logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

কৃষক লীগের সভাপতি মুফতি হান্নানের খালাতো ভাই, কমিটি বাতিলের দাবি

Krishak League president Mufti Hannan's cousin demanded the cancellation of the committee
কমিটি বাতিলের দাবিতে উপজেলা কৃষক লীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলন, ছবি: প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান মুন্সির খালাত ভাই মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুলকে সভাপতি করে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের কমিটি গঠনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অনতিবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।

বুধবার সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা কৃষক লীগের একাংশ ও আওয়ামী লীগ এবং সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের সাকেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি অরুণ মল্লিক।

সংসাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত বছর কোটালীপাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষক লীগের সম্মেলন করার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সদস্য নন। এমনকি তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিসহ কোন কমিটিতেও ছিলেন না। তিনি অরাজনৈতিক ব্যক্তি। কামরুলের আপন খালাতো ভাই জঙ্গিনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান। তার আপন বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। সম্মেলন না করে অর্থের বিনিময়ে রাতের আঁধারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বিতর্কিত কামরুলকে সভাপতি করে গত ৪ এপ্রিল কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের পকেট কমিটি গঠন করেছেন। এতে কৃষক লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবির, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান হান্নান শেখ, আওয়ামী লীগ নেতা সুমন হোসেন বাচ্চু, কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবলু হাজরা, যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল হাজরা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন তালুকদাসহ আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ১১ ইউনিয়ন ও পৌর কৃষক লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা বর্ধিত সভা করে পরে তারা উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি গঠন করে জেলা কৃষক লীগকে পাঠায়। জেলা কৃষক লীগ ওই কমিটি অনুমোদন করেছে। এখানে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বিশ্বাস কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা কৃষক লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি মুন্সি মাহফুজ হাসনাত কামরুল বলেন, আমার পিতা মুন্সি আবুল কাসেম আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। আমার ভাই মুন্সি এবাদুল ইসলাম উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। আমার বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোনো দিন বিএনপি করেননি। জঙ্গি নেতা হান্নান মুন্সি আমার খালাত ভাই। তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাই তাদের সঙ্গে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

পি

RTV Drama
RTVPLUS