Mir cement
logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮

বোনের সাদা শাড়িতে সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ঋত্বিক ঘটক

বোনের সাদা শাড়িতে সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ঋত্বিক ঘটক
ঋত্বিক ঘটক

ঋত্বিক কুমার ঘটক। তার ডাক নাম ভবা। জন্ম ঢাকায়। ঋত্বিক ঘটককে কেউ ভুলে যাবে, এজন্য তিনি জন্ম নেননি। কেউ ভুলে যেতে চাইলেও ইতিহাস তাকে স্মরণ করাবে। তার অসাধারণ প্রতিভার জন্য, স্রষ্টাসুলভ আচরণের জন্যে তিনি অমর হয়ে আছেন। এটা তাঁর প্রতি বাংলার স্বজনপ্রীতি নয়, স্বজনপ্রীতি চলে প্রতিভাহীনদের সাথে। ঋত্বিক ঘটক সবার কাছে প্রিয় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভা, শ্রেণি-বৈষম্যহীন মানসিকতা আর পাগলাটে জীবন যাপনের জন্যে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগ ঋত্বিকের মনে গভীর দাগ কেটেছিলো। তার লেখনীতে সেসব যেভাবে উঠে এসেছে, তেমনি তার নির্মিত চলচ্চিত্র দেখেও এমনটা খুব সহজে বোঝা যায়। দেশভাগ মূলত তার নিজেকে মাতৃভূমির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করেছিলো। পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে নিজের দেশে চলাচল করা যে কতোটা অসম্মান আর লজ্জার, এই বোধ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত পশ্চিম বাংলা থেকে বাংলাদেশে আসেননি ঋত্বিক ঘটক।

১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন ঠিকই, কিন্তু নিজ চোখে দেখতে পান মায়ের উদর হতে এক সাথে পৃথিবীতে আসা জমজ বোন প্রতীতি দেবীর বিধ্বস্ত সংসার। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পুত্রবধু ছিলেন প্রতীতি। ৭১ সালে বুদ্ধিজীবী ধীরেন্দ্রনাথকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদারেরা। চোখের সামনে অগ্নিদগ্ধ ঘরবাড়ি আর বিধ্বস্ত নিজের বোনকে দেখে সেদিন আঁতকে উঠেছিল ঋত্বিক ঘটকের আত্মা! কিন্তু পাগলাটে ভাইয়ের বোনও যে কিঞ্চিৎ পাগলাটেই হবে তা আর বলতে!

এমন পরিবেশে ভবি তার ক্ষ্যাপাটে ভাই ভবার হাতে এনে দেন প্রায় অর্ধদগ্ধ অদ্বৈত মল্ল বর্মণের উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। যা হাতে পেয়েই বুঁদ হয়ে পড়তে থাকেন ঘটক। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বোনকে উদ্দেশ্য করে খাতা-কলম আনতে বলেন ঋত্বিক। কিন্তু এই ভস্মীভূত ঘরে কলম পাওয়া গেলেও খাতা খুঁজে পাননি বোন ভবি। তাই নিজের একটি সাদা ধবধবে শাড়ি এনে দেন ভাইকে। আর পাগলাটে ভবা সারা রাত ধরে বোনের সাদা শাড়িতে লিখে চলেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এর চিত্রনাট্য…!

উল্লেখ্য, ১৯২৫ এর ৪ নভেম্বর জন্ম নেয়া এই পাগলাটে সিনেমার কবির প্রয়াণ হয়েছিলো ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। প্রয়াণ দিনে সিনেমার ক্ষ্যাপাটে এই মানুষটির জন্য শ্রদ্ধা।

এনএস

RTV Drama
RTVPLUS