Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮

ফসলি জমি নষ্ট করে রাজবাড়ীতে চলছে পুকুর খনন

ফসলি জমি নষ্ট করে রাজবাড়ীতে চলছে পুকুর খনন
ফসলি জমি নষ্ট করে রাজবাড়ীতে চলছে পুকুর খনন

রাজবাড়ীতে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি বাণিজ্য করতে হরহামেশা চলছে পুকুর খননের কাজ। লাইসেন্সবিহীন ভেকু যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা সহজ হওয়ায় ও সময় কম লাগায়, ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর কাটার মহোৎসব চলছে জেলাজুড়ে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যায়, ভেকু যন্ত্রে মাটি কাটার শ্রমিকের দরকার হয় না। মাত্র একজন ভেকুচালক ও হেলপার দুইদিনেই একটি পুকুর খনন করতে পারে। প্রশাসনের কোন নজরদারি না থাকার কারণে রাজবাড়ীতে থামছে না অবৈধ পুকুর খনন। তবে মাঝেমাঝে সরকারি জমিতে পুকুর কাটার অভিযোগে কিছু অভিযান পরিচালিত হলেও কোন লাভ হচ্ছে না। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেটচক্র বর্ষা পরবর্তীতে ও বর্তমানে অতিমাত্রায় খরা হওয়ায় আবারও মেতে উঠেছে ফসলি জমিতে পুকুর খননে।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক এসএম আকবর আরটিভি নিউজকে বলেন, অপরিকল্পিত ও অবৈধ পুকুর খননের ফলে দিন দিন বিভিন্ন ব্লকের ২-৩ ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। গত ৩ বছরে জেলার পাঁচ উপজেলায় অনেক ফসলি জমি কমে গেছে।

একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকার কিছু দালালদের অর্থের বিনিময়ে হাত করে প্রকাশ্য দিবালোকেই পুকুর খননের কার্যক্রম শুরু করছে। এমনি পুকুর খননের মহোৎসব চলছে জেলার সর্বত্র।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) জেলার পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুরে গিয়ে দেখা যায়, কালুখালি উপজেলার বাসিন্দা মাটির দালাল শমসেরের তত্ত্বাবধানে ফসলী জমিতে অবৈধভাবে দীঘি খনন করা হচ্ছে। এই রকম দৃশ্য পাংশা উপজেলার সব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেই চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও জেলা সদর, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি ও কালুখালি উপজেলায়ও হরহামেশা চলছে এই পুকুর কাটার নামে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি বাণিজ্য।

বিভিন্ন সময় অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। এই সকল অভিযানে ভেকুর যন্ত্রাংশ নষ্ট করা হলেও লাভ হয়নি মোটেও। নতুন করে ভেকু এনে আবারও দীঘি খনন কাজ শুরু করা হয় সেখানে। এদিকে এই পুকুর খননের বিরুদ্ধে এবং এলাকায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে প্রতিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিনিয়তই আসছে অভিযোগ।

পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষি জমির (টপসয়েল) ও পুকুর খননের মাটি কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে কতিপয় প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। আবার এই মাটি ট্রাকে পরিবহন করায় রাজবাড়ীর পুনঃ নির্মাণাধীন নতুন আঞ্চলিক মহাসড়কসহ প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সদ্য নির্মিত পাকা রাস্তাও ভেঙেচুড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আর জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে পুকুর খনন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ আইন অনুয়ায়ী, কৃষি জমির মাটিকাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া, বাহাদুরপুর, হাবাসপুর, সরিষা এলাকায় কৃষি জমির মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়। আবার খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক ভর্তি করে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। এসব ট্রাকের অবাধ চলাচলের কারণে সদ্য নির্মিত রাস্তাগুলো ভেঙেচুড়ে একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া ওই সব ট্রাক থেকে মাটি পড়ে ধুলোবালির স্তুপ জমে যাওয়ায় ওই সব রাস্তা দিয়ে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, এই সমস্যাটি পাংশায় চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় তুলে ধরে একটি রেজুলেশন করা হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হচ্ছে না।

পাংশা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এসব কারণে প্রতি মৌসুমে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার উপরে। বর্ষার সময় জলাবদ্ধতার কারণ পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন ব্রিজ কালভাটের মুখ বন্ধ করে সেখানে মাছ চাষ করার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ জন্য পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহলের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও তার তোয়াক্কা করছেন না স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। তারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এলাকার হাজার হাজার কৃষকের পেটে লাথি মারতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। এভাবে দীঘি খনন করা হলে ফসল উৎপাদনসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধনসহ ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। বর্ষার পানি সহজে নামবে না। ফলে বাড়িঘর ও ফসলাদি ডুবে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হব।

এ বিষয়ে কয়েকজন দীঘি খননকারীর সঙ্গে কথা হলে তারা ফসলী জমির কথা অস্বীকার করে বলেন, জমিগুলো সারা বছর কচুরিপানার কারণে অনাবাদী পড়ে থাকে। তাই সেখানে পুকুর খননের উদ্যোগ নিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনভাবেই পাংশায় আর পুকুর খনন করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে খবর পাওয়া মাত্রই অতি দ্রুত সেখানে গিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুকুর খননকারী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

পি

RTV Drama
RTVPLUS