logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

মেহেরপুরে পালিত হচ্ছে মুজিবনগর দিবস

মেহেরপুর প্রতিনিধি
|  ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:০১
নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মেহেরপুরে পালিত হচ্ছে মুজিবনগর দিবস। বুধবার ভোরে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর স্মৃতি সৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি ও পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও মুজিবনগর আম্রকাননে দিবস পালনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন।

অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে স্মৃতিসৌধে মন্ত্রীপরিষদ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এতে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্বপন।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। জাতি এ দিন যথাযোগ্য মর্যাদায় মুজিবনগর দিবস উদযাপন করছে।

৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অস্থায়ী সরকার সফল নেতৃত্ব দেয়। এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়।

২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে এ দিন ঘোষিত ঘোষণাপত্রে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হয়।

সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়াও তাজউদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

অপরদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ১১ এপ্রিল দেশবাসীর উদ্দেশে বেতার ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। এরমধ্য দিয়ে মানুষ জানতে পারে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার জন্য একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে।

এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়