logo
  • ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মিন্নির জবানবন্দি

যে কারণে ‘হোটেলে’ রাত্রীও যাপন করতে হয়েছিল মিন্নির

বরগুনা প্রতিনিধি
|  ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:৫৪
মিন্নি, হোটেল, রাত্রী
  ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কলেজ থেকে পিকনিকে কুয়াকাটা যাওয়ার বাস মিস করি। তখন নয়নের মোটরসাইকেলে আমি কুয়াকাটা যাই। সেখানে নয়নের সঙ্গে একটি হোটেলে রাত্রীযাপন করি। এরপর আস্তে আস্তে আমি জানতে পারি নয়ন মাদকসেবী। ছিনতাই করে। তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। যে কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর আমি আবার রিফাত শরীফের সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জবানবন্দিতে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

রিফাত হত্যার ২০ দিন পর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে হন আসামি। এরপর পাঁচ দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় রিফাত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা করা হয়।

জবানবন্দিতে মিন্নি আরও বলেন, ‘আমি বরগুনা সরকারি কলেজে ডিগ্রি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি। ২০১৮ সালে বরগুনা আইডিয়াল কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করি। আইডিয়াল কলেজে পড়াশোনা করার সময় ২০১৭ সালে রিফাত শরীফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ সময় রিফাত বামনা ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিল।

সম্পর্কের পর রিফাত আমাকে তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার মধ্যে নয়ন বন্ড একজন। পরিচয়ের পর থেকেই নয়ন বন্ড আমাকে কলেজে যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতো। আমি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সে আমার বাবা ও ভাইয়ের ক্ষতি করার ভয় দেখাতো। বিষয়টি আমি রিফাত শরীফকে জানাইনি।’

জবানবন্দিতে মিন্নি আরও বলেন, ‘আমি রিফাত শরীফকে ভালোবাসতাম। কিন্তু রিফাতের সঙ্গে অন্য মেয়েদের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে রিফাতের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। এরপর আমি ধীরে ধীরে নয়ন বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ি। একসময় আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর থেকে আমার নয়ন বন্ডের বাসায় যাতায়াত শুরু হয়।

এভাবে প্রায়ই নয়নের বাসায় আমাদের শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে। এরপর ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে রোজী আন্টির বাসায় যাওয়ার সময় নয়ন বন্ড আমাকে ব্যাংক কলোনি থেকে রিকশায় করে তার বাসায় নিয়ে যায়।

নয়নের বাসায় গিয়ে আমি শাওন, রাজু, রিফাত ফরাজী ও আরও সাত থেকে আটজনকে দেখতে পাই। এরমধ্যে শাওন বাইরে গিয়ে কাজী ডেকে আনে। পরে আমাদের মধ্যে বিয়ে হয়। এরপর আমি বাসায় চলে যাই। বাসায় গিয়ে নয়নকে ফোন করে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলি। তখন নয়ন আমাকে বলে ওইটা বালামে উঠে  নাই। বালামে না ওঠলে বিয়ে হয় না। এরপরও আমি নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখি। নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ জানে না।

এরপর আস্তে আস্তে আমি জানতে পারি নয়ন মাদকসেবী। ছিনতাই করে। তার নামে থানায় অনেক মামলা আছে। যে কারণে নয়নের সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর আমি আবার রিফাত শরীফের সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি।

গেল ২৬ এপ্রিল পারিবারিকভাবে রিফাত শরীফের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে আমার দেখা-সাক্ষাত শারীরিক সম্পর্ক সবই চলতো। বিয়ের পর জানতে পারি রিফাত শরীফও মাদকসেবী। সে মাদকসহ পুলিশের কাছে ধরা খায়। বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।

গেল ২৪ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দিয়ে বলে- তোর স্বামী হেলালের ফোন ছিনাইয়া নিছে। পরে রিফাত ফরাজীও আমাকে ফোন দিয়ে বলে হেলালের মোবাইলটি রিফাতের কাছ থেকে নিয়ে হেলালকে ফেরত দিতে। আমি রিফাত শরীফকে হেলালের ফোন ফেরত দিতে বললে রিফাত শরীফ আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে এবং তলপেটে লাথি মারে। বিষয়টি রাতে মোবাইল ফোনে নয়নকে জানাই এবং কান্না করি।

পরদিন ২৫ জুন আমি কলেজে গিয়ে নয়নের বাসায় যাই। রিফাত শরীফকে একটা শিক্ষা দিতে হবে একথা নয়নকে বললে নয়ন বলে, হেলালের ফোন নিয়ে যে ঘটনা তাতে রিফাত ফরাজী তাকে মারবে। তারপর আমি বাসায় চলে আসি এবং এ বিষয়ে কয়েকবার আমার নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। নয়ন বন্ডের সঙ্গে আমার স্বামী রিফাত শরীফকে মেরে  শিক্ষা দিতে হবে এ পরিকল্পনা করি।

২৬ জুন আমি কলেজে যাই এবং সায়েন্স বিল্ডিং এর পাশের বেঞ্চের  ওপর রিফাত ফরাজী ও রাব্বী আকনকে বসা পাই। রিফাত হাওলাদার পাশে দাঁড়ানো ছিল। তখন আমি রিফাত  হাওলাদারকে বলি খালি হাতে আসছ কেন। একথার জবাবে রিফাত হাওলাদার বলে ওকে মারার জন্য খালি হাতেই যথেষ্ট।

এরপর রিফাত ফরাজীকে জিজ্ঞাসা করি নয়ন বন্ড ও রিফাত শরীফ কলেজে এসেছে কিনা ? তখন নয়ন বন্ড আমাকে ফোন দেয়। রিফাত কোথায় জানতে চায় এবং আমাকে নতুন ভবনের দিকে যেতে বলে। ওই সময় নয়ন নতুন ভবনের পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে আসে।

এ সময় রিফাত শরীফ কলেজের ভেতরে আসে এবং আমাকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য কলেজ থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। কিন্তু আমি মোটরসাইকেলে না উঠে সময় ক্ষেপণ করার জন্য পুনরায় কলেজ গেটে ফিরে আসি। রিফাত শরীফ আমার পেছন পেছন ফিরে আসে। তখন রিশান ফরাজী কিছু পোলাপানসহ আসে। এ সময় রিশান ফরাজী রিফাতকে জিজ্ঞাসা করে- তুমি আমার বাবা-মাকে গালি দিয়েছ কেন? রিফাত শরীফ বলে, আমি গালি দেই নাই।

ওই সময় রিফাত ফরাজী জামার কলার ধরে এবং রিশান ফরাজী রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে। রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়, রিশান ফরাজী, রিফাত হাওলাদার এবং আরও অনেকে রিফাত শরীফকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মারধর করতে করতে এবং টেনে হেঁচড়ে ক্যালিক্সের দিকে নিয়ে যায়। ক্যালিক্সের সামনে তারা রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

আমি তখন সবার পেছনে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওই সময় নয়ন বন্ড ক্যালিক্সের সামনে এসে রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। মারপিটের মধ্যেই রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয় ও রিফাত হাওলাদার দৌড়ে যায় এবং রিফাত ফরাজী দুটি দা এবং টিকটক হৃদয়, রিফাত হাওলাদার লাঠি নিয়ে আসে। একটি দা দিয়ে নয়ন বন্ড ও অন্য একটি  দা দিয়ে রিফাত ফরাজী রিফাত শরীফকে কোপাচ্ছিল। রিশান ফরাজী এ সময় রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে রাখে।

যেন রিফাত শরীফ পালাতে না পারে। রিফাত শরীফকে কোপাতে দেখে আমি নয়ন বন্ডকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি। দায়ের কোপের আঘাতে রিফাতের শরীফ রক্তাক্ত হয়। সে রক্তাক্ত অবস্থায় পূর্ব দিকে হেঁটে যায় এবং আমি রাস্তায় পড়ে থাকা জুতা পরি। এক পথচারী  একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দিলে আমি রিকশা করে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। এরপর আমার বাবাকে ফোন করি। আমার বাবা ও চাচা হাসপাতালে আসে। এরপর রিফাত শরীফকে বরিশাল পাঠানো হয়। আমার কাপড়ে  রক্ত লেগে থাকায় আমি বাসায় চলে যাই। পরে আমি জানতে পারি রিফাতের অবস্থা খারাপ। এরপর নয়নকে ফোনে বলি তোমরা ওকে যেভাবে কোপাইছো তাতে তো ও মারা যাবে এবং তুমি আসামি হবা। তারপর ওর অবস্থান জানতে চাই এবং পালাতে বলি। দুপুরের পর খবর পাই রিফাত শরীফ মারা গেছে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
---SELECT id,hl1,hl2,hl3,rpt,short_hl2,cat_id,parent_cat_id,prefix_keyword,sum,dtl,hl_color,tmp_photo,video_dis,alt_tag,IFNULL(hierarchy, 99) AS hierarchy,entry_time FROM news AS news LEFT JOIN mn_hierarchy AS mnh ON mnh.news_id = news.id AND mnh.mid = 9 WHERE cat_id LIKE "%#9#%" AND publish = 1 GROUP BY id ORDER BY hierarchy ASC, entry_time DESC LIMIT 2
---SELECT id,hl1,hl2,hl3,rpt,short_hl2,cat_id,parent_cat_id,prefix_keyword,sum,dtl,hl_color,tmp_photo,video_dis,alt_tag,IFNULL(hierarchy, 99) AS hierarchy,entry_time FROM news AS news LEFT JOIN mn_hierarchy AS mnh ON mnh.news_id = news.id AND mnh.mid = 8 WHERE cat_id LIKE "%#8#%" AND publish = 1 GROUP BY id ORDER BY hierarchy ASC, entry_time DESC LIMIT 2
---SELECT id,hl1,hl2,hl3,rpt,short_hl2,cat_id,parent_cat_id,prefix_keyword,sum,dtl,hl_color,tmp_photo,video_dis,alt_tag,IFNULL(hierarchy, 99) AS hierarchy,entry_time FROM news AS news LEFT JOIN mn_hierarchy AS mnh ON mnh.news_id = news.id AND mnh.mid = 4 WHERE cat_id LIKE "%#4#%" AND publish = 1 GROUP BY id ORDER BY hierarchy ASC, entry_time DESC LIMIT 2