logo
  • ঢাকা রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

তরল দুধ কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়, দেখালো প্রাণ ডেইরী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:১১ | আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৮
আমদানি দুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দুগ্ধ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্য প্রাণ ডেইরী বড় ভুমিকা পালন করে চলেছে।

bestelectronics
দেশের উত্তরাঞ্চলে দুগ্ধ খামারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে অবস্থিত কয়েক হাজার সংগ্রহকেন্দ্রে এই দুধ জমা হয়। এরপর প্রাণের দক্ষ কর্মীরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকেন।

সংগ্রহের পর বিশেষ গাড়িতে করে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করে ঢাকার অদূরে অবস্থিত নরসিংদীর ঘোড়াশালে।

ঘোড়াশালের বাগপাড়ায় প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রাণ ডেইরীতে চলে মূল কর্মযজ্ঞ। নানা প্রক্রিয়াকরণের পর সেখানে কোনও প্রকার হাতের স্পর্শ ছাড়াই প্রস্তুত হয় প্যাকেটে মোড়ানো ইউএইচটি (আলট্রা হিট ট্রিটমেন্ট) ও পাস্তুরিত তরল দুধ।

গত রোববার সেখানে হয়ে গেলো প্রাণ ডেইরী আয়োজিত মিল্ক জার্নি। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মামনুন হাসান ইমন ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

জার্নির একটা সময়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অভিনেত্রীরা এসময় প্যাকেটজাত দুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। আয়োজক প্রাণ ডেইরী কর্তৃপক্ষ তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণ ডেইরীর হেড অব বিজনেস রাজীব ইবনে ইসলাম জানান, প্রাণ ডেইরি প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন করে। এই দুধ সংগ্রহের জন্য পাবনার চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ি এবং রংপুরে প্রাণের হাব রয়েছে। এসব হাবের অধীনে থাকা খামারিরা মূলত প্রাণকে দুধ দেন। এজন্য তাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে প্রাণ।

তিনি বলেন, আমাদের দুধে কোনও ভেজাল নেই। কারণ, প্রাণ ডেইরি সরাসরি খামারিদের কাছ থেকে দুধ কেনে। এতে করে দুটি সুবিধা পাওয়া যায়। প্রথমত, মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় দুধের খামারিরা ন্যায্য দাম পান। দ্বিতীয়ত, ভেজালমুক্ত মানসম্মত দুধ পাওয়া যায়।

দুধ উৎপাদন নিয়ে তিনি বলেন, প্রাণ ডেইরী প্রধানত দুই ধরনের দুধের ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকে। এক হচ্ছে ইউএইচটি (আলট্রা হিট ট্রিটমেন্ট) দুধ; আরেকটি পাস্তুরিত তরল দুধ। এখানে তাপমাত্রা একটা বড় ফ্যাক্টর।

‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ১৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফুটিয়ে ইউএইচটি দুধ প্রস্তুত করা হয়। এ ধরনের দুধে সব ধরনের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে ভালো ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। উচ্চ তাপে ফুটানোর কারণে গ্রাহককে এই দুধ নতুন করে ফুটাতে হয় না। ফ্রিজে রাখারও দরকার হয় না। স্বাভাবিকভাবে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। আর পাস্তুরিত দুধ ৮৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ফুটানো হয়। যা ফ্রিজ করার প্রয়োজন পড়ে।’

প্রাণ ডেইরীর ব্র্যান্ড মার্কেটিং প্রধান মাকসুদুর রহমান বলেন, বিশেষ গাড়ি থেকে দুধ কারখানার মেশিনে প্রবেশ করানো, সেখান থেকে প্যাকেটজাতকরণ, পুরো প্রক্রিয়াতেই কোনও ধরনের হাতে স্পর্শ থাকে না। সবকিছুই অটোমেশিনে হয়ে থাকে। এজন্য প্রাণ ডেইরীর রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এই দুই তারকাসহ মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা কারখানা পরিদর্শন করেন। এসময় তারা প্যাকেটজাত দুধ কীভাবে উৎপাদিত হয়, তার প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন।

অভিনেতা ইমন বলেন, প্যাকেটজাত দুধ কীভাবে উৎপাদিত হয়, এখানে কোনও ভেজাল আছে কিনা? সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার কৌতূহল ছিল। প্রাণ ডেইরী আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। কারখানা ভিজিট থেকে জানতে পারলাম- এখানে একেবারে নিভের্জালভাবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই দুধ উৎপাদন করছে প্রাণ ডেইরী। এখান থেকে আমি অনেক উত্তর পেয়েছি।

তিনি আরও জানান, আমার আরও ইচ্ছা আছে, কোথা থেকে আসে এই দুধ আসে তা দেখার। তাই আমি প্রোপোজাল দিয়েছিলাম আমাকে তাদের সেই জায়গাটিও ঘুরে দেখানোর জন্য। তারাও রাজি হয়েছে আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর আপনাদের জন্য আনন্দের সংবাদ হচ্ছে চাইলে আপনারাও আমার সাথে যোগ দিতে পারেন এই “PRAN Milk Journey”-তে। 

আমার সাথে যেতে চাইলে রেজিস্ট্রেশন করুন এখনই www.pranmilkjourney.com ! আনন্দ, ফূর্তি আর খাওয়া দাওয়ায় কাটিয়ে দিন পুরো একটা দিন।

আরও পড়ুন

\এসআর

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়