logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

স্ত্রী দরজা খুলে দেখেন ধার নিতে আসা তরুণীকে ধর্ষণ করছে স্বামী

স্বামী×তরুণী×ধর্ষণ×ভিকটিম×মামলা×কিবিরিয়া×ঘটনা×পরীক্ষা×
প্রতিকী ছবি

যশোরের চৌগাছায় টাকা ধার দেবার নাম করে নিজ বাড়িতে ডেকে এক সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে মিজানুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মামলা হয়েছে। মিজানুর রহমান উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষণরত অবস্থায় ধরা পড়ে যাওয়ায় ধর্ষকের স্ত্রী-ভাতিজারা ওই নারীকে বেদম মারপিট করে ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুনঃ পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে কিশোরীকে তুলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ

একইসঙ্গে ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করে তারা। পরে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে মীমাংসার নামে বিচারে ওই নারীকে আবারও মারপিট করে কিছু টাকা হাতে দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই নারী তার বাবার বাড়ি গিয়ে মায়ের সহায়তায় বৃহস্পতিবার চৌগাছা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন : ছেলেকে নিয়েই যাত্রীকে ধর্ষণ করলেন রিকশাচালক বাবা

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত গোলাম কিবরিয়া বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড হয়েছে।

তবে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান জানান ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

মামলার লিখিত অভিযোগে ওই গৃহবধূ বলেন, একই গ্রামে আমাদের বসত বাড়ির পশ্চিম দিকে বিবাদী মিজানুর রহমানের বাড়ি। গেলো ২৪ ফেব্রুয়ানি সকাল অনুমান ৭.৩০ মিনিটে আমি মোবাইল ফোনে সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য ১ হাজার টাকা ধার চাইলে সে কিছুক্ষণ পরে দিবে বলে বলে জানায়। সকাল অনুমান ১০.১৫ মিনিটে মিজানুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য তার বাড়িতে ডাকে। আমি সরল বিশ্বাসে তার বাড়িতে গেলে সে আমাকে ঘরের মধ্যে ডেকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে। অনুমান ১০.৩০ মিনিটে সে আমাকে গ্রামে তার চার রুমবিশিষ্ট দক্ষিণ ভিটার উত্তর দুয়ারী এক তলা পাকা বসত ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষের খাটের ওপর ফেলে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন : মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে চেয়েছিলো নাজমুল

এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে তার স্ত্রী মনিবালা বেগম (৪৫) ও মিজানুরের ভাইয়ের ছেলে তারিফ (২০) এসে ধাক্কা দিয়া দরজা খুলে ঘটনা দেখে ফেলে। এসময় তারা আমাকে দোষারোপ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে এবং পরবর্তীতে লোকজন আসলে তারা আমাকে চুরির অপবাদ দিতে থাকে। আমি লোকলজ্জা ও ভয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি। এ সময় বিবাদী মিজানুর রহমান কৌশলে ওই স্থান হতে পালিয়ে যায়। আমার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এসে বিষয়টি শোনে। বিবাদীরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে। অমার মা ও স্বামী কাজের থেকে বাড়িতে আসলে তাদেরকে ঘটনা বিস্তারিত বলি। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে মাকেসহ থানায় এসে অভিযোগ করতে বিলম্ব হলো।

এদিকে এ ঘটনার পর ওই নারীর স্বামী তাকে আর বাড়িতে উঠতে দেননি। পরে তিনি বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়ে মাকে সঙ্গে করে চৌগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়া বলেন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকে দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জেবি

RTV Drama
RTVPLUS