• ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
logo
রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড 
বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে স্বর্ণের দাম। ভেঙে যাচ্ছে একের পর এক রেকর্ড। এরই ধারাবাহিকতায় মাত্র একদিনের ব্যবধানে আরেক ধাপ বাড়লো এই দাম। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্স প্রতি স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ ডলার। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে ২ হাজার ৩২৭ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে এক আউন্স স্বর্ণের দাম। এর আগে গত ৪ এপ্রিল লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ২ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠে যায়। পরে অবশ্য দাম স্থির হয়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৯২ দশমিক ৩১ ডলারে। অর্থাৎ, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়েছে মাত্র একদিনের ব্যবধানে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে মার্চ মাসে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ২০২২ সালের নভেম্বরের পর যা একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির রেকর্ড।   বিশ্ববাজারের প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৪ টাকায়। যা গত ২২ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক কারণেও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে মানুষ ঝুঁকছেন স্বর্ণের দিকে।  
বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
স্বর্ণের দামে একের পর এক রেকর্ড
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ড
চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনদেনে যাচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের মোট আমদানির বড় অংশ আসে চীন থেকে। গত অর্থ বছরে (২০২২-২৩) চীন থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ডলার। মোট আমদানির যা ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এর বিপরীতে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে ২ হাজার ৮৮ কোটি ডলারের আমদানি হয়েছিল, যা ছিল মোট আমদানির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।  এবার মুদ্রায় লেনদেন বাড়াতে এবার চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নায় অ্যাকাউন্ট খুলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনের বার্তা প্রেরণে সুইফটের আদলে গড়ে ওঠা চায়নার সিআইপিএসে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ চীনের মাধ্যমে পরিশোধ করা। গত ৫ থেকে ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। এ সময় তারা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেনের বার্তা প্রেরণের মাধ্যম দ্য ক্রসবর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে (সিআইপিএস) যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইতালি, ফ্রান্সসহ ১১টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। চীনের সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তিতে বেশি ব্যবহার হয় এইচএসবিসি। অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ লেনদেন হয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের মাধ্যমে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেরও বেশির ভাগ রক্ষিত আছে সেখানে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) বার্তা পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তবে চীনের মুদ্রা ইউয়ান অফিসিয়াল কারেন্সি হওয়ার পর সরাসরি আমদানি ও রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ ইউয়ানে এলসি নিষ্পত্তি করতে চাইলে করতে পারে। এখন দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি যেন নিষ্পত্তি করতে পারে, সে জন্য এ রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ এবিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিকল্প মুদ্রা প্রচলনের চেষ্টা ভালো উদ্যোগ। তবে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন নিষ্পত্তিতে কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অনেক দেশ মিলে করতে পারলে কার্যকর হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে বড় অর্থনীতির কয়েকটি দেশ বেশ আগে থেকে ডলারের প্রভাব কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন চালুর জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাশিয়া ও চীন। সম্প্রতি ভারতও নিজেদের মুদ্রা শক্তিশালী করতে নানা পন্থা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশকে রাশিয়া তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেনের বার্তা প্রেরণ ব্যবস্থা ফাইন্যান্সিয়াল মেসেজিং সিস্টেমে (এসপিএফসি) যুক্ত করার জন্য ২০১৬ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে চীনের মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার গত বছরের জুলাই থেকে ভারতের সঙ্গে সরাসরি রুপিতে লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। 
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান  / বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি সুবিধা
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) কাজ করতে আরও আগ্রহী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।  এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের একাধিক কোম্পানি পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। গভীর এবং অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গত রোববার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। দরপত্রে অংশ নিতে ৫৫টি আইওসির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দরপত্র প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার (১১ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জ্বালানি বিভাগ। এতে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, এবারের বিডিংয়ে বেশ কিছু নতুনত্ব আছে। এ কারণে আশা করা হচ্ছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাবে। এর একটি হলো ব্রেন্ট ক্রুডের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) সঙ্গে দাম সমন্বয় করা। আগে এটা ছিল ফার্নেস অয়েলের সঙ্গে। এতে আস্থার সংকট ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম বাড়লে প্রাপ্ত গ্যাসের দাম বাড়বে। আবার কমলে কমবে। বাড়তি সুবিধার মধ্যে আরও আছে কর মওকুফ ও হিস্যা বাড়ানোর বিষয়। অর্থাৎ, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানকে কোনও ধরনের কর দিতে হবে না। সংশোধিত মডেল পিএসসিতে (উৎপাদন বণ্টন চুক্তি) এমন সুবিধার পাশাপাশি সাগরে প্রাপ্ত গ্যাসের হিস্যার পরিমাণও আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া গ্যাস রপ্তানির সুযোগসহ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হচ্ছে আরও সুবিধা। তবে এক্ষেত্রে দেশের স্বার্থও অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, সমালোচনা যারা করেন, তাদের মুখে ছাই দিয়ে আমরা আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ইতিবাচক জায়গা দেখাতে পেরেছি।  বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রাথমিক কাজ শুরু হলো। ২৪টি ব্লকে আমরা দরপত্র ডেকেছি। সরকার চায় যাদের গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কাজে সফলতা আছে, বিশ্বের এমন বিখ্যাত কোম্পানি এই উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিক। পেট্রোবাংলা বলছে, সাগরে তেল-গ্যাস পেলে তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাদের অংশের তেল বা গ্যাস প্রথমে পেট্রোবাংলা এবং পরে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে হবে। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান কিনতে রাজি না হলে, তখন তারা তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব নুরুল আলম বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সম্পদ আহরণে উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু সমুদ্র নয়, স্থলভাগেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করতে হবে।  আর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, পেট্রোবাংলার উদ্যোগে দুটি ডেটা সেন্টার করা হবে। এখানে ৮টি প্যাকেজে ডেটা প্রস্তুত থাকবে। আগ্রহীরা এই ডেটা কিনতে পারবে। তেলের জন্য ২০ বছর এবং গ্যাসের জন্য ২৫ বছর ধরা হয়েছে চুক্তির মেয়াদ।   
চাপে আছে মার্কিন ডলার, কমছে মান 
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও টালমাটাল হতে শুরু করেছে। অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দামে পতন হয়েছে। আগামী দিনও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শনিবার (৯ মার্চ) রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, গত শুক্রবার (৮ মার্চ) ডলারের সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রয়েছে।  গেল জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সুদের হার কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করায় অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ডের ডলার বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ এবং নিউজিল্যান্ড ডলারের সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ। এদিকে জাপানি ইয়েন ডলারের বিপরীতে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে উঠেছিল। ডলার ০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ১৪৭ দশমিক ০৫ ইয়েনে ছিল, এটি ২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সবচেয়ে দুর্বলতম। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর ০ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১ দশমিক ০৯৪২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডলার চাপে পড়ায় এই সপ্তাহে ইউরো উত্তোলন বেড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, সুদের হার কমানোর জন্য যে আত্মবিশ্বাস দরকার ফেডারেল রিজার্ভ তা থেকে ‘খুব বেশি দূরে নয়’। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমালে মুদ্রা সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে। ইক্যুইটি ক্যাপিটালের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টুয়ার্ট কোল বলেন, বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, আমি মনে করি, সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমানোর অবস্থানে থেকে সরে আসবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রম বিভাগের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো শুক্রবার কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে বলেছে যে গত মাসে ২ লাখ ৭৫ হাজার চাকরি তৈরি হয়েছে। জানুয়ারির তথ্য সংশোধন করে দেখা গেছে, আগের রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ লাখ ৫৩ হাজারের পরিবর্তে ২ লাখ ২৯ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। টানা তিন মাস বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশে থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে।
বিশ্ববাজারে কমেছে খাদ্য পণ্যের দাম: জাতিসংঘ
বিশ্ববাজারে বিভিন্ন খাদ্য পণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ দাম হ্রাস পেল। শুক্রবার (৮ মার্চ) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এফএও বলছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে দাম কমেছে পাঁচ ভাগ। আর এই দাম গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় সাড়ে ২২ ভাগ কম। এতে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেল, গম, মাংস ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যের দাম নেমেছে এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মিলে বিশ্ববাজারে টানা দু-মাস ধরে বাড়ছে চিনির দাম। এফএওর হিসাব মতে, এক বছর আগের তুলনায় গত মাসে চিনি বেচাকেনা হয়েছে সাড়ে ১২ ভাগ বেশি দামে। ভোজ্যতেলের দাম কমেছে ফেব্রুয়ারিতে। বিশ্ববাজারে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যে দামে ভোজ্যতেল পাওয়া গেছে ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি হয়েছে তারচেয়ে ১১ শতাংশ কমে। সয়া, সানফ্লাওয়ার আর রাই-সরিষার মতো পণ্যের দাম পড়ে যাওয়ার সুফল পেয়েছেন ভোক্তারা। তবে গত মাসে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে কিছুটা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় ভুট্টার ভালো উৎপাদনের সঙ্গে সমুদ্রপথে স্বাভাবিক গতিতে পণ্য পরিবহনে ইউক্রেনের আশ্বাসে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে পণ্যটির দাম। আর গমের দাম কমতির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, চাহিদা কমের বিপরীতে রাশিয়ার বাড়তি রপ্তানি।
বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দরে স্বর্ণ
বিশ্ববাজারে আরেক দফা বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (৮ মার্চ) স্পট মার্কেটে বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় গিয়ে ঠেকেছে। প্রতি আউন্সের দাম স্থির হয়েছে ২১৬৮ ডলার ২৮ সেন্টে। দিনের শুরুতে যা ছিল প্রায় ২ হাজার ১৭১ ডলার।  একই দিনে ফিউচার মার্কেটে ইউএস বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। আউন্সপ্রতি দাম স্থির হয়েছে ২ হাজার ১৭৫ ডলার ৫০ সেন্টে। এর আগে, স্বর্ণের দাম কখনো এতো দেখেননি বিশ্ববাসী। সবমিলিয়ে চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এর আগে, ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর লেনদেনের এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ হাজার ১৫২ ডলারে। যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে। ব্যাংক অব আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ধাতু গবেষণার প্রধান মাইকেল উইডমার বলেছেন, স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সূত্র: সিএনবিসি
অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে রাশিয়া
বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে রাশিয়া। সেখান থেকে আরও গম আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশে ২.৭ মিলিয়ন টন গম রপ্তানি করেছিল রাশিয়া।  এছাড়া বাংলাদেশে সার রপ্তানিও বাড়িয়েছে দেশটি। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় পরিশোধিত করার পর বাংলাদেশ বর্তমানে রাশিয়ার তেল আমদানি করছে। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে জড়িত। রাশিয়ার আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। চলতি বছরের মধ্যেই প্লান্টের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জোর আশা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের প্রায় ৮৫% কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ওই স্থাপনার জন্য মস্কো ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।  রাশিয়ান বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকও আমদানি করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন রুশ কূটনীতিকরা। রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাংলাদেশসহ ব্যবসার নতুন উৎস খুঁজছে রাশিয়া। এখানে রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন আলেকজান্ডার মানটিটস্কি। তিনি আরো বলেন, রাশিয়ার কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সাথে আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্পেস টেকনোলজি, জিওলজিক্যাল সার্ভে, মেরিটাইম, রেলওয়ে এবং এয়ার ট্রান্সপোর্টেশনে যৌথ উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম সুইফট থেকে বাদ পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পেমেন্ট সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানে বিকল্প না থাকায় রাশিয়ার পক্ষে অন্যান্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে, ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাঙ্ক পেমেন্ট সিস্টেম নামক পেমেন্ট সিস্টেমে রাশিয়াকে যুক্ত করে চীন। সিআইপিএস সিস্টেমটি এখন অন্যান্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলে পরিণত হয়েছে। গত মাসে বাংলাদেশের পেমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চীনের মুদ্রা ইউয়ান। রিয়েল-টাইম গ্রস সিস্টেমভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারিংয়ে এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে, বাংলাদেশের জন্য সিআইপিএস-এর সাথে সংযুক্ত হওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন রাশিয়ান পর্যবেক্ষক এবং বাংলাদেশি বিশ্লেষকরা। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাশিয়ার অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা। রাশিয়ান একাডেমি অফ সায়েন্সের ইন্সটিটিউট অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো আলেক্সি জাখারভ জানিয়েছেন, চীনের সম্পৃক্ততা ছাড়া রাশিয়ার পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার সাথে তার আর্থিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল। এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার কৃষি বা জ্বালানি নিয়ে লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সিআইপিএস-এর মাধ্যমে চলে। চীনের আর্থিক অবকাঠামোর বর্ধিত ব্যবহার এখন রাশিয়ান অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর লাইফলাইন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আলেক্সি জাখারভ। কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিআইএস-বিসিসিআই) অনারারি উপদেষ্টা মাহবুব ইসলাম রুনু বলেন, ‘সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সাথে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চীন বা ভারত এখানে বাংলাদেশের সহযোগী হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। বাংলাদেশে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করতে মস্কোতে চীনা ও ভারতীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম
চলতি মাসের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরে বড় উত্থান ঘটেছে। ইতোমধ্যে ধাতুটির দাম গত ২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে সিএনবিসি। সিএনবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী জুনে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মার্কিন মুদ্রা ডলারের মান কমেছে। শুক্রবার (১ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম হয়েছে ২০৮৬ ডলার ২১ সেন্ট। গত বছরের ডিসেম্বরের পর যা সবচেয়ে বেশি। এটা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম নিষ্পত্তি হয়েছিল ২০৪৬ ডলার ২৯ সেন্টে। অর্থাৎ ১ দিনের ব্যবধানে আউন্সে দর ঊর্ধ্বগামী হয়েছে প্রায় ৪০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এ নিয়ে টানা ২ সপ্তাহ বেঞ্চমার্কটির দর বাড়ল। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশলের প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম।  চলমান বছরের মাঝামাঝিতে সুদের হার কমাতে পারে ফেড। এমন পরিস্থিতিতে ডলার সূচক এবং ট্রেজারি বন্ড ইল্ড নিম্নগামী হয়েছে। ফলে  আগামী ৩ থেকে ৪ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে স্বর্ণের দর।