logo
  • ঢাকা রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬

সুনামগঞ্জে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী, বাড়ছে দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
|  ১৫ জুলাই ২০১৯, ১১:৪১
সুনামগঞ্জ
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে জেলা শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায়। এ জন্য তিন শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

সরকারি হিসেবে বন্যায় জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেব মতে, প্রায দেড় লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান বানবাসী মানুষ।  সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে পানি কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর  ও সুনামগঞ্জ-ছাতক, জামালঞ্জ-সুনামগঞ্জ, দিরাই-সুনামগঞ্জ, শাল্লা-সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা-সুনামগঞ্জ সড়কের কয়েটি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে তাহিরপুর-টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বরকত উল্লাহ্ খান ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এছাড়া টাঙ্গুয়া হাওরের বানবাসী মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করেছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ ইমতিয়াজ।

তাহিরপুরের ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ জানান, তাহিরপুর উপজেলার ৭ ইউনিয়নই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তা-ঘাটসহ প্রায় ২৪০০ ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ চলমান রয়েছে। ৩৯ টন চালের মধ্যে ৩০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সব চাল বিতরণ করা হবে। বন্যার্থদের আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য উঁচু স্কুলগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ২৪৮ মেট্রিকটন চাল, নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩ হাজার ৭৬৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।  সেই সাথে আরো ৫০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং ৫ হাজার ২৩৫ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুদ রয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে।

জেলা জনসস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল কাশেম জানান, বন্যায় আক্রান্ত উপজেলাগুলোর ১০ হাজার নলকূপ বন্যার পানিতে ডুবে আছে। ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার মৎস্য খামারিদের ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

সিভিল  সার্জন  ডাক্তার আশুতোষ দাশ জানান, বন্যায় আক্রান্তরা যাতে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন, সেজন্য তারা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • দেশজুড়ে এর সর্বশেষ
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়