logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে অসংখ্য ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান

সুকান্ত সেন, সিরাজগঞ্জ, আরটিভি অনলাইন
|  ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১২:৫৬ | আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৭
ঋণ পণ্য টিভি
ফাইল ছবি
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কিস্তিতে পণ্য বিক্রির নামে অতিমাত্রায় সুদ নির্ধারণ করে ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে মুনাভালোভী ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

এনজিও স্টাইলে ঋণ আদায় ও বিতরণ কর্মী এবং ব্যবস্থাপক নিয়োগ করে পাসবই ছাপিয়ে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে অবৈধ এই সুদের কারবার চললেও নীরব রয়েছে প্রশাসন।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা একাধিক প্রতিষ্ঠান ঘুরে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমবায় আইন অনুযায়ী প্রান্তিক পর্যায়ে শুধুমাত্র উপজেলা সমবায় অফিস থেকে অনুমোদনকৃত সমবায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের তালিকাভুক্ত সদস্যদের মধ্যে সমবায়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ বা ঋণ পণ্য বিতরণ করতে পারবে। সদস্য ব্যতীত সমবায় সমিতির ঋণদান কর্মসূচি অবৈধ, আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া এনজিও ব্যুরো বা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানও ঋণদান কর্মসূচি পরিচালিত করতে পারবে। এছাড়া অনুমোদনের জন্য আবেদনকৃত বা অনুমোদনবিহীন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণদান বা কিস্তিতে পণ্যবিক্রি আইনত অবৈধ।

কিন্তু সরকারের এই সমস্ত বিধি-বিধান ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিস্তিতে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনীহা ও প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে এই সকল প্রতিষ্ঠান পাশ বই ছাপিয়ে, ঋণ বিতরণ ও উত্তোলন, কর্মী, ব্যবস্থাপক, শাখা ব্যবস্থাপক নিয়োগ করে একই নামে একাধিক শাখা খুলে দেদারসে সুদের ব্যবসা করছে। এ ধরনের অবৈধ ব্যবসায়ীরা গ্রাহকদের ঋণের জালে আটকিয়ে নিজেরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকেরা দরিদ্র থেকে হত দরিদ্রে পরিণত হচ্ছে।

জেলার কামারখন্দ উপজেলার বিয়ারা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় পশু চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম খান অনন্যা এন্টারপ্রাইজ নামে চালু করেছেন কিস্তিতে পণ্য বিক্রি প্রতিষ্ঠান। একই স্থানে গড়ে তুলেছেন এই প্রতিষ্ঠানের অপর একটি শাখা প্রতিষ্ঠান। তার দুটি প্রতিষ্ঠানের একটি থেকে টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্রসহ নানা সামগ্রী উচ্চহারে সুদ নির্ধারণ করে বিতরণ করছেন। অপর প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ হিসেবে বিতরণ করছেন কাঠের ও প্লাস্টিকের ফার্নিচার।

পাশ বই ছাপিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত এনজিওর অনুকরণে পণ্যের মূল্যের  ওপর সুদহার নির্ধারণ করার পর মোট টাকার চার ভাগের এক ভাগ টাকা জমা নিয়ে মাসিক ছয় কিস্তি বা সাপ্তাহিক ছাব্বিশ কিস্তিতে এই ঋণ বিতরণ করছেন। ঋণ বিতরণ করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন ব্যবস্থাপক ও তিনজন ঋণ বা পণ্য বিতরণ ও উত্তোলন কর্মী। এছাড়া অপর প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বাবাসহ আরও দুইজন এই অবৈধ কাজে সম্পৃক্ত।

কামারখন্দ উপজেলার শুধুমাত্র একটি ইউনিয়নেই এই প্রতিষ্ঠান পণ্য বা নগদ টাকায় বিতরণ করেছেন অন্তত ২০ লাখ টাকা।

অনন্যা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত মো. সোনাউল্লাহ মিয়া এই প্রতিবেদককে জানান, আমি অফিসে বসে কিস্তিতে পণ্য বিক্রি ও কিস্তি আদায় তদারকি করি। প্রায় দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটির জন্মলগ্ন থেকেই আমি এখানে কর্মরত আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিয়ারা গ্রামের অনন্যা এন্টারপ্রাইজের এক নারী গ্রাহক জানান, এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমি একটি ফ্রিজ নিয়েছি। যার বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু এখানে ২৬ কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে আমাকে ফ্রিজটি দেওয়া হয়েছে। পণ্যটি নিতে আমার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। আমি প্রায় ১০টি কিস্তি পরিশোধ করেছি।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: নতুন সড়ক আইন: কয়েক জেলায় চলছে না বাস
---------------------------------------------------------------

পাসবই ছাপিয়ে কিস্তিতে পণ্য বিক্রি ও পণ্য বিক্রির আড়ালে সুদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনও সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অনন্যা এন্টারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠাতা পশু চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠান করে ২০ লাখ টাকার পণ্য কিস্তিতে দিয়ে রেখেছি। কেউ অনুমোদনের কথা বলেনি। আশেপাশের বাজারেও এ ধরনের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা পণ্য ও নগদ টাকা দুইই দিচ্ছে তাদেরও কোনও অনুমোদন লাগে না। নিজের টাকায় ব্যবসা করতে কিসের অনুমোদন নিতে হবে।

অবৈধ এই সকল প্রতিষ্ঠান বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সমবায় অফিসার সামিউল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঋণদান ও পণ্য বিক্রির কোনও নিয়ম নেই। এগুলোর জন্য নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। শিগগিরেই এই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়