Mir cement
logo
  • ঢাকা শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

পারিবারিক দ্বন্দ্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীর আ'ত্মহত্যা 

পারিবারিক দ্বন্দ্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা 
পারিবারিক দ্বন্দ্বে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা 

বোনের স্মার্টফোন কেনা নিয়ে পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বে হতাশায় ভুগে আত্মহত্যা করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ফারহানুজ্জামান রাকিন। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোমবার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে নিজ বাসায় বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে ডিশের তার বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

খোঁজ পেয়ে রাকিনের পরিবার স্থানীয় ডাক্তার ও আশেপাশের লোকজন ডেকে এনে দরজা ভেঙে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর ঘটনাস্থলে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামসহ ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। তারা ময়নাতদন্তের জন্য রাকিনের লাশ ওইদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। রাকিনের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া থানার শ্রীরামপুর গ্রামে। তার বাবা মনিরুজ্জামান প্রবাসী। মা ও বোনের সঙ্গে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন রাকিন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছোট বোনের (এইচএসসি পরিক্ষার্থী) মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে মা ও বোনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় রাকিনের। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই দ্বন্দ্ব। কলেজ পড়ুয়া ছোটবোন মায়ের কাছে মোবাইল ফোন দাবি করলে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়াশোনার ক্ষতি বলে রাকিন তার মাকে মোবাইল কিনে দিতে নিষেধ করে। সে চেয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর মোবাইল কিনে দিতে। এসব বিষয় নিয়েই মা ও বোনের সঙ্গে রাকিনের মনোমালিন্য হয়। যা চরম আকার ধারণ করে। এতে ছোটবোনের অসদাচরণ সহ্য করতে পারেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

রাকিনের চাচা মিজানুর রহমান বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন রাকিন। রাকিন আমাদের পরিবারের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একমাত্র সন্তান। সে যখন নিখোঁজ হয় তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি, থানায় গিয়েছি। সবার সহযোগিতায় তাকে খুঁজে বের করেছি। এ ঘটনা আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাকিনের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

রাকিনের আত্মহত্যার বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। রাকিনের বন্ধু ও পরিচিতজনরা মেনে নিতে পারছেন না রাকিনের এই মৃত্যু।

নোবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, রাকিনের আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা জেনেছি৷ এর আগে সে যখন নিখোঁজ হয় তখন পুলিশসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করেছি আমরা। পারিবারিক এসব সমস্যা তো পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এসব বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবুও পরিবার থেকে কেউ বললে তাকে আমরা কাউন্সিলিং করতাম। একটা মেধাবী ছেলে এভাবে আত্মহত্যা করল। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক।

ক্যান্টনমেন্ট থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপ-পরিদর্শক) আল-মামুন বলেন, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ অন্যান্য বিষয় হাতে এলে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পি

RTV Drama
RTVPLUS