logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু ৩৩ জন, আক্রান্ত ২৬৫৪ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৮৯০ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বাংলা ভাষার পক্ষে কলকাতায় অভিনব প্রচারণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৪ | আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৩
বাংলা ভাষা
ছবি: বিবিসি বাংলা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলা ভাষার পক্ষে এক অভিনব প্রচারণা শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে বাংলা ভাষার পক্ষে ব্যানার ও হোর্ডিং লাগানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন হিন্দি-উর্দু শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ দেয়া রয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

কোনও হোর্ডিংয়ে লেখা ‘সওরভের থেকে সৌরভ ভালো’, কোনও হোর্ডিংয়ে লেখা ‘জলেবির থেকে জিলিপি ভালো’, বা ‘পরাঠার থেকে পরোটা ভালো’। কলকাতার অনেক বাংলাভাষী মানুষ নিয়মিত কথোপকথনের সময়ে যেসব হিন্দি বা উর্দু শব্দ মিশিয়ে বাংলা বলেন- সেগুলোই তুলে ধরে হোর্ডিংগুলোতে লেখা হয়েছে ‘নিজের ভাষা নিজের থাক’।

কিন্তু এসব ব্যানার কারা লাগিয়েছে, তা কোথাও উল্লেখ নেই। তবে বাংলা ভাষার ওপর কথিত হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রচার চালায়, এমন একটি সংগঠন বাংলা পক্ষ, বেশ কয়েক বছর ধরে অনেকটা এ ধরনেরই প্রচার চালিয়ে আসছে।

তবে এই হোর্ডিং তাদের লাগানো কিনা, তা নিয়ে সংগঠনটির প্রধান গর্গ চ্যাটার্জি বলেন, আমাদের চিন্তাধারাকে সমর্থন করেন, এমন কেউ লাগিয়েছেন হয়তো। তবে আমরা হোর্ডিংয়ের বিষয়বস্তুকে সমর্থন করি। এই যে বানান বদলে যাওয়া, উচ্চারণ বদলে যাওয়া, ভাষার ওপরে আগ্রাসন- এগুলো আসলে বাংলার চাকরি, বাজার, পুঁজি আর জমি- তার ওপরে হিন্দি-উর্দুর আগ্রাসন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হোর্ডিংগুলোতে।

কলকাতায় রাস্তাঘাটে নিয়মিত শোনা যায়- বহু মানুষ বাংলার মধ্যে হিন্দি-উর্দু আর ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলছেন- কেউ অজান্তে, কেউ জেনে-বুঝেই। কলকাতার বাসিন্দা সুজাতা ঘোষ বলছিলেন, বাংলার সঙ্গে হিন্দি বা উর্দু মিশিয়ে যে ভাষায় কথা বলতে দেখেন তিনি নিয়মিত, তা যথেষ্ট কানে লাগে তার।

তিনি বলেন, যখন রাস্তাঘাটে কথাগুলো কানে আসে, তার মধ্যে অনেক হিন্দি-উর্দু শব্দ দেখি অনেকে অবলীলায় বলে চলেন। যেমন ‘ডানে-বামে’ না বলে ‘ডাহিনে-বাঁয়ে’ বলেন, বা ‘কেননা’ শব্দটার বদলে হিন্দির অনুকরণে ‘কেন কি’ বা সরাসরি হিন্দিতেই ‘কিঁউ কি’ বলেন। ছোটরাও এই ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষা বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

সহেলী চক্রবর্তী বলছিলেন, শুধু ভাষার ব্যবহার নয়, বাইরের প্রভাব পড়েছে পোশাক থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস- সবকিছুতেই।

তার কথায়, বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক-আশাক, খাবার- সব কিছুতেই যেন বাইরের একটা প্রভাব চলে এসেছে খুব বেশি করে। বাইরে থেকে যেন চাপিয়ে দিচ্ছে কেউ সবকিছু। আমরা আমাদের জায়গাগুলোই হারিয়ে ফেলছি। তার জন্যই সচেতন করতেই এ ধরনের হোর্ডিং লাগানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কলকাতায় জন্ম নেয়া, বড় হওয়া আর এখন ব্যবসায়ী মানিত সিং বলছিলেন, হিন্দিভাষী বন্ধুবান্ধবের চেয়ে বাঙালি বন্ধুর সংখ্যাই তার অনেকগুণ বেশি।

সামান্য কিছু ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করলেও মূলত স্পষ্ট বাংলাতেই মানিত বললেন, এই ব্যাপারটা আমরা টিভিতে দেখি, কাগজে পড়ি, কিন্তু সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রে বলুন বা কাজের জায়গায় এই বাঙালি-অবাঙালি ডিভাইডটা কিন্তু নেই। আমার তো মনে হয় পলিটিক্যালি মোটিভেটেড হয়ে এরকম প্রোপাগান্ডা চালানো হয় যাতে আমাদের মধ্যে স্প্লিট হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার নিজের কথাই বলতে পারি, জন্মেছি এখানে, বড় হওয়া, পড়াশোনা সবই এখানে। এখন ব্যবসা করি। আমার যা বাঙালি বন্ধুবান্ধব, তার দশভাগও বোধহয় হবে না অবাঙালি বন্ধু। কথাও তো বেশি বলি বাংলাতেই।

বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির ওপর হিন্দি-উর্দুর কথিত আগ্রাসনের পেছনে রাজনীতি রয়েছেন বলে মনে করেন অনেকেই।  তেমনই একজন চারুচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: অমিত শাহকে বহনকারী হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ
---------------------------------------------------------------

তিনি বলছিলেন, হোর্ডিংগুলো আমারও চোখে পড়েছে। কিন্তু কোথাও কোনও সংগঠনের নাম নেই। একটা সংগঠন এ ধরনের প্রচার করছে ঠিকই। আর তাদের পেছনে সরাসরি সংযুক্ত না হলেও রাজ্যের শাসক দলের যে প্রশ্রয় রয়েছে, সেটা বোঝাই যায়। কারণ এরকম হোর্ডিং লাগানো হলে সেগুলো সরিয়ে ফেলার নিয়ম। সেটা করা হয়নি। এগুলোর পেছনে নিঃসন্দেহে রাজনীতি রয়েছে।

অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, আসলে বিজেপি একটা সময় মূলত হিন্দিভাষীদের ভোটই পেত। কিন্তু ৯০-এর পর থেকে সেই চিত্রটা পাল্টাতে থাকে আর বিগত নির্বাচনে যেসব জায়গায় বিজেপি জিতেছে, সেগুলো কোনোভাবেই হিন্দিভাষী প্রধান অঞ্চল নয়। এখানেই মনে হচ্ছে যে বিজেপিকে হিন্দি প্রধান অঞ্চলের দল বলে তকমা দেয়ার একটা চেষ্টা বা বাংলার ওপরে হিন্দি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে- এসব বলে বাঙালির আত্মাভিমানকে ব্যবহার করার একটা চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল।

কিছুদিন আগে বিজেপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে, হিন্দিকেই প্রধান ভারতীয় ভাষা হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার ইচ্ছা আছে তাদের। ওই ঘোষণার পরই দক্ষিণ আর পশ্চিম ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ। তারপরই কলকাতা শহরে চোখে পড়ছে এসব হোর্ডিং।

এ/পি

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২৪৬৬৭৪ ১৪১৭৫০ ৩২৬৭
বিশ্ব ১৮৭২২০৯০ ১১৯৩৬৭৬৪ ৭০৪৬৭৩
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ
  • আন্তর্জাতিক এর পাঠক প্রিয়