Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

স্কুলের ৮০০ কেজি বই বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক

স্কুলের ৮০০ কেজি বই বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক
বই বিক্রি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাধ্যমিক শ্রেণির সরকারি পাঠ্যপুস্তক বই কেজি দরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বইগুলো শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের। ভূনবীর দশরথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক স্তরের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইগুলো ভাঙারি হিসেবে শ্রীমঙ্গলের একটি ভাসমান ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করে দেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ঝলক চক্রবর্তী।

ফেরিওয়ালা বইগুলো শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ সড়কের চিত্রালী সিনেমা হল সংলগ্ন ইউসুফ আয়রন মার্ট নামে একটি ভাঙারি দোকানে বেশি দামে বিক্রি করে দেয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দোকানে গিয়ে শ্রমিকরা বইগুলো ওজন মাপার যন্ত্রে মেপে মেপে গুদামজাত করতে দেখা যায়।

বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, গণিত, ইংরেজি, সাধারণ বিজ্ঞান, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, গাহস্থ বিজ্ঞান, পৌরনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই। বইগুলো ঘেঁটে দেখা গেছে এর মধ্যে ২০২০ শিক্ষা বষের্র নতুন বই ও ২০১৯ শিক্ষা বষের্র পুরাতন কিছু উইপোকায় নষ্ট হওয়া কিছু বই।

ইউসুফ আয়রন মাটের্র মালিক ইউসুফ বলেন, তিনি ফেরিওয়ালার কাছ থেকে ৮শ কেজি বই ১২ টাকা দরে কিনেছেন।

বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের দফতরি রাম গোপাল দাশ এই বইগুলো ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করেন। তবে তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের নির্দেশেই বইগুলো বিক্রি করেছি। প্রধান শিক্ষক পুরান বইগুলো বিক্রি করে কক্ষ পরিষ্কার করার জন্য বলায় সব বই বিক্রি করে দিয়েছি।’

ভূনবীর দশরথ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ঝলক চক্রবর্তী বলেন, স্কুলের দফতরিকে বলেছিলাম যে স্কুলের কিছু পুরাতন বই উইপোকায় কেটে ফেলেছে। সেসব নষ্ট বই ও কিছু ব্যবহৃত কাগজপত্র বিক্রি করে দেয়ার জন্য। দফতরি সেই বইগুলোর সঙ্গে ভুলক্রমে ২০২০ সালের বই বিক্রি করে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। সরকারি বই কেজি দরে বিক্রি করার নিয়ম নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এভাবে বই বিক্রি করতে পারেন না।’

মৌলভীবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জিএম

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS