• ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিয়ানীবাজারে হাসপাতালে ভাংচুর

সিলেট প্রতিনিধি
|  ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৫
বিয়ানীবাজার ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতাল; ছবি; আরটিভি অনলাইন
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থায়নে তৈরি সিলেটের বিয়ানীবাজার ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে রোগীর স্বজনেরা। এ সময় তারা হাসপাতালের মূল্যবান জিনিসপত্রও ভাংচুর করে। হামলায় হাসপাতালের নার্সসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লক্ষাধিক টাকার মালামাল।

whirpool
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত আজিম উদ্দিনের মরদেহ তার স্বজনেরা বাড়ি নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল মাথিউরা ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন (৬৫) শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিয়ানীবাজার ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ শুক্রবার সকালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর মৃতের স্বজনেরা এ হামলা চালায়।

হাসপাতালে হামলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিয়ানীবাজার ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর খবর শুনে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে তাদের ব্যবস্থাপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ‍দেখেছি, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া আজিমউদ্দিন যে ধরনের রোগী সেরকম রোগের কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই। এমনকি বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের মৃত্যু সনদপত্র দেয়ার কোনও ফরমেটও তাদের কাছে নেই। তাছাড়া রোগীর স্বজনরা আজিম উদ্দিনকে অনেকবার সিলেটে ভালো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইলেও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

মেয়র অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রবাসীদের অর্থে পরিচালিত এই হাসপাতালে শুধু জ্বর, কাশিসহ সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। একটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসক না থাকার পরও কিভাবে এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা করা হয়।

বিয়ানীবাজার ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মকসুদ মূর্শেদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এই হামলাটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগী আসবে। চিকিৎসায় সুস্থ হবে কিংবা মারা যাবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। হামলায় বেশ কয়েকজন ডাক্তার-নার্স-কর্মচারী আহত হয়েছেন। ভেঙে দেওয়া হয়েছে কমপিউটার, ফ্রিজসহ বেশ কিছু আসবাবপত্র। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হামলায় বিষয়ে জানতে চাইলে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবণীশংকর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। হাসপাতালের গ্লাস, কমপিউটার ভাঙা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়