logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬

ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই, পর্যটন খাতে সম্ভাবনাময় আলীকদম এখনো পিছিয়ে

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান
|  ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:১৭ | আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৫৫
বান্দরবানের পার্বত্য আলীকদম উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের শ্যামল আঙ্গিনায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এখনো পিছিয়ে রয়েছে এ উপজেলা। উপজেলায় আবাসন সংকট ও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।  

সরকারি ছুটি ছাড়াও মানুষ প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক আলীকদম-থানচি সড়ক এবং এর মাঝামাঝি পয়েন্টে ডিম পাহাড়সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। 

এছাড়া আলীকদমে রয়েছে আলীর সুড়ঙ্গ, দামতোয়া ঝর্না, রূপমুহুরী ঝর্না, ওয়াংপা ঝর্ণা, মেরাংতং ঝর্ণা ও নুনার ঝিরি ঝর্ণাসহ প্রচুর পর্যটন স্পট।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মিজানুর রহমান, শিউলি আক্তার এবং শাহজানসহ বেশ কয়েকজন পর্যটক জানান, যোগাযোগ ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে আলীকদম। পর্যটকদের জন্য আবাসন সংকটও রয়েছে। এছাড়াও খাওয়া দাওয়ার এবং হোটেল-মোটেল গুলোসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোকে আরও ঢেলে সাজানো গেলে প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে। 

তারা আরও জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এতে এই উপজেলা পর্যটন খাতে অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে নিশ্চিতভাবে। তাদের মতে, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য সেরা স্থান হতে পারে প্রাকৃতিক ঝর্না দামতোয়া। 

আলীকদম শৈলকুঠি রিসোর্টের পরিচালক মমতাজ উদ্দিন আহমদ জানান, আলীকদম উপজেলাতে এ পর্যন্ত কোনও আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেনি এবং সরকারিভাবে রেস্ট হাউজ সুবিধাও তেমন নেই। তাই পর্যটকদের কথা বিবেচনায় রেখে কয়েকজন  আলীকদমকে পর্যটকবান্ধব করতে উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছে এই রিসোর্ট ও কটেজ। 

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, পর্যটন খাত নিয়ে এমন সম্ভাবনার পাশাপাশি হতাশার দিকও আছে। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা ও প্রচার নেই বলে পাহাড়ের সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখনো পিছিয়ে আছে।

আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, আলীকদম উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোকে কিভাবে আরও সাজানো যায় সরকার ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভাগ একটু নজর দিলে পর্যটন খাতে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে আলীকদম উপজেলার সবচেয়ে উঁচু পয়েন্টে ডিম পাহাড়, আলীর সুড়ঙ্গ, দামতোয়া ঝর্নাসহ পর্যটন স্পটগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং পর্যটন স্পটগুলোকে আরও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আলীকদমে অনেক পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব পর্যটন স্পটগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশি-বিদেশী প্রচুর পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পর্যটকদের থাকা ও পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজিমুল হায়দার বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় পর্যটন স্পটগুলোর সার্বিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নতুন করে কাজ করা হচ্ছে। এটি পর্যটন জোন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা গেলে এখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটকের আগম ঘটবে। উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব যাতায়াত ব্যবস্থাটি স্বাভাবিক করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন :

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়