• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৪

এক সেতুর অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

এম. মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
|  ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:৪০ | আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:০২
রাজবাড়ী জেলার কালুখালী রতনদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা নদীর ওপর কোনও সেতু না থাকায় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই এলাকার ২৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। তাও এবার বর্ষায় সেই সাঁকোও ভেঙে গেছে। 

মাত্র একটি সেতুর অপেক্ষায় রয়েছেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রামের  মানুষদের। 

শুকনো মৌসুমে শত কষ্ট সয়ে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের শেষ থাকে না এসব অঞ্চলের মানুষের। শুধু দুর্ভোগই নয় এসময় অনেক ছাত্র-ছাত্রীর স্কুল-কলেজে যাওয়া আসাও বন্ধ হয়ে যায়। এখন একটি সেতুতেই শেষ হতে পারে ২৫ গ্রামের দুর্ভোগ।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রতনদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পশ্চিম হারুয়া, মাধবপুর, কামিয়া, হরিনবাড়ীয়া, কৃষ্ণনগর ও ভাঘলপুরসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। এসব চরাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে রয়েছে পদ্মানদীর ছোট্ট একটি শাখা। যা নদীর কোল হিসেবে পরিচিত। আর এসব অঞ্চলের দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষ যাতায়াত করে গঙ্গারামপুর হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে। এসব অঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরের যাতায়াতের বিকল্প রাস্তাও নেই।

এই ঘাটে রয়েছে প্রায় ১শ’২০ মিটার লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো। শুকনা মৌসুমে সবার ভরসাই এই সাঁকো। শুধু মানুষই নয় মোটরসাইকেলসহ রিকশা ও ভ্যানের ভরসাও এই সাঁকো। তবে পরিস্থিতি পাল্টে যায় বর্ষা মৌসুমে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এই কোলের পানিও। ফলে একাংশ তলিয়ে গিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। তখন এ অঞ্চলের মানুষ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও হাট-বাজারে যাতায়াত করে খেয়ানৌকা দিয়ে।

ঘাটেও মাত্র একটি খেয়া নৌকা রয়েছে পারাপারের জন্য।  সাঁকোতে মাত্র এক টাকায় যাতায়াত করতে পারলেও  খেয়ানৌকায় যাতায়াতে গুনতে হয় জনপ্রতি পাঁচ টাকা।

কৃষ্ণনগর গ্রামের জয়নাল মণ্ডল নামের এক বৃদ্ধ বলেন, বছরের পর বছর ধরে আমরা এভাবে পারাপার হয়ে আসছি। আগে এই সাঁকোও ছিল না। শুকনা মৌসুমে কোলের তলদেশ দিয়ে কাদাজলে পায়ে হেটে ও বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। এই ঘাটে একটি সেতু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমতো।

আশিকুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমানে সাঁকো পানির তোড়ে ভেঙে গেছে, চলাচল করা যায় না। আমরা ঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারি না।

রতনদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লতিফ মোল্লা বলেন, ২৫ গ্রামের মানুষের চলাচল একমাত্র এই সাঁকো দিয়ে। বর্ষায় সেই সাকোটিও ভেঙে গেছে। এটা দিয়ে মানুষ এখন আর চলাচল করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে খেয়ানৌকায় পার হচ্ছে। কিন্তু মাত্র একটি খেয়া নৌকা থাকায় সেখানেও চরম ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে। 

রফিকুল ইসলাম নামের এক স্কুল শিক্ষক আক্ষেপ করে জানালেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এই ঘাটে পাকা ব্রিজ হবার কথা শুনছি। কিন্তু সব এমপি-মন্ত্রীই জনগণকে শুধু আশ্বাস দেন। কাজ হয় না।

রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন নিলুফা বলেন, পাঁচ বছর আগে কালুখালি উপজেলা পরিষদ এই সাঁকো নির্মাণ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আমি রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আরও দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি সংস্কার করে দিয়েছি। শুকনা মৌসুমে এই সাঁকোর ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও এবার বর্ষায় পানি তোড়ে তা ভেঙে যাওয়ায় মানুষজন আর চলাচল করতে পারছে না। 

তিনি বলেন, সেতুর অভাবে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলের বর্ষায় ও নদী ভাঙনের শিকারে ক্ষতিগ্রস্তদের সময়মত ত্রাণ বিতরণেও ঝামেলা হচ্ছে। চরাঞ্চলে স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় রোগী বা প্রসূতিদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেয়া যায় না। পরিবহনের অভাবে চরাঞ্চলের কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের উপযুক্ত দাম পায় না।
ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব অঞ্চলের মানুষ। এখান দিয়ে মাত্র একটি সেতু হলেই পাল্টে যেত এসব অঞ্চলের চিত্র। 

তিনি আরও বলেন, এলজিইডি’র রাজবাড়ীর প্রধান প্রকৌশলী পরিদর্শন করে পিজিভিলিটি ও প্রকলন তৈরি করে ঢাকায় প্রেরণ করেছেন। আশা করছি সরকার খুব শিগগিরই এখানে একটি সেতু তৈরি করবে।

কালুখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তোফায়েল আহমেদ আরটিভি অনলাইনকে জানান, পদ্মার শাখা নদীর ওপারে রতনদিয়া ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সার্বিক কাজে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমেও ওইসব চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাঘবে আমি শীঘ্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করব।

আরও পড়ুন :

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়