logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছে কিশোর-কিশোরী ক্লাব

কলমাকান্দা সংবাদদাতা, আরটিভি অনলাইন
|  ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫০ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:১৯
কিশোর কিশোরী ক্লাব
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

কিশোর-কিশোরীদের ওই ক্লাবগুলোতে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, যৌতুক প্রতিরোধ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিয়ে নিবন্ধন, শিশু অধিকার, নারী অধিকার, জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য দূর করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে তাদেরকে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। যেন পরিবার, সমাজ ও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে এর প্রভাব ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের একটি করে বিদ্যালয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব রয়েছে। তার মধ্যে কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়খাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লেংগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রংছাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খারনৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ক্লাব চালু রয়েছে। ক্লাবগুলোতে একজন কবিতা আবৃত্তি শিক্ষক ও একজন সংগীত শিক্ষক রয়েছে।

আর ওই আটটি বিদ্যালয়ের জন্য দুইজন জেন্ডার প্রমোটারও রয়েছেন। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে আর ওই ক্লাবে সপ্তাহে দুইদিন কিশোর-কিশোরীদেরকে নিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে ক্লাবগুলো উপজেলার কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করতে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, যৌতুক প্রতিরোধ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিয়ে নিবন্ধন, শিশু অধিকার, নারী অধিকার, জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য দূর করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসহ নানা বিষয়ে তাদেরকে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।   

শনিবার বিকেলে উপজেলার খারনৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি রুমে ২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাল্য বিয়ের কুফল সমন্ধে আলোচনা করছেন ওই ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার মিতালী রানি সাহা। ক্লাস শেষে তিনি বলেন, বাল্য বিয়ের কুফল, এলাকায় বাল্য বিয়ের আয়োজন হলে কি করণীয়, নিজ পরিবারে বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করাসহ এমন একাধিক বিষয় নিয়ে আজ কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলেছি।

খারনৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার বলেন, কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গীত ও আবৃত্তি শিক্ষা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হবে। আর এ ধরনের বিনোদনের ফলে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে তারা দূরে থাকবে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পপি রানি তালুকদার বলেন, কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলো প্রতিষ্ঠার ফলে তারা প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে আর ভালো কিছু করার প্রেরণা যোগানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে দেশপ্রেমও জাগ্রত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, কিশোর-কিশোরী ক্লাব উপযোগী অনন্য একটি উদ্যোগ। এই উদ্যোগ সফল হলে সফল হবে বাংলাদেশ। কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সাফল্য নিশ্চিত করতে সব সময় পাশে আছে উপজেলা প্রশাসন। এ ক্লাবের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন হবে, বাল্যবিয়ে মুক্ত কলমাকান্দা গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়