logo
  • ঢাকা বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
|  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:১৯ | আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৯:২৬
শ্বশুর, ধর্ষণ, লালসা
টাঙ্গাইলের নাগরপুর ১২ নম্বর মোকনা ইউনিয়নের করটিয়া কাজী বাড়ী গ্রামে দুই সন্তানের জননীকে  লম্পট শ্বশুর মো. সাইজুদ্দিন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ধরে টাঙ্গাইলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ধর্ষিতা ও তার পরিবার। 

গতকাল রোববার দুপুরের দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়াম হল রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ১২ নম্বর মোকনা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সোহেল রানা, ধর্ষিতার মা নাসিমা ও নানা মো. বাবর আলী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ধর্ষিতার মামা মো. সোহেল রানা বলেন, নাগরপুরে ১২ নম্বর মোকনা ইউনিয়নের করটিয়া কাজীবাড়ী গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে লম্পট শ্বশুর মো. সাইজুদ্দিন গেল এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার নিজ বাড়ির ছেলের রুমে পুত্রবধূকে জোর করে ধর্ষণ করেন।

---------------------------------------------------------------
আরো পড়ুন: ধর্ষণের শিকার শিশুটি সন্তান প্রসব করেছে
---------------------------------------------------------------

এ ঘটনায় লিখিত বিবরণে জানা যায়, গেল জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে ধর্ষকের ছেলে রুবেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে পুত্রবধূর এক কন্যা রাবেয়া মেরাজ জন্মগ্রহণ করে।

এরপর স্বামী রুবেল মিয়া সংসার চালাতে স্ত্রী সন্তান রেখে গত এক বৎসর পূর্বে বিদেশ চলে যায়। রুবেল বিদেশ যাওয়ার পর পরই লম্পট শ্বশুর সাইজুদ্দিন তার ছেলে বৌয়ের ওপর কুনজর দিতে শুরু করে। দিনের পর দিন লম্পট শ্বশুর তার লোভ-লালসার শিকার করতে ছেলে বৌয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার অভিনয় শুরু করতে থাকেন প্রতিনিয়ত।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, একপর্যায়ে অনৈতিক কাজের কুপ্রস্তাব দেয়। পুত্রবধূ তার শ্বশুরের কু-প্রস্তাব গোপনে তার শাশুরিকে জানান। পরে পুত্রবধূর এমন কথা বিশ্বাস করেননি শাশুরি। পরদিন রাতে লম্পট শ্বশুর পুত্রবধূর থাকার ঘরের পাশে ওৎ পেতে বসে থাকে। পুত্রবধূ প্রকৃতির ডাকে বাইরে গেলে লম্পট শ্বশুর চুপ করে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে খাটের নিচে বসে থাকে। পুত্রবধূ ঘরে প্রবেশ করলে সে সময় দরজা বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে পুত্রবূকে চাকু বের করে হুমকি ও  ভয়ভীতি দেখায়। চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলা ও তার দুটি সন্তানকে এতিম করবে বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওই পুত্রবধূ মমতাজ ১২ নম্বর মোকনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। তবে চেয়ারম্যান বলেন, কেউ এদের বিচার করতে পারবে না। তিনি কোর্টের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় গেল আগস্ট মাসের ২৯ তারিখ টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৩৫৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি এখন টাঙ্গাইল জেলা পিবিআইকে তদন্তের ভার হস্তান্তর করে ট্রাইব্যুনালে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন আছে। এ অবস্থায় দুইটি সন্তান ও ধর্ষিতা পুত্রবধূ ও তার পরিবারের জীবন রক্ষার্থে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়