• ঢাকা সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১
logo

২ লাখ টাকা উৎকোচ না দেওয়ায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট 

কুমিল্লা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৮ জুন ২০২৪, ২১:৪৪
২ লাখ টাকা উৎকোচ না দেওয়ায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট 
ছবি : আরটিভি

কুমিল্লায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকে ২ লাখ টাকা উৎকোচ না দেওয়ায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়াই চার্জশিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৮ কুমিল্লা জোনের এসআই (নিরস্ত্র) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। কোনো প্রকার তদন্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই ওই পুলিশ কর্মকর্তা যুগান্তরের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে একটি মানহানি মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে কুমিল্লা পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ দিকে ওই কর্মকর্তার এমন অপেশাদার কর্মকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় ‘কুমিল্লার বরুড়ায় পাঁচ প্রভাবশালীর নিয়ন্ত্রণে দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। যুগান্তর প্রতিনিধি আবুল খায়ের ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংরক্ষণে রেখেই ওই সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই সংবাদে মানহানি হয়েছে দাবি করে সংবাদ প্রকাশের দুদিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর বরুড়া পৌরসভার মেয়র বকতার হোসেন বাদী হয়ে সাংবাদিক আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কুমিল্লা জোনকে মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। এতে ওই জোনের এসআই মনিরুল ইসলাম তদন্ত ভার গ্রহণ করেন। পরে যুগান্তর প্রতিবেদক আবুল খায়েরকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কুমিল্লা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। যুগান্তর প্রতিবেদক ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় কোন প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ এবং সংরক্ষিত ডকুমেন্ট না দেখেই গোপনে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে দাবি করেন। এ সময় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার। এ দিকে কোনো প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা ছাড়া একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট প্রদান করায় কুমিল্লায় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে। ওই তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোরালো দাবি উঠেছে।

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফুর রহমান বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন অপেশাদার কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, সাংবাদিক আবুল খায়ের একজন পরিচ্ছন্ন মেধাবী সংবাদকর্মী। তাকে হয়রানি করা মানে কুমিল্লার পেশাদার সাংবাদিক সমাজকে হয়রানি করা।

কুমিল্লা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস বলেন, একজন সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বিষয়টি নিয়ে আমরা আন্দোলন করবো এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসআই মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওই সংবাদকর্মীর কাছে ঘুষ দাবি করিনি।’

কোনো প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কেন চার্জশিট দিলেন? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কুমিল্লা ইউনিটের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং তথ্য-উপাত্ত ছাড়া একজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া মোটেও ঠিক না। অবশ্যই বাদী বিবাদীর কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত নিতে হবে। ওই তদন্ত কর্মকর্তা যদি ঘোষ দাবি করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীকে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। আমি বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করব।’

মন্তব্য করুন

daraz
  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মেঘনায় বাল্কহেডে নৌ-পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৩ 
কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিস এলাকায় ৫ দালাল আটক
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদের প্রতিবাদ
থানায় পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ