ্রাহকদের সন্তুষ্টিতেই। গত রোজায় আমাদের ফ্লোর ঈদের আগের দিনেও বুকড ছিল। এছাড়াও পহেলা বৈশাখে এবং নিউ ইয়ারে আমাদের সেলস ছিল রেকর্ড পরিমাণ। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বড় টার্গেট হলো সব চাইতে তাজা খাবার পরিবেশন করা, খাবারের কাচা উপকরণগুলো বাছাইয়ের ব্যাপারে আমরা খুব বেশি সচেতন, অনেক সময় নিজেরাই বাজারে গিয়ে ভালো মন্দ দেখে নিয়ে আসি, আমার কর্মীদের ট্রেনিং এর মুলেই ছিল তাজা খাবার রান্নার প্রক্রিয়া।

ফাহা তার কিচেন নিয়ে সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। নিয়েছিলেন বিভিন্ন পরামর্শ। তিনি বলেন, বাচ্চু দা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সমস্ত আপডেট নিতেন, কথা ছিল চট্টগ্রামে এসেই আমার এখানে আসবেন লোকেশন দেখে যাবেন, যদিও সেটা আর হয়নি, তিনি দুনিয়ার মায়া ছেড়ে দিলেন সেই মাসে।

ফাহাস কিচেন চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ এলাকায় আগ্রাবাদ হোটেলের পাশেই অত্যাধুনিক ৩০ তলা আজিজ কোর্টের ২য় তলায়। ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল এর যাত্রা শুরু। এই কিচেন নিয়ে ফাহার কিছু স্বপ্ন আছে। এ প্রসঙ্গে ফাহা হোসাইন বলেন, আমরা বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরের সেরা মোমো বিক্রেতা হতে চাই। আমরা চাই পুরো দেশ থেকে সবাই আমাদের খাবারের টানে ছুটে আসুক। ভবিষ্যতে একটা চায়ের টং করার ইচ্ছে আছে; যেখানে সেই গ্রাম্য এলাকার মতো লোকজন সেরা স্বাদের চা খেতে খেতে গল্প করতে পারবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের বয়স ৯ মাস। এই ৯ মাসে ১ ঘণ্টার জন্যও ছুটি নেইনি। কোনও কিছুই দমাতে পারেনি এই কাজকে। আরও বহুদূর যেতে হবে বহুদূর।

জিএ  

RTVPLUS