Mir cement
logo
  • ঢাকা রোববার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ছিটমহল

উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ছিটমহল
ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের ৬ বছর আজ (৩১ জুলাই)। ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বিনিময় ঘটে ভারত বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলের। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ভারতের মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হয় এই দিনে। সমাপ্তি ঘটে ১৬২ ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের বন্দিদশা।

ছিটমহল বিনিময়ের পর থেকেই বঞ্চিত এ মানুষগুলোকে মূলধারায় যুক্ত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে হাসিনা সরকার। এ কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ সামাজিক নিরাপত্তার মতো নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের সবকিছুই পূরণ করেছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য ছিটমহল গুলোর মতো উন্নয়ন ঘটেছে কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া ছিটমহলেও।

বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের যে ১১১টি ছিটমহলের সবচেয়ে বড় এবং আয়তন ৬ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়া। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ হেড কাউন্টিং ২০১৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে এখানে ১ হাজার ৩৬৪টি পরিবারের ৬ হাজার ৫২৯ জন মানুষের বসবাস। এসব মানুষদের জীবন মানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বদলে গেছে জীবন ব্যবস্থা। ছিটমহলটির বাসিন্দারা পাচ্ছেন আধুনিক সব সুবিধা।

প্রতিটি গ্রামে রয়েছে প্রশাস্ত পাকা রাস্তা। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ। মসজিদ-মন্দির, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সেন্টার, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের নানারকম উন্নয়নমূলক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে এক নতুন জনপদ দাসিয়ারছড়া।

ফুলবাড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি দাখিল মাদরাসা, দুটি কলেজ, ডিজিটাল আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কালীর হাটে কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার, ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি মসজিদ, ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মন্দির, ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটারের একটি ব্রিজ, ৭টি বক্স কালভার্ট, ৩৫টি ইউড্রেন, ১টি কবরস্থান, শ্মশানঘাট ২টি, টিউবওয়েল ৩৮৪টি, কাঁচাপাকা ল্যাট্রিন ১ হাজার ১৫০টি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে হতদরিদ্র পরিবারের ১০টি বসতবাড়ি নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শতভাগ বিদ্যুতের সংযোগ, দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ।

শিক্ষার্থী আতাউর রহমান আরটিভি নিউজকে বলেন, আগে আমাদের ভাইবোনেরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মিথ্যা ঠিকানা দিয়া পড়ালেখা করছে। এখন বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে আমি রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছি। সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি। আমাদের ভাই-বোনসহ সকল শিক্ষার্থী বই ও উপবৃত্তি সব কিছুই পাই।

দাসিয়ারছড়া সমন্বয়পাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হরি প্রসাদ সেন আরটিভি জানান, আমরা স্কুল-কলেজে এখনও বিল বেতন পাইনি। পাঁচ বছর থেকেই বিনা বেতনে চাকুরি করছি। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছি।

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় বাংলাদেশ অংশের দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সভাপতি আলতাফ হোসেন আরটিভি নিউজকে জানিয়েচেন, যখন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় হয়, তখন বাংলাদেশ থেকে ৬৫টি পরিবারের ১০৭ জন হিন্দু এবং ১০০ জন মুসলিম ভারতে যায়। আমাদের এই কালিরহাট বাজারে একটি মসজিদ আছে। তার ঠিক ১০০ গজ দূরে একটি বড় মন্দির আছে। যে যার ধর্ম পালন করছে। আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমরা মুসলিম-হিন্দু মিলে অনেক ভালো আছি। বর্তমান সরকার আমাদের ভালো রেখেছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS