Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৩
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২৭

বন্যায় শিক্ষার্থীদের আনন্দে ভাটা 

বন্যায় শিক্ষার্থীদের আনন্দে ভাটা
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে স্কুল

সিরাজগঞ্জে যমুনা, ইছামতি ও ফুলজোড় নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, শ্রেণিকক্ষ আর রাস্তাঘাট পানির নিচে সেসব শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

দীর্ঘ দেড় বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন ঘোষণার পর থেকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেতরে-বাইরের ঝোপঝাড়, বাথরুম, জানালা, দরজা মেরামত, রঙের কাজ করাসহ আসবাবপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের নতুন করে বরণ করে নিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো প্রস্তুত হচ্ছিলো। বিদ্যালয় খোলার আনন্দে শিশুরাও হয়ে ওঠেছে প্রাণচঞ্চল। বন্যার কারণে সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় স্কুলে যাবার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পানিবন্দী এসব বিদ্যালয়ের কোমলমতি হাজারও শিশুরা।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছোনগাছা পারপাচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের চারপাশে পানি থইথই করছে। স্কুলে যাতায়াতের রাস্তাটি হাঁটু পানির নিচে। আর বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকেছে। বেঞ্চগুলো বলতে গেলে পানির নিচে রয়েছে। সদর উপজেলার চরসাপড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। যমুনার পানি কমলেও বিদ্যালয়টির অর্ধেকটাই রয়েছে পানির নিচে।

১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খুলছে টেলিভিশনে এমন সংবাদে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বিয়ারা ঘাট এলাকার চরসাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আকাশ শেখ এসেছিলেন তার স্কুলটি দেখতে। তার দুই সহপাঠী সিরাতুল মুস্তাকিম জিহাদ আর মোঃ আকাশকে সঙ্গে করে নৌকাযোগে এসেছিলো স্কুল দেখতে। কিন্তু চাল সমান পানি দেখে সে বিষয়ে হতবাক। পানিতে ডুবে থাকা তার প্রিয় স্কুলটি দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। সদ্য পানি থেকে জেগে ওঠা স্কুল ঘরের টিনের চালে বসে আংশিক ডুবে থাকা স্কুলের সাইনবোর্ডের দিকে খানিকক্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে। এ সময় সঙ্গে থাকা তার দুই সহপাঠী বলে ওঠে হয়তো, স্কুল এবারও খুলবে না। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্কুলের ক্লাস থেকে বঞ্চিত আকাশের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অনিশ্চয়তার দোলাচল।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২৫টি মাধ্যমিক, কারিগরি ও কলেজ এবং ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার চর মালশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরসাপড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিস্তারিণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিপুর উপজেলার পলাশবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন মাইজবাড়ী সরাকরি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এখনো পানি রয়েছে।

অপরদিকে ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু বিদ্যালয়ের পানি নেমে গেলেও যোগাযোগ রক্ষাকারী সড়ক, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে এখনো পানি থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের একটা অংশের ক্লাসে না ফেরার সংশয় রয়েছে।

এদিকে গত দুই বছরে চৌহালী উপজেলার রেহাইমৌশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারবয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আরমাশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রিদাশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২৫টি স্কুল যমুনাগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এবারের বন্যায় প্রায় ৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থানে পাঠদান কক্ষ নির্মাণ হয়েছে। তবে এ বছর বিলীন হয়ে যাওয়া স্কুলগুলোর টিন-কাঠসহ আসবাবপত্রের ঠাঁই হয়েছে কারও বাড়ির উঠান ও খোলা মাঠে।

বন্যা কবলিত ছোনগাছা পারপাচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা খাতুন আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, স্কুলের মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও চারপাশ এখনও পানিবন্দী রয়েছে। কিন্তু এখানকার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা নদী পার হয়ে স্কুলে আসে।

এছাড়াও স্কুলে আসার যে রাস্তাটি রয়েছে তা এখনো পানির নিচে রয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পানি নেমে যাবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তারপরেও স্কুল খোলার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ আরটিভি নিউজকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালুর জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে নদীতে বিলীন হওয়া স্কুলগুলো অন্যের বাড়ি অথবা খোলাস্থানে ঘর তুলে পাঠদানের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। আর স্কুল খোলার বিষয়ে ঘোষণা আসার পর থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য উপযুক্ত করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইমরান খন্দকার আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলায় বন্যা কবলিত ১০৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যমুনা পানি কমে যাওয়ায় অনেক বিদ্যালয় থেকে পানি নেমে স্বাভাবিক হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর শতভাগ স্কুল খোলা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম শফী উল্লাহ আরটিভি নিউজকে বলেন, জেলায় বন্যার কারণে ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার কারণে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব না হলে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠার চালুর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS