logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন

  ১০ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৩৬
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:৩৩

সরকারি বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বিদ্যালয় শিক্ষা গোসাইরহাট
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার হাটুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার হাটুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২০ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। টাকা না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পর প্রায় ৫৪৪ শিক্ষার্থী পেয়েছে নতুন বই। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি রশিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ও সেশন ফি বাবদ ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের নতুন বই দেওয়া হয়েছে। বইয়ের জন্য কোনও টাকা নেয়া হয়নি।

বুধবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে এলাকাবাসী এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জড়ো হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক জানুয়ারি বই পেয়েছে মাত্র ৫০ জন শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঁচ-সাতজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, প্রধান শিক্ষক ৭০০ টাকা করে নিয়ে নতুন বই দিয়েছেন। কোনও রশিদ দেননি। তারা প্রথম দিন বই নিতে এলে টাকা না দেওয়ায় তাদের বই দেওয়া হয়নি। 

বিদ্যালয়ের অভিভাবক নলমুড়ি ইউনিয়নের ভ্যানচালক মোহাম্মদ সফি (৫০) এবং মনির হোসেন ব্যাপারী (৩৫), প্রশান্ত কুমার দাস (৪০), হুমায়ূন আহম্মেদ (২৭) অভিযোগ করেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এক জানুয়ারি নতুন বই পেয়ে আনন্দ করেছে। অন্যদিকে হাটুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ (রতন) টাকা ছাড়া বই দিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক মোবাইল ফোনে আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে ভর্তি ও সেশন ফি'র নামে টাকা আদায় করার পর নতুন বই বিতরণ করছেন। আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে জিম্মি। সব দেখেও কিছু বলতে পারি না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ (রতন) আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি রশিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি এবং সেশন ফি বাবদ ৭০০ টাকা নিয়েছি। নতুন বইয়ের জন্য কোনও টাকা নেয়া হয়নি। বই উৎসব পালন করেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই দিয়েছি। 

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মো. আজাহার হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমার নাতিকে ভর্তি করতে স্কুলে যাই। তখন এক শিক্ষক  আমাকে বলেন, বই নিতে হলে ৭০০ টাকা লাগবে! তখন আমি তাকে বললাম সরকার তো বই ফ্রি দিচ্ছে। তাহলে আমার কাছে টাকা চাচ্ছেন কেন?  তখন ওই শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে বলেছেন ৭০০ টাকা রেখে রশিদ ও বই দিতে।

জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. এমারত হোসেন মিয়া বলেন, বর্তমান সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের বই দিচ্ছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সরকারি বই বিতরণ নীতিমালা অনুযায়ী বিতরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও রকম অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ নেয় তাহলে বেআইনি ও অপরাধ। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোসাইরহাট  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হুসাইন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু কেউ এসে অভিযোগ করেনি। তবুও বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি/পি

RTVPLUS