Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮

দারিদ্র্য মোচনে আফ্রিকায় চাষ হচ্ছে 'সবুজ সোনা'

দারিদ্র্য মোচনে আফ্রিকায় চাষ হচ্ছে 'সবুজ সোনা'
সংগৃহীত

লোভনীয় ফল অ্যাভোকাডোর। দিন দিন এই ফলের চাহিদা বেড়েই চলেছে। ফলে অ্যাভোকাডোরার রপ্তানি বাজার বেশ আকর্ষণীয়৷ মানুষের চাহিদা পূরণে ফলটির ফলন বাড়াচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ৷ অন্য অঞ্চলে এই ফল চাষে পরিবেশগত সমস্যা হওয়ায় আফ্রিকা ভিন্ন চাষ পদ্ধতিতে এগিয়ে চলেছে৷

বৃহত্তম অ্যাভোকাডো ফার্ম পূর্ব উগান্ডার মায়ুগ জেলার এক হাজার হেক্টর জমির মুসুবি খামারে কাজ করা সেনেজেন্ডো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'একটি অ্যাভোকাডো গাছের আয়ু প্রায় ৫০ বছর৷ উগান্ডার মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৬০ বছর৷ একটি অ্যাভোকাডো গাছ মানুষের পুরো জীবন উপকার করতে পারে৷’ অ্যাভোকাডো খামারে কাজ করে সেনেজেন্ডো তার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করছেন৷ এই ফল চাষ করে দারিদ্র্যকে দূরে রাখতে চান তিনি৷

জানা যায়, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু অ্যাভাকোডার চাহিদা বেড়েছে ৪০৬ শতাংশ৷ আফ্রিকাতেও অ্যাভোকাডো চাষ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে৷ আফ্রিকার কৃষকদের কাছে অ্যাভোকাডো এখন দারিদ্র মোচনের ফসল৷ সেখানে ফলটি পরিচিতি পাচ্ছে 'সবুজ সোনা' নামে৷ আগামী দশকে শীর্ষ রপ্তানিকারী দেশগুলোর তালিকায় উঠে আসার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নাইজেরিয়া ও উগান্ডা৷ কেনিয়া ইতোমধ্যেই শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে৷

তবে অ্যাভোকাডোর বাণিজ্যিক চাষের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে৷ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে একারণে পানির স্বল্পতা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়৷ সেখানকার শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক মেক্সিকো ও চিলির বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷ তবে এক্ষেত্রে আফ্রিকার অ্যাভাকোডা চাষীদের রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যত৷ ছোট আকারে এবং বৃষ্টির উপর নির্ভর করায় লাতিন আমেরিকার তুলনায় আফ্রিকায় অ্যাভাকোডা চাষ সুবিধাজনক এবং পরিবেশগতভাবে ক্ষতি কম হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও চাষীরা৷

বড় খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় বাজারে কফির দাম পড়ে যাওয়ায় আফ্রিকার কৃষকদের আয় কমে গিয়েছিল৷ আর তাই কৃষকদের কাছে এখন আশার আলো অ্যাভাকোডা৷

নাইরোবির ওয়ার্ল্ড এগ্রোফরেস্ট্রি সেন্টারের বিজ্ঞানী স্যামি কারসান ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অ্যাভোকাডো ফলটি আসলে স্বর্গের একটি উপহার। কৃষকরা কফি চাষের বিকল্প হিসাবে অ্যাভোকাডো চাষ করতে পারেন৷’

দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, গত বছর নাইজেরিয়ার অ্যাভোকাডো সোসাইটির (এএসএন) সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে নাইজেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলুসেগুন ওবাসানজো অ্যাভোকাডোকে নাইজেরিয়ার নতুন তেল বলে মন্তব্য করেছেন৷

অ্যাভোকাডো ফলাতে তেমন বেশি পানির প্রয়োজন হয় না৷ ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী এক কিলো অ্যাভোকাডো ফলাতে ২,০০০ বা ৫২৮ গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়৷ তাছাড়া উগান্ডা এবং নাইজেরিয়ার যেসব জায়গায় বৃষ্টি হয় সেসব অঞ্চলেই বেশিরভাগ অ্যাভোকাডো খামারগুলো গড়ে উঠেছে৷

এনএস

RTV Drama
RTVPLUS