logo
  • ঢাকা বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৬ মাঘ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

  ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:১৩
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:১৬

ভেজাল মধু বিক্রি করছে ভারতের নামী কোম্পানিগুলো

Dabur, Patanjali honey has substances of sugar syrup
সংগৃহীত
ডাবর, পতঞ্জলির মতো নামী ব্র্যান্ডসহ ভারতের অধিকাংশ কোম্পানির মধুতেই ভেজাল রয়েছে। দিল্লির পরিবেশ গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (সিএসই) বুধবার এ কথা জানিয়েছে। তারা বলছে, চাল বা অন্য কোনও দানা থেকে রাসায়নিক উপায়ে তৈরি মিষ্টি রস থেকে মধু বানানো হচ্ছে। খবর আনন্দবাজার ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

মূলত চীন থেকে সেই রস সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ নামে ভারতে আমদানি হয়। তবে ভারতের উত্তরাখণ্ডেও সেই রস বা সিরাপ তৈরির কারখানা চালু হয়েছে বলে জানান সিএসই’র ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারায়ণ। ২০১০ সালেই সিএসই’র তদন্তে মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল।

সুনীতা বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে প্রচুর মানুষ মধু খাচ্ছেন। এই ভেজাল মধু আসলে তাদের ক্ষতি করবে। আবার মৌমাছিপালকেরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বস্তুত এই জাতীয় ভুট্টার (কর্ন) সিরাপ খাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্থূলতা বাড়ছে।

এত বড় আকারে ভেজাল মধুর কারবার চললেও কেন্দ্রীয় সরকার কেন তা জানে না সেই প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গেই সিএসই বলছে, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড সেফটি অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ মধুর ব্যাপারে নির্দেশিকা বদলেছে।

সেখানে আখের থেকে তৈরি চিনি মেশানো হয়েছে কিনা, তা ধরার ব্যবস্থা থাকলেও ‘ট্রেস মেকার ফর রাইস সিরাপ’ (টিএমআর) এবং ‘নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজ়োন্যান্স’ (এনএমআর)-এর মতো উন্নত পরীক্ষা বাদ দেয়া হয়।

সুনীতা বলেন, ভারতে পরীক্ষায় উতড়ে গেলেও জার্মান একটি ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষাতেই ফেল করেছে দেশটির ভেষজপণ্য প্রস্তুতকারী নামী সংস্থাগুলোর অনেকে। ভারতে পরীক্ষায় উতড়ে যাওয়া পণ্যগুলোর মান নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

চীন থেকে ওই মিষ্টি সিরাপের নমুনা আনিয়ে তা খাঁটি মধুর সঙ্গে বিভিন্ন হারে মিশিয়ে ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছিল সিএসই। যে নমুনায় ৫০ শতাংশ সিরাপের ভেজাল রয়েছে তাও পরীক্ষায় উতড়ে গেছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে কয়েকটি ছোট মাপের কোম্পানির মধুও পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেগুলোতে শুধু চিনির রস মিলেছে।

সুনীতা জানান, চীনা পণ্য বিক্রিকারী অনলাইন সংস্থা দেখে তারা এই রস বিক্রয়কারী কয়েকটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তারা জানায়, খুব সহজেই এই সিরাপ তারা ভারতে পৌঁছে দেবে। দেখা যায়, একটি সংস্থা হংকং থেকে রঙ রপ্তানি করছে বলে এই রস পাঠাচ্ছে। আবার আরেকটি সংস্থা সুক্রোজ বলে ভারতে সিরাপ পাঠাচ্ছে।

তবে উত্তরাখণ্ডে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি কারখানা খোলা হয়েছে। সেখান থেকেও ৬৮ রুপি কিলোগ্রাম দরে সিরাপ কেনে সিএসই। সেই সবই পরীক্ষা করানো হয়েছে।

RTV Drama
RTVPLUS