logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮

আরটিভিতে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘অসমাপ্ত’

আরটিভিতে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘অসমাপ্ত’

মুনিরের বিয়ে ঠিক হয়েছে। তার বাবা চান যত দ্রুত সম্ভব বিয়েটা সেরে ফেলতে। কারণ সময়টা ভালো নয়। পাকিস্তানের শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে বাঙালি শেষপর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চারদিকে যুদ্ধের খবর। জোয়ান ছেলেরা সব মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। মুনিরের বাবার একটাই ছেলে। তিনি চান ছেলেকে যে কোনো উপায়ে আটকাতে।

উঠতি বয়সী ছেলে, বিয়ে দিলে ঠিক বউয়ের আঁচলে বাঁধা পড়ে যাবে। এই ভাবনা থেকেই পাশের গ্রামেরই সমান সমান ঘরের এক গেরস্থের মেয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ পাকা করে দিন তারিখ ঠিক করে এসেছেন তিনি। মেয়ে শিক্ষিত, কলেজে পড়ে। দু’দিন পরই বিয়ে। যোগাড়যন্ত্র শেষ পর্যায়ে।

মুনির মেয়ের ছবি দেখেছে। ভারি মিষ্টি দেখতে। এমনিতে বিয়েতে তার তেমন আপত্তি ছিল না। মেয়েটির ছবি সামনে নিয়ে বসে সে যে একটু আধটু সুখের সংসারের স্বপ্ন দেখে ফেলেনি তাও নয়। কিন্তু এই সময়টাতে বিয়ে সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। সারাদেশ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। আর সে কিনা শিক্ষিত একটা ছেলে হয়ে এসময় বিয়ে করে বউয়ের সঙ্গে খুনসুটি করবে! আবার বদরাগী বাবাকে মুখের ওপর না করার সাহসও নেই তার।

জলিল, সুরুজরা আগের রাতেই বর্ডার পেরিয়ে ইন্ডিয়া গেছে ট্রেনিং নিতে। যাবার আগে একবার দেখা করতে এসেছিল। তারাও পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মুখ ফুটে মুনিরকে যাবার কথা বলেনি একবারও। ঠিক বিয়ের আগের রাতে মুনির মনস্থির করে ফেলে, সে যুদ্ধে যাবে। বাবা-মা’র অনুমতি পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং সে ঠিক করে, একটা চিঠি লিখে ক্ষমা চেয়ে রাতের আঁধারেই পালাবে।

চিঠি লিখতে বসে মুনির। সামনে পড়ে থাকে সালেহার ছবিটা। মাঝে মাঝেই সেদিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয় সে। যেন এই মেয়েটার প্রতিও সে অন্যায় করছে । তার কাছেও মুনিরের অপরাধ জমা থাকবে। মনে মনে ঠিক করে মুনির, যুদ্ধ শেষে বীরের বেশে যেদিন ফিরবে, সালেহাকে খুঁজে বের করে আবার বিয়ের প্রস্তাব দেবে। বাবাকে লেখা চিঠিতেও তা-ই লেখে।

চিঠি লেখা শেষ করে যত্ন করে তা ভাঁজ করে পড়ার টেবিলের ওপর কাঁচের গ্লাসের নিচে রেখে দেয় মুনির। ছবিটাও সেটার সঙ্গেই রাখতে গিয়েও কী মনে করে পকেটে গুঁজে নেয়। তারপর একটা ছোট্ট ব্যাগে কয়েকটা কাপড় আর কিছু টাকা নিয়ে অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ে।

অন্ধকার আমবাগান পেরিয়ে হাঁটতে থাকে সে। নদীর ঘাটে নরেন মাঝি রোজ তার নৌকায় মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়া ছেলেদের বর্ডার পার করে, সে খবর নিয়েছে। এখন গেলেও হয়তো পাওয়া যাবে তাকে।

অবশেষে নদীর ঘাটে পৌঁছায় মুনির। আবছা আলোয় ঠাহর হয় একটা নৌকা। ছেড়ে দেবে এক্ষুনি। দৌড়ে এসে ওঠে। নরেন মাঝির নৌকাই বটে। নৌকায় উঠে সে টের পায় তাতে আরেকটি মানুষ আগে থেকে উঠে বসে আছে। আপাদমস্তক ঢাকা। আর কেউ নেই।

নরেন মাঝি মুনিরকে চিনতে পেরে নাম ধরে ডেকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় যাবে। মুনিরের নাম শুনে অন্য মানুষটি যেন একটু নড়ে চড়ে বসে। মুনির সেদিকে খেয়াল না করে নরেনকে জানায় তার উদ্দেশ্যের কথা। এইবার মুখ ঢেকে বসে থাকা মানুষটি ঘুরে বসে। মুখের কাপড়টা সরায়। লন্ঠনের মৃদু আলোয় মুনির সেই মুখ দেখে চমকে ওঠে। সালেহা!

কিছুক্ষণ দুজনের মুখেই কথা সরে না। এরপর সালেহা নিচু স্বরে বলে, সেও বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। দেশের এই দুঃসময়ে সে বিয়ে করতে রাজি নয়। বরং সে যুদ্ধ করতে চায়। আর সে কারণেই মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে বাসায় একইভাবে চিঠি লিখে রেখে এসেছে সে। মাঝনদীতে সেদিন অদ্ভুত একটা ভোর হয়। রক্তরং সূর্যটা জানিয়ে যায়, যে দেশে এমন ছেলে-মেয়ে আছে, সে দেশের স্বাধীনতা বেশি দূরে নয়।

এমনই গল্পে নির্মিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ নাটক ‘অসমাপ্ত’। সারওয়ার রেজা জিমির রচনায় এটি নির্মাণ করেছেন তুহিন হোসেন। নাটকের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার দুই তারকা অভিনয়শিল্পী আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী। আগামীকাল শুক্রবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে রাত ৮ টায় আরটিভিতে প্রচারিত হবে ‘অসমাপ্ত’।

এনএস

RTV Drama
RTVPLUS