logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭

ত্বকে ক্রিম ব্যবহারে ক্ষতি ডেকে আনছেন নাতো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৫২ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫০
ত্বকে ক্রিম ব্যবহারে ক্ষতি ডেকে আনছেন নাতো?
সুমাইয়া আক্তার মনিরা। ফাইল ছবি।

ব্যস্ত জীবনে আর দূষণ ভরা পরিবেশে নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখা সত্যিকার অর্থেই ভীষণ মুশকিল হয়ে পড়ছে। আজকাল নিজের লুক সবসময় সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখাটা যেন জীবনেরই একটা অংশ।  নারী বা পুরুষ হোক না কেন সুন্দর মুখের কদর কিন্তু সর্বত্রই। 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘসময় রান্নাঘরে কাজ করা ইত্যাদি কারণে ত্বক হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। হয়ে যায় কালচে ও বিবর্ণ। রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের কদর তাই কমে না কখনোই। কিন্তু আসলে সত্যিই কি এসব ক্রিমে গায়ের রঙ ফর্সা হয়? মুখের রঙ হয়তো একটুখানি উজ্জ্বল হয় কিন্তু পুরো শরীরের ত্বক? 

লেজার মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডা. ঝুমু জাহানারা খান বলেছেন, আসলে কোনো ক্রিমই শরীরের ত্বককে ফর্সা করতে পারে না। কারণ ত্বকের রঙের সঙ্গে শরীরের ভেতরের অনেক উপাদান জড়িত। আমরা কখনোই শরীরের রঙকে সাদা করতে পারি না। আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক যে মেলানোসাইড সেলগুলো আছে যা রঞ্জক তৈরি করে, সেটাই আমাদের শরীরে রঙটা ধারণ করে। এটা ত্বক রক্ষায় অনেকভাবে কাজ করে। 
তিনি বলেন,  বাজারে সস্তা ক্রিমগুলোতে অনেক ভারী রাসায়নিক ও ক্ষতিকারক পদার্থ রয়েছে। এগুলো খুব তাড়াতাড়ি হয়তো ফর্সা বা সাদা ইফেক্ট দেয় কিন্তু কিছুদিন পরেই সেটা ত্বকের জন্য নানা ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে।  বেশিরভাগ ক্রিমই আসলে এরকম।

ডা. ঝুমু জাহানারা বলেন, মেডিকেল পণ্যের ওপর নানা নজরদারি আছে, আইন আছে। কিন্তু কসমেটিকস পণ্যের ক্ষেত্রে সেটা নেই। সে কারণে  অনেক আজেবাজে জিনিসও কনজ্যুমার পণ্য হিসেবে বাজারে ছাড়ছে তারা। 
তিনি বলেন, ফর্সা করার সস্তা ক্রিম তো অবশ্যই ত্বকের ক্ষতি করবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একজনের কথা শুনে আরেকজন পণ্য ব্যবহার করেন। কিন্তু একেকজনের ত্বক একেক রকম হওয়ায় কারো কারো জন্য সেটা চরম ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। আসলে উচিত হবে নিজেদের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ধরে রাখা এবং যত্ন করা। 

দেশের নামিদামি ৩৩টি প্রসাধনী পণ্য পরীক্ষা করে সবটাতে ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব পেয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশর জন্য ক্ষতিকর।  এমনকি শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয় এমন প্রসাধনীতেও বিষাক্ত উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

নামিদামি পণ্যগুলোর মধ্যেই তারা এসব উপাদান পেয়েছে, তাহলে কমদামি অন্য পণ্যের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। বাংলাদেশের ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বক ফর্সা বা উজ্জ্বল করতে গিয়ে অনেকেই উল্টো ক্ষতির মুখে পড়েন। মুখের ত্বকে দাগ তৈরি হওয়া, রোদে বা তাপের মধ্যে যেতে না পারা, চুলকানি বা লালচে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: শীতে ত্বকের যত্নে হলুদ
---------------------------------------------------------------

ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারের মনোবিজ্ঞানী ইসরাত শারমিন রহমান বলছেন, সৌন্দর্যের জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে যখন সেটি উল্টো সৌন্দর্য হানির কারণ হয়, সেটি অনেকের ওপর মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে।  তারা ত্বকের ক্ষতি ঢাকতে গিয়ে আরো বেশি ক্ষতি করে ফেলেন।

বাংলাদেশের প্রসাধনী ও রূপচর্চা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। তিনি বলেন, প্রসাধনী পণ্য বাছাইয়ে সতর্ক হতে হবে। হুট করে বা অন্যদের দেখে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত না। কারণ একজনের ত্বকের জন্য সেটি ঠিক হলেও, আরেকজনের জন্য সেটি ভালো নাও হতে পারে।

অনেক রঙ ফর্সাকারী ক্রিমেই ত্বক পাতলা হয়ে যায় বা ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। পরে দেখা যায়, তারা রোদে বের হতে পারছেন না বা অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারছেন না। সৌন্দর্যের জন্য ঝকঝকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যকর একটি ত্বকই যথেষ্ট, ফর্সা হওয়া জরুরি নয় বলে পরামর্শ দিলেন রূপ বিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান। 

ত্বকের জন্য ঘরোয়াভাবে রূপচর্চা করতে পারেন। যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় দুধ ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন এক গ্লাস উষ্ণ গরম দুধে আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে পান করুন। আর যদি না পারেন তাহলে আপনি এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ পান করলে শরীরের রঙ হয়ে উঠবে ভেতর থেকে ফর্সা। সূত্র: বিবিসি 

Shijabg

 Dr. Hedison Whitening fluid
কাজ
স্কিন টেক্সার ইম্প্রুভ করে।
স্কিসে নিউট্রেশন যোগায়।
স্কিন টোন ইম্প্রুভ করে। 
স্কিন হুয়াটনিং করে।
স্কিন অনেকটা রিফ্রেশ করে তোলে।

 

এস/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ
  • লাইফস্টাইল এর পাঠক প্রিয়