DMCA.com Protection Status
  • ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬

খাল নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই নড়িয়াবাসীর

মো. আবুল হোসেন সরদার, শরীয়তপুর
|  ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৫২ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৮
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষা ইউনিয়নের সুরেশ্বর খালের উৎসমুখে ইউ টাইপ ড্রেন নির্মাণ করার ফলে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খালের ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শুকনা মৌসুমে পানির অভাবে ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক। ফলে এই এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।

জানা যায়, জেলাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে একনেকের এক বৈঠকে শরীয়তপুর জেলায় ৫৯টি খাল খননের অনুমোদন দেয়া হয়। এরমধ্যে ঘড়িষা ইউনিয়নের সুরেশ্বর খাল ও মুলগাঁও খাল খনন ও পুনঃখনন এবং নিষ্কাশন প্রকল্পে এক কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য আট কিলোমিটার। গেল বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে কাজ চলমান থাকা অবস্থায় উন্মুক্ত খালের উৎসমুখে অবৈধ স্থাপনা ও দখলকারী প্রভাবশালীদের তদ্বিরে সুরেশ্বর দরবার শরিফের সামনে একটি কালভার্ট ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এটি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ হওয়ায় এলজিইডি খালের ওপর এক মি.মি আরসিসি ইউ টাইপ ড্রেন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। বর্তমানে ওই স্থানে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে।

স্থানীয়রা বলছেন ড্রেনটি নির্মাণ করা হলে এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি খালের ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। শুকনা মৌসুমে পানির অভাবে ধান চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক।

সুরেশ্বর এলাকার কৃষক কবির বেপারী বলেন, খালের উৎসমুখ বন্ধ করা হলে ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। নৌকা চলাচল করতে পারবে না। 

এদিকে খাল খননের কাজ বন্ধ থাকার কারণে চলতি বছরেই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার একর জমি অনাবাদী রয়ে গেছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।  

ইছাপাশা এলাকার কৃষক মিয়াজান মৃধা জানান, এ বছর সেচের অভাবে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার একর জমি অনাবাদি থাকবে। এতে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিবে। আমরা জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন-নিবেদন করেও কোনও ফল পাইনি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র বৈদ্য আরটিভি অনলাইনকে বলেন, খাল খনন শুরু করার কিছুদিন পরেই বর্ষা মৌসুম চলে আসে। যে কারণে খনন বন্ধ হয়ে যায়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে খনন কাজ শুরু করা হবে।

সুরেশ্বর খালের উৎসমুখে ইউ টাইপ ড্রেন নির্মাণ করার প্রসঙ্গে শরীয়তপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সুরেশ্বর দরবার শরিফের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহম্মেদের সুপারিশে মন্ত্রণালয়  এখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। টাকা পাওয়ার পরেই আমরা কাজ শুরু করেছি।

বিষয়টি সম্পর্কে ঘড়িষা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রব বলেন, দীর্ঘদিনেও সুরেশ্বর খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন না হওয়ার কারণ আমার জানা নেই। উন্মুক্ত খালের উপর ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে কিনা তাও আমি জানি না। এলজিইডির কোনও কাজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদন ছাড়া হওয়ার কথা নয়।

আরো পড়ুন:

 

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়