Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ০৮ অক্টোবর ২০২১, ১৬:০২
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ১৬:০৫

উত্তরের যাত্রায় যানজট এখন নিত্যসঙ্গী

উত্তরের যাত্রায় যানজট এখন নিত্যসঙ্গী
উত্তরের যাত্রায় যানজট

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে হেলেদুলে কচ্ছপ গতিতে চলা যানবাহনগুলো দেখে মনে হচ্ছে, এখনই কাত হয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ‘নলকা সেতু’ এলাকার দুর্ভোগ যেন এ পথের যাত্রীদের নিত্যসঙ্গী। এরপরও ঝুঁকি আর আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৩ জেলার হাজার হাজার পরিবহন।

নলকা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একদিকে যেমন যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে অন্যদিকে সেতুটির ওপরের সংযোগস্থলগুলো ও রাস্তায় প্রায়ই মেরামত করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখা যায়নি। ফলে ইচ্ছা করলেও সেতুতে দ্রুত গাড়ি পারাপার সম্ভব না হওয়ায় কখনও দীর্ঘস্থায়ী আবার কখনো থেমে থেমে যানজট লেগেই আছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ নলকা সেতুর পশ্চিম পাশে সৃষ্ট হয়েছে বিশাল আকারের বেশ কয়েকটি গর্ত। সেতুর ওপরের অংশে উঠে গেছে কার্পেটিং। জয়েন্টগুলো হয়ে পড়েছে নড়বড়ে। সেতুর ৫০ মিটার দূর থেকেই কমিয়ে দিতে হচ্ছে গাড়ির গতি। এ কারণে সেতুর উভয়প্রান্তে সবসময়ই শত শত যানবাহন আটকে থাকে। পর পরই দুইপাশে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরেই এমন অবস্থা চললেও টনক নড়েনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

বগুড়া থেকে আসা হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসচালক শহিদুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, নলকা সেতু ও সড়ক সংস্কার না করায় যানবাহনগুলোকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। রাস্তার এই সামান্য অংশে খারাপ অবস্থার কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বগুড়া থেকে ঢাকা যেতে আমাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এমন যানজট নিত্যসঙ্গীতে পরিণত হয়েছে।

বাসচালক কাইয়ুম হোসেন, হায়দার আলী, সুপার ভাইজার রফিকুল ইসলাম, শাহেদ আলী, আকরাম হোসেন, ট্রাকের হেলপার আবদুল জলিলসহ অনেকেই আরটিভি নিউজের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জ রোড (হাটিকুমরুল গোলচত্বর) এলাকায় এলেই আতঙ্ক শুরু হয়। কতক্ষণের মধ্যে এই অংশটুকু পার হতে পারব, সেটাই শুধু ভাবি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও যানজট মুক্ত হওয়া সম্ভব হয় না।

একাধিক পরিবহণ শ্রমিক, যাত্রী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য নলকা সেতুটি একটি বিড়ম্বনার নাম। এ সেতুর ওপরে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালাতে হয়। এতে সৃষ্টি হয় যানজট। কখনো যানজট তীব্র হয়ে হাটিকুমরুল-বগুড়া, হাটিকুমরুল-পাবনা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, নলকা সেতুটির খুবই খারাপ অবস্থা। সেতুর দুইপাশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর ওপরও রয়েছে খানাখন্দ। এখানে এসেই গাড়ির গতি পাঁচ-সাত কিলোমিটারে নামিয়ে দিতে হয় চালকদের। এরই ফলেই প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক সালেকুজ্জামান সালেক আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, নলকা সেতুকে ঘিরে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুর পশ্চিমপাশে বিশাল আকৃতির অনেকগুলো গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক বিভাগকে বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, সেতুর পশ্চিমাংশে বেশ কিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো তুলে কার্পেটিং করতে হবে। বৃষ্টির কারণে এখন কাজগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টির মৌসুম শেষ হলেই দ্রুত কার্পেটিং করা হবে। কার্পেটি শেষ হলেই যানজটও কমে যাবে।

এমআই/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS