logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রেমের টানে বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ান তরুণী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
|  ২৩ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪১
ইন্দোনেশিয়ান তরুণী
প্রাইভেটকার আর মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রীসহ আসছেন বর। বাড়ির উঠানে এসে থামলো গাড়ি। মাথায় পাগড়ি পড়ে গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এলেন বর। এখান থেকেই শুরু তাদের নতুন জীবনে সূচনা। বর-কনের মনে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা বাঁধবেন সুখের ঘর। আর সেই সুখের ঘর বাঁধতে সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকে রাজনের প্রেম ভালোবাসার টানে চলে এলেন মারদিয়ানা নামের এক ইন্দোনেশিয়ান মুসলিম তরুণী।

জানা যায়, মারদিয়ানার সাথে ২০১৩ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয় শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার লোনসিং গ্রামের মো. সেলিম খালাসীর সঙ্গে। পরে মারদিয়ানা ও সেলিমের ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মারদিয়ানার ভাই সেলিম খালাসী (বাংলাদেশ) বলেন, মারদিয়ানা আমাকে ধর্মের ভাই ডেকেছে। আমারা ভাই-বোন। সম্পর্কটা আমার পরিবারও মেনে নিয়েছে।

এরইমধ্যে ২০১৬ সালে মাদারীপুরের সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের চন্ডিবদ্দি গ্রামের কাজী এটিএম দাউদের ছেলে কাজী আহমাদুল হোসেন রাজনের সঙ্গে প্রথমে ফেসবুকে পরিচয় হয় সেখান থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। সেই সম্পর্ক থেকেই শুরু হয় মন দেয়া-নেয়া। আর মনের টানেই বাঙালি তরুণের কাছে ছুটে আসেন ইন্দোনেশিয়ান তরুণী মারদিয়ানা।

মারদিয়ানা ইন্দোনেশিয়ার পালু বোরাদ এলাকার কাহারুদ্দিন ও মোলি দম্পতির মেয়ে। তিনি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।

সেলিম খালাসী বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ান মুসলিম পরিবারের সন্তান মারদিয়ানার সঙ্গে মাদারীপুরের রাজনের পরিচয় হয়। তিনি আমার দেশ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আমার কাছ থেকে জানেন। তাছাড়া রাজনের পরিবার সম্পর্কে সব কিছু জেনে গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন আমার বোন। ৩০ এপ্রিল ঢাকা কোতোয়ালি কোর্ট হাউজ স্ট্রিট বার ভবনে মারদিয়ানা-রাজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এক সপ্তাহ থেকে ইন্দোনেশিয়া চলে যায় মারদিয়ানা। আবার ২১ আগস্ট রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামে মারদিয়ানা। পরে বিকেলে তাকে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর নড়িয়া পৌরসভার লোনসিং নিয়ে আসি। শুক্রবার জাকজমকপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমার বাড়ি নড়িয়া থেকে মারদিয়ানাকে রাজনের হাতে তুলে দিই।

অনুষ্ঠানে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী, নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ, ওসি (তদন্ত) আবু বকর মিয়া, নড়িয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহিদুল ইসলাম সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নড়িয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ী বলেন, প্রেমের টানে ইন্দোনেশিয়ান তরুণী বাংলাদেশে চলে এসেছে। নড়িয়াতে তাদের অনুষ্ঠানে এসে বেশ ভালো লাগলো। নড়িয়াতে এই প্রথম এমন অনুষ্ঠানে যোগ দিলাম। দোয়া করি তাদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক।

মারদিয়ানা সাংবাদিকদের জানান, রাজনের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসেছি। রাজনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। আমি বিষয়টি আমার মা-বাবাকে জানিয়েই এসেছি। এ দেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ভালোবাসায় মুগ্ধ আমি।

পাড়া-প্রতিবেশিসহ আশপাশের অনেই আসছেন বিদেশি তরুণীকে দেখতে। অনেকেই তার সাথে তুলছেন সেলফি। সেলফি বা ছবি তুলতে ভুল করেননি দাওয়াত খেতে আসা সংশ্লিষ্ট থানার ওসিও।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়