logo
  • ঢাকা বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

১০ মিনিট আগুনে থেকেও পুড়লো না আরএফএলের ফায়ার বল: বাস্তব না উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:১২ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৬
চারপাশে যখন আগুন লাগার হিড়িক, তখন স্বভাবতই বাসা-বাড়ি, অফিস- আদালত পাড়ার মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক চাপা আতংক। নানা আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি যে যার মত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে অগ্নি নির্বাপনের।

bestelectronics
আর ঠিক এ সময়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্ট সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আরএফএল। 

প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, একটি অফিসে অগ্নি নির্বাপনের উদ্দেশ্যে কেনা ফায়ারবল পরীক্ষামূলক দেখার উদ্দেশ্যে আগুনে ছুঁড়ে ফেলার পরও তার কার্যকারিতা দেখা যায়নি। ফলে, মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি বাজারের অগ্নি নির্বাপণ পণ্যও নিরাপদ নয়?

ফেসবুক পোস্টটি অনেকেই শেয়ার দিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে থাকে, এবং এর সত্যতা জানার চেষ্টা করে। কেননা, পোস্টটি পড়লে এবং এর ছবিগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করলে মনে হতে পারে এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে আতংক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে।

পোস্টের শুরুতে বলা হয়, ‘আমরা সেই জাতি যারা সব কিছুতেই ব্যবসার ধান্ধা খুঁজি।’ ফায়ারবল বা এক্সটিংগুইশার সারা পৃথিবীব্যাপী অগ্নিনির্বাপনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার হয়। ফলে এখানে ‘ব্যবসার ধান্ধা খোঁজা’ শব্দটি সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করে। তারপরই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা হয় #RFLফায়ারবল। অথচ ‘আরএফএল ফায়ার বল’ নামে কোন ফায়ারবলই নেই। যে ফায়ারবলটির ছবি দেখানো হয়েছে তার নাম ‘এক্সপার্ট’, যা আরএফএল গ্রুপের একটি ব্র্যান্ড।

পোস্টে আরো লেখা হয়,‘কার্যকারিতা দেখার জন্যে পরীক্ষামূলকভাবে ফায়ারবলটি আগুনে ছুঁড়ে ফেলার পর ১০ মিনিট পার হলেও সেটা ফাটেনি’। কিন্তু পোস্টে দেয়া ছবিগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বলটির বেশিরভাগ অংশই আগুনে পোড়েনি। দশ মিনিট আগুনে থাকলে যে কোন প্লাস্টিক আগুনে পুড়ে যাবে।যেহেতু ফায়ারবলের কভাবের অংশ প্লাস্টিকের তৈরি, সেহেতু এটা ত্রিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যেই পুড়ে যাওয়ার কথা, অথচ কভারটি প্রায় অক্ষত আছে। এমনকি শুধু একটু অংশ পুড়িয়ে  ব্র্যান্ড এর লোগো যে অংশে তা অক্ষত দেখানো হয়েছে।

পোস্টটিতে বলা হয়, ‘আগুন থেকে বলটি হাতে নিয়ে দেখি, বলের ভিতর থাকা co2 পাউডার গুলো দেখা যাচ্ছে’। অথচ এটা প্রাথমিক জ্ঞান যে co2 হলো এক ধরনের গ্যাস। যেটা কোনও ফায়ারবলেই থাকে না। ফায়ারবলের উপাদান হল ‘এবিসি পাউডার'।এছাড়া এ পাউডার আগুনে পুড়লেই রঙ বদলে কালো হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু দেখা যাচ্ছে পোস্টদাতার আঙ্গুলে সাদা পাউডার লেগে আছে। এ বিষয়গুলো থেকে পোস্টটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

ফলে সমাজের সচেতন মানুষদের মনে এ নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে যে, কারও ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধন বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এ ধরণের অপপ্রচার কতটুকু নৈতিক? আর যারা সাধারণ মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করে আতংক সৃষ্টি করে, তাদের কি আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায় না?

সাধারণত উন্নত ও ভালো মানের ফায়ার বল এক্সটিংগুইশার আগুনে ছুঁড়ে মারলে তা ৮ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে বিস্ফোরিত হয়ে গড়ে ১০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।বিস্ফোরিত হওয়ার জন্যে আগুনের তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে হবে।

এস

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়