logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

নড়াইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

  ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:৩২
আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২০, ১৩:১৩

চিংড়ি উৎপাদনে দাম পাচ্ছে না চাষি

Shrimp production,is good but prices are, not available, rtv news
ছবি সংগৃহীত
করোনা উপেক্ষা করে চলতি মৌসুমে ব্যাপকহারে মিঠাপানির গলদা চিংড়ি চাষ হলেও দাম না পেয়ে হতাশ নড়াইলের চিংড়ি উৎপাদনকারী ঘের মালিকেরা।

স্থানীয় ক্রেতাদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে ভালো দামে চিংড়ি বিক্রি করতে না পেরে তারাও লোকসান গুনছেন। মিঠাপানির চিংড়ি উৎপাদনে দেশের পঞ্চম স্থানে থাকা এই জেলা আগামীতে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদন ব্যহত হবার আমঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় খাত চিংড়ি। এ কারণে দিন দিন নড়াইলে গলদা চিংড়ি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। করোনার মধ্যেই জেলার কয়েক হাজার চিংড়ি ঘেরে এ বছর প্রচুর পরিমাণে গলদা চিংড়ির চাষ হয়েছে। মাছের আকার দেখে চাষিরা খুশি হলেও আড়তে দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন তারা।

চাচুড়ী এলাকার  ঘের মালিক তৌরুত  মোল্যা বলেন, ‘গেলো বছর যে চিংড়ি বিক্রি করেছি ১৫শ’ টাকা এ বছর তা বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে নয়শ’ টাকায়, কেজি প্রতি প্রায় পাঁচশ টাকা কমে বিক্রি করছি। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে চিংড়ি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই এলাকার আরেক চিংড়ি চাষি খসরুজ্জামান বলেন, করোনার মধ্যে সব কাজ বাদ দিয়ে যে মাছ উৎপাদন করলাম তা  দেখে খুবই ভালো লাগছে, কিন্তু দাম যা পাচ্ছি তাতে কষ্ট হচ্ছে। মাছের খাবার, কৃষাণ সবকিছুর দাম বাড়তি। কেন চিংড়ির দাম পড়ে গেল তা বুঝতে পারলাম না।

জেলার বাশগ্রাম, চাচুড়ী, মির্জাপুর, তুলারামপুর, মাইজপাড়াসহ বিভিন্ন আড়তে প্রতিদিন মণকে মণ চিংড়ি আসলেও মাছ কিনে লোকসান গুণছেন ব্যাপারীরা। আড়তগুলোতে প্রতিদিন শত শত  মণ মাছ  কেনাবেচা হলেও ব্যাপারীরা হতাশ।

এ বছর মাছের ফলন বেশি হওয়ায় নতুন করে কয়েকটি এলাকায় আড়ত বসেছে। বাঁশগ্রাম বাজারে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি আড়তে গড়ে দৈনিক ৩০-৪০ মণ মাছ আসছে। এসপি নামের মৎস্য আড়তের মালিক তরুণ উদ্যোক্তা শফিউল আজম পাশা বলেন, এলাকায় গলদা চিংড়ির ফলন বেশি হয়েছে, তবে এ বছর কোম্পানিগুলোর কারণে চিংড়ি চাষি কিম্বা ব্যাপারী কেউই লাভবান হচ্ছে না।

স্থানীয় বাঁশগ্রামের মাছ ক্রেতা শরীফুল ইসলাম বলেন, আমরা এখান থেকে মাছ কিনে তা খুলনা আর চট্টগ্রাম পাঠাই। সেখান থেকে কোম্পনির লোকরা যে দাম দেয় তাই নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে কম দামে মাছ কিনেও তাতে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সরজন নামের আরেক ব্যাপারী বলেন, গেলো কয় মাসে আমি ৫০ মণ মাছ কিনে চট্টগ্রামে পাছাইছি। এ পর্যন্ত আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। সিন্ডিকেট করে একটি মাত্র কোম্পানি মাছ কিনছে। তারা  যে দাম দেয় তাই নিতে হয় বাধ্য। এ বছর মাছে প্রচুর লোকসান হচ্ছে।

জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে, গেলো ২০১৯ মৌসুমে জেলায় মোট দুই হাজার ৩২৭ হেক্টর এলাকায় গলদা চাষ হয়েছে। পাঁচ হাজার ৩৯১টি ঘেরে দুই হাজার ৬৯০ মেট্রিক টন গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। যার সবই রপ্তানিতে চলে গেছে। চলতি  মৌসুমে গলদা চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ গেলো বছরের  চেয়ে বেশি হবে। প্রায় পাঁচ হাজার চাষি আর শ্রমিক মিলে প্রায় ৩০ হাজার লোক চিংড়ি চাষের এই জীবিকার সঙ্গে জড়িত।

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.ফারুকুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে বলেন, করোনায় সরকারি সহজ ঋণের কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে। চিংড়িতে ইউরোপের বাজার খোলা থাকলেও কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করেছে। জেলায় সরাসরি রপ্তানিকারকের মাধ্যমে মাছ ক্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা দাম পাচ্ছে না।

প্রান্তিক পর্যায়ে বাজার ব্যবস্থা উন্নত করে সরাসরি রপ্তানিকারকের কাছে মাছ বিক্রি করতে পারলে রূপালী সোনা নামে খ্যাত এই রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেবি

RTVPLUS