logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭

ইরানে ১০ বছরে অন্তত ছয় বিজ্ঞানী হামলা বা হত্যার শিকার

Attacks on scientists in Iran in recent years
সংগৃহীত
ইরানের বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান মোহসেন ফাখরিজাদে শুক্রবার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ২০১২ সাল থেকে ফাখরিজাদেসহ ইরানের বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। খবর আল আরাবিয়ার।

২০০৩ সালে থেমে যাওয়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান কারিগর বলে মনে করা হয় ফাখরিজাদেকে। তাই পশ্চিমা ও ইসরায়েলিদের কাছে চক্ষুশূল ছিলেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য তারা পরমাণু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

গত আট বছরে ইরানে ফাখরিজাদেসহ অন্তত ছয় পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিচে তাদের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-

মাসৌদ আলি-মোহাম্মাদি

২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি একটি রিমোট-কন্ট্রোল বোমার মাধ্যমে হত্যা করা হয় পরমাণু বিজ্ঞানী মাসৌদি আলি-মোহাম্মদিকে। কিছু বিরোধী ওয়েবসাইট জানায়, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মডারেট প্রার্থী মিরহোসেইন মুসাভিকে সমর্থন দিয়েছিলেন মাসৌদি। ওই নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসেন মাহমুদ আহমেদিনেজাদ।

পদার্থ বিজ্ঞানের এই অধ্যাপককে ইরানের কর্মকর্তারা একজন পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে বর্ণনা করলেও একজন মুখপাত্র বলেন, তিনি আণবিক শক্তি সংস্থার জন্য কাজ করতেন না। বরং তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

তবে মাসৌদি ফাখরিজাদে এবং ফেরেইদৌন আব্বাসি-দাভানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন বলে মনে করতো পশ্চিমা দেশগুলো। সন্দেহভাজন পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঘটনায় ওই দুজনের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ছিল।

মাজিদ শাহরিয়ারি

২০১০ সালের ২৯ নভেম্বর তেহরানে একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন শাহরিয়ারি। এসময় তার স্ত্রী আহত হয়। ইরানি কর্মকর্তারা এই হামলাকে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বলে দাবি করে। ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহীর বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তাদের বড় একটি পরমাণু প্রজেক্টে ভূমিকা ছিল শাহরিয়ারির। শাহরিয়ারি শহিদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কাজ করতেন।

ফেরেদৌন আব্বাসি-দাভানি

শাহরিয়ারি যেদিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, একই দিন আরেকটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে আহত হন আব্বাসি-দাভানি এবং তার স্ত্রী। সন্দেহভাজন পরমাণু অস্ত্র গবেষণায় জড়িত থাকা জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা থাকা আব্বাসি-দাভানি ইমাম হুসেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ছিলেন।

ইরানের তৎকালীন গোয়েন্দামন্ত্রী হেয়দার মোসলেহি বলেন, সিআইএ, মোসাদ এবং এমআই৬ এর মতো গোয়েন্দা সংস্থা এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এসব সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ২০১১ সালে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান করা হয় আব্বাসি-দাভানিকে। যদিও ২০১৩ সালে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে জানা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।

দারিউশ রেজাই

২০১১ সালের ২৩ জুলাইন তেহরানের পূর্বাঞ্চলে গুলি করে হত্যা করা হয় ৩৫ বছর বয়সী রেজাইকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক রেজাইয়ের পদার্থ বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি ছিল। রেজাইয়ের হত্যাকাণ্ডের তাকে পরমাণু বিজ্ঞানী বলে দাবি করে কিছু গণমাধ্যম। তবে ডেপুটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফারালি বারাতলৌ বলেছেন, তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত নন।

মোস্তফা আহমাদি-রোশান

৩২ বছর বয়সী আহমাদি-রোশান একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তেহরানে তার গাড়িতে বোমা স্থাপন করে একজন মোটরসাইকেলিস্ট। ওই বোমার বিস্ফোরণে আহমাদি-রোশান নিহত হন। এছাড়া আরেকজন যাত্রী নিহত এবং একজন পথচারী আহত হয়।

ইরান জানায়, আহমাদি-রোশান একজন পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ফ্যাসিলিটির একটি ডিপার্টমেন্টে সুপারভাইজ করতেন। ওই হামলার জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে ইরান।

RTV Drama
RTVPLUS