Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২, ৭ মাঘ ১৪২৮
discover

‘একজনও বাঁচল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব’

'একজনও বাঁচলো না, কি নিয়ে বেঁচে থাকবো' 
ফাইল ছবি

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে একে একে পাঁচটিই মারা গেল। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে থাকা সবশেষ কন্যা শিশুটি মারা গেছে।

এর আগে একে একে একমাত্র ছেলে শিশুসহ চারজন মারা যায়। সবশেষ শিশুটি মৃত্যুর পর চরম শোকাহত হয়ে পড়েছে শিশুটির বাবা-মাসহ পুরো পরিবার।

গত মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন ছাড়াই একসঙ্গে চার কন্যা ও এক ছেলে শিশুর জন্ম দেন সাদিয়া বেগম (২৪)। শিশুদের ওজন তুলনামূলক কম ছিল। মা সাদিয়া খাতুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সোহেল রানার স্ত্রী।

ডাক্তার নাজিম উদ্দিন বলেন, গর্ভধারণের পাঁচ থেকে ছয় মাসের মাথায় জন্ম হওয়ায় শিশুদের প্রত্যেকের ওজন কম হয়েছিল। এ কারণে বাচ্চাদের বাচাঁনো কঠিন হয়েছে। এই ধরনের শিশুর জন্য যে ধরনের আইসিইউ সাপোর্ট দরকার, সেই মানের আইসিইউ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেই। পাঁচ বাচ্চার প্রসবেও অনেক ঝুঁকি ছিল। জন্মের পর পরই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিশুদের বাবা সোহেল রানা আরটিভি নিউজকে বলেন, পাঁচ সন্তানের জন্মের পর খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি খুশি এত দ্রুত হারিয়ে যাবে। একজনও বাঁচল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব। ডাক্তাররা ঢাকায় নেওয়ার কথা বললেও প্রথমত টাকা-পয়সার সমস্যার কারণে নিতে চাইনি। পরদিন ৩ নভেম্বর সকালে একমাত্র ছেলেশিশুটি মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ ৩০ হাজার টাকা দিলে ঢাকায় নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিই। কিন্তু বাচ্চাদের ওই অবস্থায় ৬-৭ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সের অক্সিজেন সাপোর্টে টিকে থাকা নিয়ে চরম শঙ্কা থাকায় নেওয়া হয়নি। ওদিনই ২টার দিকে আরও এক শিশু মারা যায়। ৩টার দিকে আরও একটির মৃত্যু হয়। আর গেল রাত ১২টার পরে আরও একটি (চতুর্থ শিশু) মারা যায়। সবশেষ বেঁচে থাকা কন্যাশিশুটিকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম।

জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীন আক্তার সুমন আরটিভি নিউজকে বলেন, শিশুর অক্সিজেন চলছিল। শিশু ওয়ার্ডের দুই নম্বর রুমের নবজাতক ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে শেষ শিশুটিও না ফেরার দেশে চলে যায়।

কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাদিয়া খাতুন আর সোহেল রানার বিয়ে হয় ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই। এর আগে তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

এমআই/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS