• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬

আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি

অনলাইন ডেস্ক
|  ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৬ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৯
বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি, গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে অমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন।

whirpool
আজ মঙ্গলবার ভোরে তিনি রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলি বাদল ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সকল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। তিনি নিয়মিত গান করেন ১৯৭৬ সাল থেকে।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, এগারো বার বাচসাস পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পান।

বুলবুলের অসংখ্য গানের মধ্যে আজকের প্রেক্ষপটে উল্লেখ করতে হয়- ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি, চোখ দুটি মাটি খেওনা না।’

আমৃত্যু তিনি সঙ্গীত রচনা, সুর ও পরিচালনা করে বাংলা সঙ্গীত জগতে যে অবদান রেখেছেন, তা কোনও দিন শোধ হবার নয়।

আজ মাটির নিচে চলে গেছেন তিনি। মাটি তার সারা দেহই খেয়ে ফেলবে, চোখও। তার রেখে যাওয়া বাংলা সঙ্গীত জগৎ মানুষ কিভাবে আগলে রাখে সেটি যেনো পরপারে থেকেও তিনি দেখতে পান সে কামনা তার ভক্তদের।

অসংখ্য গানে সুর করেছেন বুলবুল যার অধিকাংশ গানই তার নিজের রচিত। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান হলো-

সব কটা জানালা খুলে দাও না, মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে, সেই রেল লাইনের ধারে, ও আমার আট কোটি ফুল দেখ গো মালি, মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না, একতারা লাগেনা আমার দোতারাও লাগে না, আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার বাবার মুখে, আমি তোমারি প্রেমও ভিখারি, ও আমার মন কান্দে, আইলো দারুণ ফাগুনরে, আমার একদিকে পৃথিবী একদিকে ভালোবাসা, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, আমার গরুর গাড়িতে বৌ সাজিয়ে, পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে যেন পেয়েছি   , তোমায় দেখলে মনে হয়, ঐ চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ, কোন ডালে পাখিরে তুই বাঁধবি আবার বাসা, একাত্তুরের মা জননী কোথায় তোমার মুক্তিসেনার দল, বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় এখানে সভ্যতারই ফুল ফোটানো হয়,পৃথিবীতো দু দিনেরই বাসা, দু দিনেই ভাঙে খেলাঘর, আমার দুই চোখে দুই নদী।

আরো পড়ুন:

জেএইচ

   

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়