logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

এসি রুমের বিউটিশিয়ানরা এখন দিনমজুর! (ভিডিও)

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, আরটিভি অনলাইন
|  ১৭ জুন ২০২০, ১৬:৩৮ | আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ১৯:০২
Women working in the beauty parlor of the tribal community of Madhupur in Tangail are living a dehumanized life due to the effect of corona.
এসি রুমের বিউটিশিয়ানরা এখন দিনমজুর!
করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিউটি পার্লারে কর্মরত নারীরা। দীর্ঘ তিন মাসের অধিক সময় ধরে কর্মহীন হলেও নূন্যতম সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন দিনমজুরের কাজ। 

ছবির মতো সুন্দর মধুপুর গড়ের চুনিয়া গ্রাম। এই গ্রামের অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করা দিতি, রিয়া, জবা, সুস্মিতাসহ অন্যরা কেউই পেশাদার শ্রমিক নয়। তারা সবাই ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পেশা-বিউনিশিয়ান কাজে নিয়োজিত ছিল। তারা সমাজের মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে থাকা পশ্চাৎপদ পাহাড়ি এই জনপদের মাতৃতান্ত্রিক আদিবাসী। মাতৃতান্ত্রিক নিয়মে পরিপাটি করে বাড়িটি সাজিয়ে রাখার দায়িত্ব তার। তবে তার থেকেও গুরুদায়িত্ব বাড়ির সকলের মুখে খাবার তুলে দেয়া। অতীতে যাদের অধিকাংশের আয়ের উৎস ছিল দিন মজুরি, বর্তমানে তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য বেছে নিয়েছেন বিউটিশিয়ান পেশা।

এই পেশা তাদের অন্ধকার থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন যেমন দেখাতো তেমনি এর প্রভাবে চাঙ্গা থাকতো গ্রামীণ অর্থনীতিও। তবে করোনাকাল তাদের সেই স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্নে ছেদ ঘটেছে। পেশা বন্ধ থাকায় জীবন বাঁচিয়ে রাখা রীতিমত যুদ্ধ হলেও মানবিক সহায়তার হাত বাড়ায়নি কেউ।

তারা কর্মহীন হয়ে পড়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছ স্থানীয় অর্থনীতিতে। সেই সাথে সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তাদের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

টাঙ্গাইলের মধুপুর আদিবাসী কল্যাণ ট্রাস্টের ইউলিয়াম দাজেল জানান, অপেশাদার শ্রমিক হওয়ায় কাজেও নিচ্ছে না মালিকপক্ষ। এজন্য কোনও দিন ভাগ্যক্রমে কাজ জুটলেও অধিকাংশ দিনই অতিবাহিত করতে অনাহারে অর্ধাহারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুপুর আরিফা জহুরা আশ্বাস দিয়ে জানালেন, নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর ভেতর বিউটিশিয়ানের কাজ করা কর্মহীনদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়ি তাদের সহযোগিতা করা হবে।   

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড হিউমেন ডেভেলপমেন্ট (সেড) এর ২০১৮ সালের ৪৪টি গ্রামের জরিপে দেখা গেছে, মধুপুর এলাকায় ১৭ হাজার ৩২৭ জন গারো সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে ১ হাজার ১৩১ জন নারী দেশের বিভিন্ন জেলায় বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন যা তাদের মোট জনসংখ্যার ৬.৮% ।

এসএস

RTVPLUS

সংশ্লিষ্ট সংবাদ : করোনাভাইরাস

আরও
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২০৬৬৪৯৮ ১৫৩০৮৯ ৩৫১৩
বিশ্ব ২০৫৫৩৩২৮ ১৩৪৬৫৬৪২ ৭৪৬৬৫২
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়