logo
  • ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

চলনবিলে শামুক নিধন: হুমকিতে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

Snail sack
শামুকের বস্তা
সৃষ্টির অপার রহস্য পানি দূষণরোধে প্রাকৃতিক ছাকনি হিসেবে কাজ করে শামুক। আর সেই শামুক নিধনের মহা উৎসব চলছে পাবনা ও নাটোরের বৃহত্তর চলনবিলসহ ১৫টি বিলে।

এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী পরিবেশ বিপন্ন করে শামুক কিনে বিক্রি করে ফায়দা লুটছে। পাবনা থেকে প্রতিদিন ৩০০ টন শামুক ট্রাক-যোগে চলে যাচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায়।

এসব শামুক মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে গলদা চিংড়ির জন্য উপযুক্ত খাবার শামুক। 

পরিবেশবিদরা বলছেন, এই জলজ প্রাণী নির্বিচারে নিধনের ফলে হুমকিতে পড়ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং কমে যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তিও। শামুক রক্ষার দাবি পরিবেশবিদদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনার চলনবিলের অন্যতম বড় একটি বিল খলিশাগাড়ি বিল, চাটমোহরের বিল কুড়ালিয়া, হান্ডিয়াল বিল, ভাঙ্গুড়ার আফরার বিল, নলডাঙ্গা বিল, ফরিদপুর উপজেলার বড় বিল, ডিকশীর বিল, বগা বিল ও সুজানগর উপজেলার ডিকশীর বিল, বগা বিল, সুজানগরে বিল গাজনা, সাঁথিয়ার ঘুঘুদহ বিলসহ ১৫টি স্থানে চলছে শামুক নিধন।

বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে চার থেকে পাঁচ মাস চলে এই শামুক নিধন। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজের লাভের জন্য অভাবী কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে ডিঙি নৌকা ও জাল কিনে দিয়ে একাজে ব্যস্ত রাখে। একজন শামুক সংগ্রহকারী প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ বস্তা শামুক সংগ্রহ করেন। প্রতিবস্তা শামুক বিক্রি হয় ৩৫০টাকা থেকে ৪০০টাকা। এসব শামুক ট্রাকযোগে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে।

চলনবিলে শামুক সংগ্রহকারী আয়েজ উদ্দিন, মিজান, আবজাল, পচা, কুটিশ্বর, সুবোধ আরটিভি নিউজকে জানান, বর্ষা শুরু পর থেকে বিলে পানি থাকা পর্যন্ত তাদের কোনো কৃষি কাজ না থাকায় বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করেই সংসার চালান। দিনে তাদের হাজার টাকার মতো মজুরি থাকে। পরিবেশ বুঝি না পেটের দায়ে শামুক বেচি।

শামুক নিধন নিয়ে কথা বলতেই পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তোজাম্মেল হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, সৃষ্টির রহস্য বোঝা কঠিন। সৃষ্টিকর্তা পানির দূষণরোধে শামুককে ব্যবহার করছেন। জলজ প্রাণী শামুক নিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষি জমির উর্বরতা। এমন পরিস্থিতিতে শামুক নিধন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তাদের।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন মণ্ডল আরটিভি নিউজকে বলেন, বন্যপ্রাণী নিধনে শাস্তির কথা বলা হলেও শামুক নিধনে সুনির্দিষ্ট করে শাস্তির কথা উল্লেখ নেই। ফলে শামুক নিধন বন্ধে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বললে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।

এখনই শামুক নিধন বন্ধ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা না গেলে আগামীতে বিলাঞ্চল থেকে শামুকের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। এমন আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা।

জিএম/জিএ  

RTVPLUS