• ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫

নোবিপ্রবিতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতি রক্ষার দাবি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
|  ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১ | আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৬
বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ। একাত্তরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকৃতিস্বরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয়। তাদের একজন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গানবোট ‘পলাশ’ বাঁচানোর চেষ্টায় শহীদ হন তিনি।

১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল আমিন। তার বাবা আজহার পাটোয়ারী ও মা জুলেখা খাতুন। পড়াশোনা শেষে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন তৎকালীন পাকিস্তান  নৌবাহিনীতে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রুহুল আমিনের কর্মস্থল ছিল চট্টগ্রাম। দেশের টানে, দেশকে শত্রুমুক্ত করতে নৌঘাঁটি থেকে বেড়িয়ে পড়েন তিনি৷ যোগদান করেন মুক্তিযুদ্ধে। অংশ নেন জল ও স্থলযুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানে৷ পরবর্তীতে বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এসময় নৌবাহিনীর গানবোট ‘পলাশ’র প্রধান ইঞ্জিনরুমে আর্টিফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর শহীদ হন।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন নোয়াখালীর সন্তান অথচ নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে নেই কোনও হল, ভাস্কর্য ও স্থাপনা। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে পার করতে যাওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। অথচ অনেক শিক্ষার্থীই জানেন না নোয়াখালীতে একজন বীরশ্রেষ্ঠ আছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় দুটি নির্মাণাধীন হলসহ পাঁচটি আবাসিক হল থাকলেও কোনোটির নামকরণেই ঠাঁই পায়নি এই বীরশ্রেষ্ঠের নাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র সালমান হৃদয় বলেন, যিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছেন দেশের জন্য, মাতৃভূমির জন্য অথচ তার নিজ জেলায় অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে তার নামে কোনও স্থাপনা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোমিনুল হক আরটিভি অনলাইনকে জানান, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন শুধু নোয়াখালী জেলার নয়, গোটা জাতির। তার নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকাটা আসলেই লজ্জার ও দুঃখজনক। তার নামে স্থাপনার নামকরণের প্রস্তাব কয়েকবার উঠেছিল।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবারের সাথে কথা হলে তার দৌহিত্র সোহেল চৌধুরী  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির নামই বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন এর নামে হবার কথা ছিল। কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক ফ্যাসাদে তা আর হয়নি। এ নিয়ে আমাদের কোনও আফসোস নেই। আজ হোক আর পঞ্চাশ বছর পর হোক, জাতি ঠিকই এই নামগুলো খুঁজে নেবে। তাদের নিজেদের পরিচয়ের জন্য, নিজের ইতিহাসের জন্য।

নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ন্যূনতম হলেও অবশ্যই একটি হল থাকা উচিত।  আমরা যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখি, সেখানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামেই সব হলগুলোর নামকরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নানা অঙ্গ সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে হলের নামকরণ, স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা ভাস্কর্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের নামানুসারে।

আরএস/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়