logo
  • ঢাকা সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭

রিফাত হত্যা মামলায় কিশোর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন

বরগুনা প্রতিনিধি, আরটিভি অনলাইন
|  ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৫
মামলা চার্জগঠন বগুড়া
ছবি: সংগৃহীত
বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। বুধবার  বেলা ১১টার দিকে বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ চার্জ গঠন করেন।

চার্জ গঠন উপলক্ষে এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এদিন আদালতে উপস্থিত হন জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা।

পরে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শুনান, বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

চার্জগঠন শেষে কারাগারে থাকা ১৩ আসামিকে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সরকারপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হাওলাদার জানিয়েছেন, রিফাত হত্যা মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

বাকি একজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতার অভিযোগ। এর মধ্য দিয়ে রিফাত হত্যার বিচার শুরু হয়েছে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলো, রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাঈম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয় ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।

অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা এবং আসামিদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে ৩০২ এবং ১২০ (বি) ১ এবং ২১২ ধারায় চার্জগঠন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে যশোর শিশু কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ১৩ আসামিকে বরগুনা আদালতে আনা হয়। পুলিশি নিরাপত্তায় বুধবার সকাল  আটটার দিকে তাদের আদালতে আনা হয়েছিলো। গত  এক জানুয়ারি এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

একই দিনে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ সাক্ষী দিয়েছেন। জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান তার জবানবন্দি শুনছেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দুলাল শরীফকে জেরা করেন।

গেল ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এ ঘটনায়  এক সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। এছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন। অন্য সব আসামি কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে বুধবার সকালে রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের ছবি তুলতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। বুধবার সকাল  আটটার দিকে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মূল ফটকে তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিওগ্রাফার এ লাঞ্ছনার শিকার হন বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন। এনটিভির আরিফ হোসেন, সময় টিভির রিপন মালী ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সোহাগ হাফিজকে আসামিদের স্বজনরা লাঞ্ছিত করেছে।

ভিডিওগ্রাফাররা জানান, রিফাত হত্যায় ব্যবহৃত রামদা সরবরাহকারী আসামি রিফাত হাওলাদার এবং অন্যতম আসামি রাব্বী আকনের স্বজনরা ছবি তুলতে গেলে তাদের ধাক্কা দেয় এবং ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

গাড়ি থেকে নামিয়ে আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে এ লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে বলে ওই সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। হামলার কথা অস্বীকার করে আসামি রিফাত হাওলাদারের বড় ভাই রিয়াদ হাওলাদার বলেন, শিশু আইনে শিশু আসামিদের ছবি তোলার বিধান নাই। তাই আমরা মৌখিকভাবে ছবি তুলতে নিষেধ করেছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিভির ভিডিওগ্রাফার আরিফ হোসেন জানান, বড় ও শিশু আসামিদের একই গাড়িতে আদালতে আনায় তাদের আলাদা করে ছবি তোলা সম্ভব নয়। সেজন্যই তারা ছবি তুলছিল।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়