Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮

বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সায়মন ড্রিং আর নেই

Simon Dring, a true friend of Bangladesh, is no more
ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।। ফাইল ছবি

সেই ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং মারা গেছেন, যিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধুর ভূমিকা পালন করেছিলেন। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নিধনযজ্ঞের খবর বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন এই ব্রিটিশ গণমাধ্যমকর্মী। আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানা যায়।

গত শুক্রবার (১৬ জুলাই) রুমানিয়ার একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় সায়মন ড্রিংয়ের মৃত্যু হয় বলে তার আত্মীয় ক্রিস বার্লাস সংবাদ মাধ্যমকে জানান। রয়টার্স, টেলিগ্রাফ ও বিবিসির হয়ে সাইমন ড্রিং দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বৈদেশিক সংবাদদাতা, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি টেরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন স্টেশন একুশে টেলিভিশনের যাত্রা শুরুর সময় সাইমন ড্রিংয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, তার হাত ধরে এ দেশে টেলিভিশন সাংবাদিকতা নতুন মাত্রা পেয়েছিল।

১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানরত প্রায় ২০০ বিদেশি সাংবাদিককে আটকে ফেলে তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তাদের হোটেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয় যাতে গণহত্যার কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারে বিশ্ব গণমাধ্যম।

তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানি সামরিক আইন না মেনে তিনি হোটেলে লুকিয়ে পড়েন। শ্বাসরুদ্ধকর ৩২ ঘণ্টা সময় কাটে হোটেলের লবি, ছাদ, বার, কিচেনের মত জায়গায়।

পরে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন গণহত্যার বাস্তব চিত্র। ২৭ মার্চ কারফিউ উঠে গেলে সায়মন ড্রিং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘুরে দেখেন। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম খবর ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশ করেন এই সাংবাদিক।

কেএফ

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS