• ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
logo
কলম কিনতে গিয়ে গাড়িচাপায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু
শ্রেণিকক্ষে ভূত আতঙ্ক, অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুননেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভূত-আতঙ্কে একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। রোববার (১৯ মে) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, এদিন ক্লাস চলাকালীন ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে এ ভূত-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লম্বা কালো কেউ ধাক্কা দিয়েছে, কেউ বলে লাল ভয়ানক কেউ এসেছে, কেউবা বলে হাত ধরে টান মেরেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে ছুটে  আসেন।   নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাফী বিন কবির বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসি এবং এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেই। এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।’  তিনি আরও বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমের কারণ এমন হতে পারে।তবে ঘাবড়ানোর মতো তেমন বিষয় না, সব ঠিক হয়ে গেছে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘হঠাৎ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিৎকার চেঁচামেচি করলে শিক্ষকরা সবাই বিষয়টি জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। জানতে পারি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ভয় পেয়ে চিৎকার দিলে পাশের সবাই চিৎকার দেয় ছোটাছুটি করে নিচে নেমে আসে। তবে বিদ্যালয়ে কোনো ভূতপ্রেত নেই। এমন ঘটনা এই প্রথম হয়েছে।’
চেয়ারম্যান পদে স্বামী-স্ত্রীর লড়াই
‘দস্যুদের হাত থেকে ২১ জন পালিয়েছিলাম, তবে স্বেচ্ছায় ফিরে আসি’
মধুমতী নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ল শুশুক 
ফুফাতো বোনকে দেখতে নিক্সন চৌধুরীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী
কারাগার থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন শামসুল আলম
আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার আসামি হিসেবে মঙ্গলবার (৭ মে) কারাগারে গেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী শামসুল আলম চৌধুরী। কারাগারে থেকেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ মে) রাতে ফরিদপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহম্মেদ ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, শামচুল আলম (আনারস) ৩২ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুল হাসান (টেলিফোন) পেয়েছেন ২৯ হাজার ৩৩ ভোট। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহম্মেদ বলেন, জেলার তিনটি উপজেলায় অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ পরিবেশের মধ্য দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রার্থীর অভিযোগ নেই। প্রতি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফল কেন্দ্রীয়ভাবে মিলিয়ে এরপর আবার ফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ নাসির ও ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শামসুল আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত অমিতাভ ও গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শামসুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, গত ২২ এপ্রিল ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই বরকত-রুবেলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।   
ফরিদপুরে বজ্রপাতে ২১ ছাত্র আহত, হাসপাতালে ১১
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বজ্রপাতে মাদ্রাসার ২১ ছাত্র আহত হওয়ার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (৬ মে) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে মদিনাতুল উলুম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। এদের মধ্যে ১১ ছাত্রকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মোহতামিম মাওলানা কেরামত আলী। তিনি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল। তখন মাদ্রাসার মাঠে বজ্রপাত হয়। এতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ২১ শিক্ষার্থী আহত হয়।  তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার শিক্ষক, অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।  বাকিদের মধ্যে- মুজাহিদ, ছামিউল, ওলিউল্লাহ, রেজাউল, মুস্তাকিম, সাজিম, আব্দুর রহমান, মারুফ, হোসাইন, বায়েজিদ ও রিয়াদসহ ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চেয়ারম্যান-মেম্বারকে ধরিয়ে দিলেই পুরস্কার
গত ১৮ এপ্রিল ফরিদপুরে মন্দিরে আগুনের ঘটনায় নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ৭ শ্রমিককে সন্দেহ করে মারধর করে এলাকাবাসী। এতে আশরাফুল ও এরশাদুল নামে দুই ভাই নিহত হন। তাদেরকে হত্যায় জড়িত ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আসাদুজ্জামান তপন এবং সদস্য অজিত বিশ্বাসকে ধরিয়ে দিলে কিংবা গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মধুখালীর পঞ্চপল্লীর ঘটনাপরবর্তী সামগ্রিক বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার এ ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন একজন হেভিচ্যুয়াল অফেন্ডার স্বভাবগত অপরাধী। কোথায় কখন কীভাবে লুকিয়ে থাকতে হয় সেটি তিনি ভালো জানেন। তিনি আত্মগোপনে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোন রেখে গেছেন। এর আগে মাগুরায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পালিয়ে যান। চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের দ্বৈত ভূমিকার কারণে তাকে প্রথমদিকে সেভাবে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়নি। তবে যখন ভিডিও ফুটেজে তার সম্পৃক্ততা দেখা যায় তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক। জড়িতদের অবস্থান বা ধরিয়ে দিতে বা গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করলে তাদের উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। কামরুল আহসান বলেন, চেয়ারম্যান তপন এবং দুই মেম্বারকে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য এয়ারপোর্ট-বন্দর এবং বর্ডারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ইতিপূর্বে একাধিক অন্যায় করেছে। ইউএনও’র ওপর হামলা ও টিসিবি কার্ড আত্মসাতের দায়ে তাকে দুই বার বরখাস্তও করা হয়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে পদে ফেরেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেন, এঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইয়াসিন কবির, রামানন্দ পাল প্রমুখ।  প্রসঙ্গত, গত ২১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে স্কুলকক্ষের মেঝেতে ফেলে পেটাচ্ছেন ডুমাইন ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ মো. আসাদুজ্জামান তপন ও ইউপি সদস্য অজিত কুমার বিশ্বাস। ভিডিও প্রকাশের পর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ও মেম্বার অজিত বিশ্বাস গা ঢাকা দিয়েছেন।
ফরিদপুরে মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডে এলাকা রণক্ষেত্র, ২ ভাই নিহত
ফরিদপুরের মধুখালী মন্দিরের কালী প্রতিমায় আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হামলায় সহোদর দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামের বারোয়ারী মন্দিরে আগুনের ঘটনা ঘটে। এরপর এই আগুন দেওয়ার অভিযোগে মন্দিরের পাশের স্কুলে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। নিহত শ্রমিকরা হলেন- মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের চোপেরঘাট গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে আশরাফুল (২১) ও আরশাদুল (১৫)।  জানা গেছে, হিন্দু অধ্যুষিত পঞ্চপল্লী গ্রামের ওই বারোয়ারি মন্দিরের কালী প্রতিমায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা মন্দির থেকে ২০ গজ দূরের পঞ্চপল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম নির্মাণকাজে নিয়োজিত মুসলিম সাত শ্রমিককে সন্দেহ করে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে মারপিট করে। খবর পেয়ে মধুখালী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনা স্থলে গেলে হামলাকারীরা তাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে, এবং হতাহতদের উদ্ধারে বাধা দেয়। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৪ জনকে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যান। আহত আরও দুজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান তপন সাংবাদিকদের জানান, মাগরিবের নামাজ শেষে ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার অজিত বাবুর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান হাজার হাজার জনতা। তিনি জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনকে ফোনে অবহিত করেন। পরবর্তীতে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।  জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-মধুখালী সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, একটি মন্দিরে কে বা কারা আগুন দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ লোকজন নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলা করেছে, মারপিট করেছে। এতে দুই ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পুলিশ সুপার জানান, শত শত মানুষ এই হামলায় অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক শটগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হলেও ঠিক কতজন সদস্য আহত হয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারিনি। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান তালুকদার জানান, তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের জন্য বলা হয়েছে। তারা শুক্রবার সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে।
বাসরের পর লাপাত্তা স্বামী, শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান তরুণীর
প্রেম করে বিয়ের পর বাসর রাত কাটিয়ে পরদিন শ্বশুর বাড়িতে নববধূকে রেখে পালিয়েছেন স্বামী। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চলে যায় সাত দিন। কিন্তু মনের মানুষ স্বামী ফেরত আসছেন না। অবশেষে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে স্বামীর স্বীকৃতি পেতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী নববধূ। ঘটনাটি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের।  জানা যায়, অভিযুক্ত স্বামীর নাম নিশাত (২০)। সে ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. দুলাল শেখের ছেলে। আর ভুক্তভোগী তরুণী পাশের সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের সিদ্দিক সর্দারের মেয়ে। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, নিশাতের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয়। টানা ৯ মাস প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের। প্রেমের সুবাদে নিশাত মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে যেতেন। গত ৯ এপ্রিল তার ব্যক্তিগত সম্মতিতে ওই তরণীর বাড়িতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর বাসর রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান নিশাত। এরপর গত এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কোনো যোগাযোগ করেনি। তিনি আরও জানান, এই জন্য স্বামীর বাড়িতে আজ চলে এসেছি। এখানে আসলে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ নেই। এদিকে তরুণীর উপস্থিতি টের পেয়ে নিশাতের পরিবারের সবাই বাড়িতে তালা মেরে পালিয়ে যান। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই তরুণী শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তরুণীকে একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক প্রতিবেশীরা। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ট্রিপল নাইন নম্বরে ফোন করে বিষয়টি আমাদের জানান ওই তরুণী। তবে কোনো অভিযোগ তিনি করেননি। যদি ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের সহযোগিতা চান, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিল্পপতির সংসার ছাড়তে গরিবের মেয়ের সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নেশাগ্রস্ত এবং বিকৃত স্বভাবের স্বামী দীপের সংসার ছাড়তে মশলা বিক্রেতার মেয়ে প্রিয়ন্তী সাহা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ভাঙ্গা উপজেলা পৌর সদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। জানা গেছে, প্রিয়ন্তীর স্বামী দীপ একজন শিল্পপতির ছেলে। আর প্রিয়ন্তীর বাবা কুমারেশ সাহা ভাঙ্গায় ফুটপাতের পাশে মশলা বিক্রি করে সংসার চালান। সংবাদ সম্মেলনে  প্রিয়ন্তী জানান, আমার বাবা-চাচাদের অনেক লোভ দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করে দীপ। আমার বাবা সুখের কথা ভেবে আমাকে বিবাহ দেন ভাঙ্গা বাজারের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রবিন সাহার ছেলে দীপের সঙ্গে। বিবাহ হয় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। হিন্দু ধর্মের রীতি-নীতিতে অনেক কিছু করতে হয়, যা দীপ প্রথম রাতেই বিবাহ সম্পন্ন না করে নেশায় আসক্ত হন। সে আমাকে একা রেখে নেশা করতে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, ফিরে আসে ভোররাতে। তাই নেশাগ্রস্ত স্বামীর সঙ্গে কোনোভাবেই আমার সংসার করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন স্ত্রী প্রিয়ন্তী। তিনি জানান, তাকে জোর মদপান করতে হতো। মদ না খেলে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে টয়লেটের মধ্যে আটকে রাখত। এছাড়া আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড নিয়ে সে সেটা চেঞ্জ করে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছেড়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে আমি ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছি। প্রিয়ন্তীর মা শিখা সাহা জানান, নেশাগ্রস্ত ছেলে দীপ আমার মেয়ে প্রিয়ন্তীর জীবনটা বিপন্ন করে ফেলেছে। ছেলে যে এমন নেশাগ্রস্ত তা জানলে কিছুতেই তার কাছে বিয়ে দিতাম না মেয়েকে। এছাড়া দীপের পরিবার অনেক ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রিয়ন্তীর চাচা গোপাল সাহা জানান, নেশাগ্রস্ত ছেলের কাছে আমার ভাতিজি মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রিয়ন্তীকে বিয়ে দেওয়ার পর তার জীবনটা বিপন্ন করে ফেলেছে। আমরা এর বিচার চাই।   দীপের চাচা রাজকুমার সাহা জানান, আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে দীপ। আমরা অনেক আনন্দ করে বিয়ে করিয়েছিলাম, কিন্তু দীপ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। মনে করেছিলাম বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।  এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি মামুন আল রশিদ বলেন, দীপের বিরুদ্ধে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। দীপ তার স্ত্রীকে দিয়ে মদপানসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করাতে জোর করত। পরে তার স্ত্রী প্রিয়ন্তীকে আমরা উদ্ধার করে ওর বাবা-মায়ের হাতে দিয়েছি। এরপরও স্বামী দীপ কোনো অন্যায় করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।